ঢাকা সারাদেশ

সাবেক এমপি হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ দুর্ঘটনায় নিহত

Awranga-edশরীয়তপুর সংবাদদাতা :শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক এমপি বর্তমান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেব (৫৮)সহ ৫জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা বিএনপির একাংশের ইফতার পার্টিতে যোগদিতে আসার পথে ঢাকা-মাওয়া সড়কের মেদেনীমন্ডল খান বাড়ী নামক স্থানে নিজের ব্যবহৃত পারাডো জিপের চাকা ফেটে গিয়ে গাড়ী নিয়ন্ত্রন হারিয়ে গাংচিল পরিবহনের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিত দুর্ঘটনা ঘটে । এ সময় কেন্দ্রীয় স্বেচ্চাসেবক দলের সহ দপ্তর সম্পাদক মুন্সি জামাল উদ্দিন, যুবদল নেতা ইয়াসিন ও সেচ্ছাবেক দল নেতা নুরুদ্দীন পেদা ও গাড়ীর চালক জালাল মারাযায় বলে জানা যয়। তার সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাধারন সম্পাদক নুরুজ্জামান জামানকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয় হয়। আওরঙ্গ এক সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন। হেমায়েত উল্যাহ আওরঙ্গজেব ১৯৯১ সালে আওয়ামীলীগের মনোনয়নে শরীয়তপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলে আওয়ামীলীগ থেকে অবাঞ্চিত হয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনে পুনরায় শরীয়তপুর-১ আসন থেকে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে আওরঙ্গ বিএনপিতে যোগদান করেন। ২০০৮ সালের সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-৩ নির্বাচনী এলাকা থেকে আওয়ামীলীগের জাতীয় নেতা মরহুম আব্দুর রাজ্জাকের সাথে বিএনপির টিকেটে নির্বাচন করেছেন। ২০১১ সালে আওরঙ্গ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হন।

এমপি আওরঙ্গজেবের মৃত্যুতে গভীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নিবার্হ কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নিবাহী, কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট জামাল শরীফ হিরু, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সরদার একে এম নাসির উদ্দিন কালু, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক শাহ মোঃ আব্দুস সালাম সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সিরাজুর হক মোল্যা, জেলা বিএনপির সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান খান দিপু, সাংবাদিক আবুল হোসেন, শরীয়তপুর জেলা যুবদল আহবায়ক আঃ জব্বার খান, যুগ্ন আহবায়ক ইজাজুল ইসলাম মামুন, নজরুল ইসলাম লিটন মুন্সি, ডামুড্যা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফজলুল করীম মিয়াসহ বিএনপি ও অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শরীয়তপুরে কর্মরত সাংবাদিক বৃন্দ। মরহুম কেএম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেব এক পুত্র সন্তান, স্ত্রী ৩ ভাই ও ৩ বোন সহ বহু গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

১৯৫৫ সালে হেমায়েত উল্যাহ আওরঙ্গ ডামুড্যা উপজেলার দক্ষিন ডামুড্যা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তার বাবার নাম ছিল আলহাজ্ব হাবিব উল্যাহ খান। মৃত্যুকালে হেমায়েত উল্যাহ আওরঙ্গ স্ত্রী, ১ পুত্র সন্তানা, ৩ ভাই, ৩ বোন সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। হেমায়েত উল্যাহর আওরঙ্গ এর মৃত্যুতে শরীয়তপুরে বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে আতœীয় স্বজনেরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। ।

শরীয়তপুর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ৭ দিন ব্যাপী শোক কর্মসূচী ঘোষনা করেছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাচ ধারন ও মিলাদ মাহফিল।

ছবির ক্যাপশনঃ শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক এমপি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কেএম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেব এর ।