অপরাধ ঢাকা

সতিন ও তার কন্যা হত্যার দায়ে এক মহিলার ফাঁসি

fashiআদালত প্রতিবেদক:সতিনসহ তার ছয় বছরের শিশুকে হত্যা দায়ে এক মহিলাকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার অপর আসামি নওশাদ ফকিরকে সাত বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। তিনি পলাতক রয়েছেন। গতকাল ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক এ বি এম নিজামুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি হলেন গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি থানার ফলসি গ্রামের নওশাদ ফকিরের স্ত্রী খোদেজা বেগম। ট্রাইব্যুনাল রায়ের আদেশে বলা হয়েছে, আসামির মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে দ- কার্যকর করতে হবে। তবে দ- কার্যকর করার আগে হাইকোর্টেও অনুমোদন নিতে হবে। এ জন্য ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারিকে রায় ও আদেশসহ মামলার নথি মৃত্যুদ- অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে পাঠাতে নির্দেশ দেন। ট্রাইব্যুনাল আদেশে আরও বলা হয়েছে, আসামি ইচ্ছে করলে এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। রায় শেষে আসামিকে মৃত্যু পরোয়ানা ইস্যু কওে কারাগাওে পাঠানোরও নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৩১ জানুয়ারি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি থানার ফলশি গ্রামে এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। আসামি খোদেজা বেগম তার সতিন তাসলিমা ও তার শিশু কন্যা সাদিয়াকে হত্যা করে। পারিবারিক ঝগড়াঝাটি ও ইর্ষান্বিত হয়ে সতিন ও তার সন্তানকে হত্যা কওে লাশ ঘরের মেঝে মাটিতে পুতে রাখে খোদেজা। স্বামী লাশ গোপন করায় সহযোগিতা করেন। রায় ঘোষনার আগে আসামি খোদেজাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আদেশে বলা হয়, তাসলিমা ও তার শিশুকে খুনের অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদ-ে দ-িত করা হলো। এ ছাড়া নওশাদ ফকির নামের আরেক আসামিকে সাত বছরের কারাদ- দেয় আদালত। আসামি নওশাদ পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১ জুলাই খোদেজা ও নওশাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। খোদেজা তার সতীন ও তার শিশু কন্যাকে হত্যা করার পর ঘরের মধ্যে লাশ পুতে রাখে। হত্যার তথ্য গোপনের জন্য খোদেজার স্বামী নওশাদ থানায় একটি জিডি করেন। তার বড় স্ত্রী ও তার কন্যা হারিয়ে গেছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়। পরে পুলিশ তদন্ত করে হত্যার মূল রহস্য উন্মোচন করে। এ মামলায় ১৫ জন সাক্ষি সাক্ষ্য দেন।