অপরাধ ঢাকা

জেসমিনের আবারও জামিন

download (4) আদালত প্রতিবেদক:দুর্নীতির ১১ মামলায় হল-মার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামকে আবারও জামিন দিয়েছে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জহুরুল হক। এবার প্রতি মাসে ১০০ কোটি টাকা দেয়ার শর্তসাপেক্ষে জামিনের এই আদেশ দেয়া হয়। জামিন আদেশে বলা হয়, প্রত্যেক মাসে সরকারী কোশাগারে একশ কোটি টাকা জমা দেয়ার শর্তে আসামি জেসমিন ইসলামকে জামিন দেয়া যেতে পারে। তবে যদি আসামি টাকা জমা দিতে ব্যর্থ হয় তবে তার জামিন বাতিল হবে। আরও উল্লেখ করা হয়, জেসমিনের পাসপোর্ট আদালতে জমা দেয়ার শর্তে এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও স্থানীয় একজনের জিম্মায় তার জামিন দেয়া হলো।

জামিন শুনানীতে আসামি পক্ষের আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হীরু আদালতকে বলেন, ‘আসামি হলমার্কের চেয়ারম্যান। তার স্বামী তানভীর আহমেদ চেয়ারম্যানের পক্ষে সব কিছু করতেন। সোনালী ব্যাংক থেকে বৈধ উপায়ে ঋন নেওয়া হয়েছে। ঋণের টাকা আসামি পরিশোধ করবেন।’ এছাড়া আসামি গুরুত অসুস্থ। তার স্বামী তানভীরও জেলহাজতে আছে। আসামি এত অসুস্থ যে তিনি যে কোনও সময় মারা যেতে পারেন।

এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারিও জেসমিন ইসলামকে জামিন দিয়েছিলেন একই আদালত। কিন্তু এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে গত ১০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট করা হলে ১১ ফেব্রুয়ারি জেসমিন ইসলামের জামিন কেন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুর্নীতির ১১ মামলার জামিনের নথিপত্রও তলব করা হয়। পাশাপাশি জেসমিন ইসলাম যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এছাড়া ১৮ ফেব্রুয়ারি জজ জহুরুল হককে এবং ওই আদালতের প্রসিকিউটরকে হাইকোর্টে হাজির হতে নির্দেশ দেন জামিনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য। এরপরে জজ জহুরুল হক জেসমিন ইসলামের জামিন আদেশ বাতিল করেছিলেন।

এব্যাপারে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, এটি একটি আলোচিত মামলা। এই মামলার আসামিরা রাষ্ট্রের ২৬শ কোটি টাকা আত্মসাত করেছে। মামলার তদন্ত চলছে।

গত বছরের ৭ নভেম্বর হলমার্কের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামকে মানিকগঞ্জ থেকে আটক করে র‌্যাব। পরে জেসমিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়ার অনুপতি পায় দুদক। হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় জেসমিনের স্বামী হলমার্কের এমডি তানভীর, তার বোনের জামাই তুষার আহমেদ, সোনালী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপক (বরখাস্ত) একে এম আজিজুর রহমান, সোনালী ব্যাংকের জিএম মীর মহিদুর রহমান, দুই ডিজিএম শেখ আলতাফ হোসেন ও শফিজ উদ্দিন আহমেদ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। গত বছরের ৪ অক্টোবর হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হুমায়ুন কবিরকে আসামি করে মোট ২৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে হলমার্কের সাতজন এবং সোনালী ব্যাংকের ২০ জন কর্মকর্তা রয়েছেন।