লাইফ স্টাইল সারাদেশ

বিবিআনা-রঙউৎসবের নানা রঙে

Bibiana-bg20130805230043হটনিউজ২৪বিডি.কম ,ঢাকা: ফ্যাশন হাউস রঙ যেকোনো পোশাক তৈরির আগে সববয়সী ক্রেতার কথা চিন্তা করে। ছোটদের জন্য যেমন রঙের ব্যবহার, ডিজাইনে বৈচিত্র্য থাকে, তেমন বয়স্কদের জন্যও থাকে নির্দিষ্ট কালার, ডিজাইন। টোটাল ফ্যামিলি প্যাকেজ থাকে রঙে। গহনা, গৃহস্থালি পণ্যও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে রাখা হয়। কারণ মানুষ এখন সব একসঙ্গে পেতে চায়।

কথাগুলো হটনিউজকে বলছিলেন দেশের অন্যতম ফ্যাশন হাউস রঙের মিডিয়া সেকশনের দায়িত্বে থাকা আশরাফুল হায়দার। বাংলানিউজের কথা শুনে নিজেই পুরো হাউস ঘুরেফিরে দেখালেন, জানালেন তিনি।

রঙের নামের সঙ্গে বেশ মিল আছে সব পোশাক-গৃহস্থালি পণ্যে। আর জমকালো রং ছাড়া কি ঈদের পোশাক জমে! পোশাকে ডিজাইনের পাশাপাশি কালার কম্বিনেশনে সব সময় ভিন্নতা থাকে রঙে। কিছু পোশাকে আবার অ্যাপ্লিকের কাজ ভিন্নতা আনে।

আশরাফুল হায়দার বলেন, পোশাকে কালার কম্বিনেশনে ভিন্নতা আনার চেষ্টা করেছি এবার। আর গরমের মধ্যে ফেব্রিকস ও কটনের তৈরি পোশাকের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

শাড়ির ক্ষেত্রে মসলিন ১৫-২০ হাজার, কাতান ২-১০ হাজার এবং তাঁতের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ৮৫০-৫০০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া রঙের নিজস্ব ডিজাইনের এক্সক্লুসিভ শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ১২৫০-২৫০০০ হাজার টাকার মধ্যে। কাপড়ে করা হয়েছে টাইডাই, কারচুপি, মেশিন অ্যাম্ব্রয়ডারি ও হাতের কাজ।
rong
চাহিদা বেশি থাকায় লং কামিজ রাখা হয়েছে বেশি। দাম আড়াই হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকার মধ্যে। এছাড়া ফতুয়া ৫৫০-১০৫০, কুর্তি ৬০০-১৫০০ ও আনস্টিস থ্রিপিছ পাওয়া যাচ্ছে ১২৫০-৬০০০ টাকার মধ্যে।

বয়স্কদের জন্য রঙের আলাদা আয়োজন থাকায় একশ্রেণীর ক্রেতার প্রথম পছন্দ রঙ। রামপুরা থেকে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আসা ষাটোর্ধ্ব জামিল সরদার বলেন, সাদা-কালোর সঙ্গে হালকা রঙের কম্বিনেশনের পোশাক এখানেই শুধু পাওয়া যায়। তাই প্রতিবছরের মতো এবারও এসেছি।

ছেলেদের পাঞ্জাবির অনেকগুলো কালেকশন এসেছে এবার রঙে। শর্ট, লং দুই ধরনের পাঞ্জাবিই রয়েছে। দাম ১১০০-৫০০০ টাকা। এছাড়া ফতুয়া ৫০০-২০০০, শার্ট ৫০০-১০০০ এবং টি-শার্ট পাবেন ৩৫০-১১০০ টাকার মধ্যে।

শিশুদের জন্যও রয়েছে সবধরনের পোশাক। দামও হাতের নাগালে।

পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং করে যেন জুতা, গহনা পরতে পারেন, সেজন্য বিশেষ আয়োজন রয়েছে রঙে। জুতার ক্ষেত্রে দেশীয় উপকরণ নারিকেলের মালা, চট, পুঁতি প্রভৃতি ব্যবহার করা হয়েছে।

গহনা সেকশনে গিয়ে দেখা গেলো এক তরুণী কানে, গলায় নানা গহনা ধরে আয়নায় নিজেকে দেখার চেষ্টা করছেন কোনটা মানায়। পোশাক কেনা শেষ, এখন গহনা চাই। ক্যান্টনমেন্ট থেকে আসা সাজিয়া নামের ওই তরুণী বলেন, ম্যাচিং না করলে মনে হয় কোথায় যেন একটু অপূর্ণতা রয়ে গেছে। ম্যাচিং করে পছন্দের সব কেনা যায় বলেই রঙে আসি।

কানের দুল, গলার মালা, চুড়ি, খাড়ু, পায়েল, বাজু, খোঁপার কাঁটা, লেডিস বেল্ট, ব্যাগ, মোবাইল ব্যাগ সবই পাবেন এখানে। দামও খুব বেশি নয়। ২০ টাকা থেকে ১১০০ টাকার মধ্যে।Rong

মিরপুর থেকে আসা দুই বোন তাজিন ও নাহিন এসেছেন ঈদের কেনাকাটা শেষ করতে। জানালেন, রঙ অনেক কালারফুল পোশাক তৈরি করে। তাই এখানে এসেছি। আজই সব কেনাকাটা শেষ।

সব কিনে যাওয়ার পথে ঘর সাজানোর নানা উপকরণ ছাড়া ঈদের গিফট হিসেবে দিতে নানা ধরনের পণ্যও রয়েছে রঙে।

বনানী ১১ নম্বর রোডের রঙের এ আউটলেটের দেয়াল ঘেঁষেই আরেক ফ্যাশন হাউস বিবিআনা। এবার ঢুঁ মারলাম সেখানে। এক সময় একটি অনলাইন পত্রিকায় কাজ করা ম্যানেজার নাসরিন হটনিউজের কথা বলতেই বেশ খুশি হলেন। বললেন, কম্পিউটারে ইন্টারনেট ওপেন করলে প্রথমেই বাংলানিউজ চলে আসে আমার। নিয়মিত দেখি।

তিনি জানান, এবার লাল-কালো কম্বিনেশনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। হাতের কাজ ও অ্যাপ্লিকের কাজের জন্যই ক্রেতারা বিবিআনায় আসেন। আর দামটাও রিজনেবল।

এখানে সালোয়ার কামিজ পাবেন ২২৫০-৩২৫০ টাকার মধ্যে। মেয়েদের ফতুয়া ও পঞ্জাবির দামও আয়ত্তের মধ্যে।

ব্যাংক অফিসার রোখসানা জানান, হাতের কাজ, সুতার কাজ এরা খুবই নিখুঁত করে। কোয়ালিটিও ভালো। আর দামও রিজনেবল। তাই এখানে এসেছি।

ছেলেদের পাঞ্জাবি বেশ সস্তাই বলা যায়। পাবেন ৫৮০-২১০০ টাকার মধ্যে। ফতুয়া ৫০০-১২০০ টাকার মধ্যে পাবেন।

বিবিয়ানায় শাড়ি পাবেন ৬০০০ টাকার মধ্যে। সুতি শাড়ি ৪৫০- ১২০০ এবং অ্যাপ্লিক, সিল্ক, কোটা প্রভৃতি পাবেন ৬০০০ হাজার টাকার মধ্যে।

এছাড়া বেশ সুন্দর ডিজাইনের বেড কাভার পাবেন ১১০০-২৫০০ টাকার মধ্যে।

গুলশান থেকে আসা রাকিবা বলেন, পোশাক মোটামুটি ভালো। কিছু ডিজাইনে ভিন্নতা আছে। তবে কালেকশন কম। আরও বেশি থাকলে পছন্দ করতে সুবিধা হয়।