আন্তর্জাতিক ঢাকা

কনস্যুলেটের সেবা নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটিতেও মিলবে

consul-sm20130805213035স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজ২৪বিডি.কম:নিউইয়র্ক: অব্যাহত চাপ ও চাহিদার মুখে নিউইয়র্কে কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ের সেবা আরও সহসলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত কার্যক্রমের বাইরেও এখন থেকে প্রতিমাসে একটি শনিবার অফিসের বাইরে থেকে সেবা দেবে কনস্যুলেট। আর এই সেবা দেওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আমব্রেলা সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যালয়ে। সোমবার নগরীর এলমার্স্টে বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম এই ঘোষণা দিয়ে বলেন, অনেকেরই অভিযোগ অফিস খোলার দিনগুলোতে তাদের পক্ষে ম্যানহাটনে পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না। আর এ কারণেই এ উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই সেবাটি দিতে রাজি হওয়ার পরেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে, বলেন মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এতে কনস্যুলেটের কর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে ঠিকই তবে কমিউনিটির সেবার এই চাপটুকু নিতে আমরা প্রস্তুত।

নিজেও শনিবারগুলোতে বাংলাদেশ সোসাইটির ক্যাম্প অফিসে উপস্থিত থেকে এই সেবা দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সেবাটিকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসতে চাই। প্রথমে প্রতি মাসের দ্বিতীয় শনিবারে বাংলাদেশ সোসাইটির অফিসে বসবেন কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা। পরে কাজের চাপ এবং চাহিদা বুঝে সেবা দুটি শনিবারে এবং প্রয়োজনে মাসের চারটি শনিবারেই চালু করা হবে বলে জানান তিনি।

মনিরুল ইসলাম বলেন, আগে থেকেই একই ধরনের সেবা দিয়ে আসছে কনস্যুলেট জেনারেল। তবে তা নিউইয়র্কের বাইরে কানেটিকাট বা নিউজার্সিসহ অন্যত্র। এই প্রথম নিউইয়র্কের ভিতরেই আলাদা একটি ক্যাম্প বসিয়ে সেবা কার্যক্রম চালু হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রয়োজন মেটাতেই এই উদ্যোগ। বাংলাদেশ সোসাইটি কার্যালয়কেই এই কার্যক্রম পরিচালনার সবচেয়ে উপযোগী স্থান বলে কনস্যুলেট মনে করছে।

নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা এবং জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার দুটি কাজ ছাড়া কনস্যুলেট জেনারেল থেকে যতগুলো সেবা দেওয়া হয় তার সবগুলোই এই ক্যাম্প অফিস থেকে দেওয়া সম্ভব হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এসময় মনিরুল ইসলাম পুরোনো হাতে লেখা পাসপোর্ট যাদের রয়েছে তাদের আগামী ১৫ মার্চ ২০১৫ তারিখের শেষ সময়সীমার আগেই তার পরিবর্তন করে এমআরপি গ্রহণের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ওই দিনের পর কোনো বাংলাদেশির হাতে লেখা পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। তবে শেষ মূহূর্তের অপেক্ষায় না থেকে এখনি এ জন্য আবেদন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশের জন্য ভিসা আবেদন, নো-ভিসা রিকোয়ার্ড এর সনদ, সত্যায়িতকরণ, পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন, সংশোধন, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, অবসরপ্রাপ্তদের জন্য এলিভ সার্টিফিকেট, মিডিয়া অ্যাক্রেডিটেশনসহ সব ধরনের সেবার জন্যই এখন থেকে ম্যানহাটন ছাড়াও এলমার্স্ট থেকে সেবা দেবে কনস্যুলেট জেনারেল অফিস।
বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমদ এসময় এমন একটি কার্যক্রম পরিচালনায় বাংলাদেশ সোসাইটিকে বেছে নেওয়ায় কনসাল জেনারেলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি সকল প্রবাসীকে সুশৃংখলতার সঙ্গে এই সেবা গ্রহণেরও পরামর্শ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম হাওলাদার সোসাইটির বর্তমান কমিটির মেয়াদকালে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। এরমধ্যে রয়েছে সোসাইটির পক্ষে প্রবাসীদের আইনি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ, ইমিগ্রেশন সংশোধন বিল পাশের পক্ষে জনমত গঠন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কমিউনিটির সেতুবন্ধন তৈরির লক্ষ্যে মতবিনিময়, সোসাইটি কার্যালয়ে বাংলাস্কুলের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, প্রবাসে মৃতদের জন্য কবরস্থান সেবা, দেশে ঘুর্ণিঝড়, ভবনধসসহ বিভিন্ন বিপর্যয়ে সহযোগিতা পাঠানো, বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় দিবসে কর্মসূচির আয়োজন ছাড়াও কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচির খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি।

কামাল আহমেদ জানান, আগামী দিনগুলোতেও রয়েছে সোসাইটির বিভিন্ন ধরনের সাংগঠনিক কর্মসূচি, প্রবাসে সকল সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করে তার ভিত্তিতে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মাইনুল ইসলাম মিয়া কনস্যুলেটের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এমন মহতী উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশ সোসাইটি সম্পৃক্ত হতে পেরে নিজেকে গর্বিত বোধ করছে।
এসময় সাংবাদিকরা কনস্যুলেট জেনারেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে সেবা নিতে গিয়ে কমিউনিটির অনেকেই বিভিন্ন সময়ে হেনস্ত হওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলেন।

জবাবে কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে কনস্যুলেটে এমন কোনো ঘটনা নেই। এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। তবে সঠিক সেবা পেতে হলে কমিউনিটির পক্ষ থেকে কনস্যুলেটকেও সহযোগিতা করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এসময় ইফতারের আগে দোয়া পরিচালনা করেন সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজউদ্দিন আহমেদ সোহাগ। সোসাইটির কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং কনস্যুলেট জেনারেল অব বাংলাদেশের অন্যান্য কর্মকর্তা এসময় উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে করণীয় দিকগুলো ব্যাখা করেন। তারা সর্বোতভাবে কমিউনিটিকে তাদের সেবা দেওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।