চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম জাতীয় প্রধান খবর রাজনীতি সারাদেশ

বাংলাদেশ এ অঞ্চলে একটি আদর্শ দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে -প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

চট্টগ্রাম, ২৪ ডিসেম্বরঃ চট্টগ্রামের বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে আজ রবিবার (২৪-১২-২০১৭) মিডশীপম্যান ২০১৫ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার (ডিইও) ২০১৭-বি ব্যাচের ১০৪ জন নবীন নৌ কর্মকর্তার শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ এ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। এসময় তিনি নবীন কর্মকর্তাদের সমুদ্রসীমার স্বার্বভৌমত্ব রক্ষায় ত্রিমাত্রিক সক্ষমতাকে যথার্থভাবে কাজে লাগানোর আহবান জানান। পরে,তিনি কর্ণফুলী নদীতে নোঙ্গর করে রাখা বাংলাদেশে নির্মিত নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজসমূহের প্রদর্শনী অবলোকন করেন।

শীতকালীন এ কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে ২১ জন মহিলা কর্মকর্তাসহ মোট ১০৪ জন কর্মকর্তা নৌবাহিনীতে কমিশন লাভ করলেন। এদের মধ্যে মিডশীপম্যান ২০১৫ ব্যাচ হতে সোহানুর রহমান, (এক্স), বিএন সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জন করে সেরা চৌকস মিডশীপম্যান হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। এয়াড়া, মিডশীপম্যান সীমান্ত নন্দী আকাশ, (ই), বিএন প্রশিক্ষণে ২য় সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী হিসেবে ‘নৌ প্রধান স্বর্ণ পদক’ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০১৭/বি ব্যাচ হতে এ্যাক্টিং সাব লেফটেন্যান্ট এ জেড এম নাসিমুল ইসলাম, (এক্স), বিএনভিআর শ্রেষ্ঠ ফলাফল অর্জনকারী হিসেবে ‘বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণ পদক’ লাভ করেন।

কুচকাওয়াজ শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে  স্মরণ করেন। এছাড়া, তিনি জাতীয় চার নেতাসহ স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী সকল বীর নৌসেনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের কথা  স্মরণ করেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের প্রয়োজনে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। সেই মহান প্রত্যয়ের আলোকেই বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর হতেই নৌবাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ এবং বিদ্যমান জাহাজসমূহের অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাস্তবমূখী পরিকল্পনা গ্রহণ করে চলেছে। তিনি বলেন, চলতি বছরে নৌবহরে দু’টি সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ইতিমধ্যে ত্রিমাত্রিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সমুদ্রসীমার স্বার্বভৌমত্ব রক্ষায় এই ত্রিমাত্রিক সক্ষমতাকে যথার্থভাবে কাজে লাগানোর জন্য সকল নৌ সদস্যদের প্রতি আহ¡বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলের সাথে শান্তিপূর্ণ সহবস্থানে বাংলাদেশ এ অঞ্চলে একটি আদর্শ দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহের অংশগ্রহণে গত মাসেই কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে ওঙঘঝ গঁষঃরষধঃবৎধষ গধৎরঃরসব ঝবধৎপয ধহফ জবংপঁব ঊীবৎপরংব ২০১৭ (ওগগঝঅজঊঢ-২০১৭) এর মতো বৃহৎ ও আন্তর্জাতিক সমুদ্র মহড়া। এতে ২১টি দেশের নৌবাহিনী প্রধান/উধর্¡তন নৌ প্রতিনিধি, যুদ্ধ জাহাজ ও এয়ারক্রাফট অংশ নেয়। প্রথমবারের মতো এ মহড়ার সফল আয়োজন আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করেছে।

 প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রমাগত সম্পদ আহরণের ফলে বিশে¡র স্থলভাগের সম্পদ সীমিত হয়ে আসায় সারা বিশে¡র নজর এখন সমুদ্র সম্পদের দিকে। বর্তমান সরকার ইষঁব ঊপড়হড়সু বা সমুদ্র অর্থনীতির মাধ্যমে সমুদ্র সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কার্যপরিধি এখন অনেক বেড়ে গেছে। এ সকল দায়িত্ব পালনে তিনি নৌসদস্যদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ সেবার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহবান জানান।

তিনি বলেন, দেশের জলসীমায় নজরদারী বাড়াতে আরো দু’টি মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট ও দু’টি হেলিকপ্টার ক্রয়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে পটুয়াখালীর রাবনাবাদ এলাকায় এভিয়েশন সুবিধা সম্বলিত নৌবাহিনীর সর্ববৃহৎ নৌঘাঁটি ও ঢাকার খিলক্ষেতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নৌ ঘাঁটি নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া সাবমেরিনের সুষ্ঠু পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও জেটি সুবিধা প্রদানের জন্য কুতুবদিয়াস্থ পেকুয়ায় একটি সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

 

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম নৌ ঘাঁটিতে এসে পৌঁছালে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ (ঘরুধস ঁফফরহ অযসবফ) এবং চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল এম আবু আশরাফ (গ অনঁ অংযৎধভ) তাঁকে স্বাগত জানান। এছাড়া কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে মন্ত্রীপরিষদের সদস্য, সেনা ও বিমান বাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।