জাতীয় ঢাকা

বিমানবন্দরের সব ধরনের চার্জ বাড়লো

shahjalal-intl-airport20130803231031 (1)স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজটোয়েন্টিফোরবিডি.কম,ঢাকা: হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সবগুলো বিমানবন্দরের ল্যান্ডিং, পার্কিং ও হাউজিং চার্জসহ সব ধরনের চার্জ বাড়ানো হয়েছে।

উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং চার্জ, পার্কিং ও হাউজিং চার্জ ছাড়াও বোর্ডিং ব্রিজ চার্জ, সিকিউরিটি চার্জ, নেভিগেশন ফ্যাসিলিটিজ চার্জ ও ফ্লাইট নোটামাইজড চার্জ বাড়ানো হয়েছে। এর বাইরে বিদেশগামী সব যাত্রীদের এমবার্কেশন ফি ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পরিচালক (এটিএস অ্যান্ড অ্যারোড্রমস) আজাদ জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক ঘোষণায় বাড়তি এসব চার্জ গত ২৮ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট পরিচালনাকারী সবগুলো এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।

তাদের অভিযোগ, চার্জ বাড়ানোর আগে এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি। বরং বাড়তি ভাড়া আদায়ের সিদ্ধান্তের পর বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (অপারেশন ও পরিকল্পনা) গ্রুপ ক্যাপ্টেন শফিকুল আলম এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (অপারেশন ও পরিকল্পনা) গ্রুপ ক্যাপ্টেন শফিকুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নাম না প্রকাশের শর্তে বিদেশি একটি এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে বছরে তার এয়ারলাইন্সের খরচ দেড় গুণ বেড়ে যাবে। যাত্রীদের কাছ থেকেই এ বাড়তি অর্থ আদায় করতে হবে। এতে করে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত অর্থ খরচের চাপ পড়বে।

তবে বিমানবন্দরের অভিভাবক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বলছে, বিগত ২০ বছরে কোনো ধরনের চার্জ বাড়ানো হয়নি। তাই এ বাড়তি চার্জ অস্বাভাবিক কিছু নয়।

আরেক বিদেশি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা হটনিউজকে বলেন, এতো বছর চার্জ না বাড়ানোর অজুহাতে এক ধাক্কায় ৫০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো সমীচিন হয়নি। বরং নিয়মিত বিরতিতে তা বাড়ালে এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর চাপ পড়তো না।

বিদেশি নামি-দামি এয়ারলাইন্সগুলো যখন বাড়তি চার্জ নিয়ে চিন্তায় পড়ে গিয়েছে, তখন দেশি এয়ারলাইন্সগুলোর অবস্থা আরো করুণ। কারণ, দেশি এয়ারলাইন্সগুলোর অবস্থা এমনিতেই ভালো নয়। এর ওপর এ ধরনের বাড়তি চার্জ তাদের আরো বেকায়দায় ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আগে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর মডেলের ৩৪০ টন ওজনের একটি উড়োজাহাজ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে প্রতি টনে চার্জ দিতে হতো ৮ দশমিক ৫০ সেন্ট। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ ডলার ৭৫ সেন্টে।

একইভাবে বোর্ডিং ব্রিজে এক লাখ কেজির নিচে উড়োজাহাজের চার্জ ১০০ মার্কিন ডলার, এক লাখ থেকে দুই লাখ কেজির মধ্যে ১৫০ ডলার এবং তিন লাখ কেজির ওপরে ২৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুই হাজার কেজির উড়োজাহাজের জন্য রুট নেভিগেশন ফ্লাইট চার্জ ১২ ডলার, দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার কেজি পর্যন্ত ২৪ ডলার, পাঁচ হাজার থেকে ১০ হাজার কেজি পর্যন্ত ৩০ ডলার, ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার কেজি পর্যন্ত ৭৫ ডলার, ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার কেজি পর্যন্ত ১৫০ ডলার, ৫০ হাজার থেকে এক লাখ কেজি পর্যন্ত ৩০০ ডলার, এক লাখ থেকে দুই লাখ কেজি পর্যন্ত ৪২০ ডলার, দুই লাখ কেজির ওপরে ৪৫০ ডলার ধার্য করা হয়েছে। প্রতিটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের নিরাপত্তা চার্জ ২০০ ডলার এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ৩৭৫ টাকা ধরা হয়েছে।