অর্থ ও বাণিজ্য ঢাকা

ভাঙ্গায় হাট-বাজারে নতুন পাটের ব্যাপক আমদানী

patপ্রদীপ কুমার সরকার, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: উপজেলার হাট বাজারগুলোতে নতুন পাটের ব্যাপক আমদানী শুরু হয়েছে। কিন্তু আমদানী অনুপাতে ক্রেতা না থাকায় অত্যন্ত কম দামে পাট বিক্রি করছে কৃষকরা। আমদানী হওয়ার সাথে সাথে মণ প্রতি ২/৩ শত টাকা কমে গেছে। এ সুযোগে মধ্যস্বত্বব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারা যোগসাজসে অত্যন্ত কম দামে পাট করে করে গুদামে মজুদ করছে। আর অত্যন্ত কম দামে পাট বিক্রি করে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। উপজেলার বেশির ভাগ গ্রামের কৃষকরাই হচ্ছে দরিদ্র- যারা দাদনের টাকা নিয়ে পাট চাষ করেছেন এবং বেশীর ভাগ কৃষকই হচ্ছে বর্গা চাষী। এতে দেখা যায় ন্যায্য মূল্য না পেয়ে তাদের কষ্টার্জিত মূল্য টাকাও ফেরৎ পাচ্ছে না। উপজেলার বেশীর ভাগ হাটবাজারে পাট খরিদ কার্যক্রম শুরু না করায় বাজার দর কমে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অপরদিকে বেসরকারী ভাবে শিপার্স ও বেলাররা এখনও পাট খরিদ কেন্দ্র চালু করেননি। এ সুযোগ নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও ফরিয়ারা। সরকারী এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, দেশে প্রায় ৬০ লক্ষ বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিগত বছরের ১০ লক্ষ বেল পাট ক্যারিওভার রয়েছে বলে পরিসংখ্যানে প্রকাশ। সরকারী পাট ক্রয় সংস্থা বাংলাদেশ জুট মিলস্ কর্পোরেশন (বিজেএমসি) তাদের ২৩টি পাটকলের জন্য ১০ লক্ষ থেকে ১২ লক্ষ বেল পাট ক্রয় করার পরিকল্পনা করছে বলে প্রকাশ। অপরদিকে বেসরকারী পাটকল এবং টুআইনমিলগুলো ১৫ লক্ষ বেল পাট খরিদ করার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। সরকারী পাট ক্রয় সংস্থা বিজেএমসির মাধ্যমে চলতি মৌসুমে তাদের মিলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১১৫টি পাট ক্রয় কেন্দ্র চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারী ও বেসরকারী কেন্দ্রের কোন কার্যক্রমই চালু না করায় পাটের বাজার রয়েছে ক্রেতা শূন্য। এজন্য বিপাকে পড়েছে এলাকার কৃষকরা। সরেজমিন উপজেলার অন্যতম হাট মালীগ্রাম ও চুমুরদী হাটে গিয়ে দেখা যায় মণ প্রতি পাট বিক্রি হচ্ছে ১২/১৩শত টাকায়। এতে গত এক সপ্তাহে পাটের মূল্য অনেক কমে গেছে বলে জানা গেছে। ঈদের কেনাকাটা এবং দাদনের টাকার দায় থেকে মুৃক্তি পেতে কৃষকরা পাট বিক্রি করছে বলে তারা জানান। উপজেলার চৌকিঘাটা গ্রামের জনৈক পাট চাষী সিরাজ মিয়া এসেছেন পাট বিক্রি করতে। তিনি জানান, “১২শ টাহায় পাট বেসছি। এহন আমার খরচার টাহাও উঠে নাই। এহন আমি কি হরমু।” সংশ্লিষ্টরা অভিলম্বে সরকারী ও বেসরকারীভাবে পাট ক্রয় কেন্দ্র চালু করার দাবি জানিয়েছেন।