জাতীয় ঢাকা রাজনীতি

দুর্ঘটনায় নিহত আওরঙ্গ

Awranga-edমুন্সীগঞ্জ/শরীয়তপুর প্রতিনিধি ,হটনিউজ টোয়েন্টিফোর বিডি.কম:মাওয়া মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন শরীয়তপুরের সাবেক সংসদ সদস্য হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ।
শনিবার মুন্সীগঞ্জের মেদেনীমণ্ডলের খানবাড়ি এলাকায় এই দুর্ঘটনায় তার সঙ্গী আরো চারজন নিহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আওরঙ্গ (৫৭) ঢাকা থেকে শরীয়তপুর যাচ্ছিলেন। পথে বিকাল পৌনে ৪টার দিকে একটি বাসের সঙ্গে তার জিপের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।

নিহত পাঁচজনের মধ্যে আওরঙ্গ বাদে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে, তারা হলেন- রতন তালুকদার (৪৪),জামাল মুন্সী (৫০) ও মো. ইয়াছিন (৪৫)। আহত হয়েছেন দুজন। হতাহতরা সবাই আওরঙ্গের গাড়িতে ছিলেন।

লৌহজং থানার ওসি জাকিউর রহমান হটনিউজ টোয়েন্টিফোরবিডি .কমকে বলেন, আওরঙ্গের জিপটির চাকা ফেটে গেলে তা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ডান পাশে চলে যায়। তখন ঢাকামুখী গাংচিল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে এর সংঘর্ষ হয়।

দুর্ঘটনার পর মহাড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রেকার দিয়ে গাড়িটি সরানোর পর যান চলাচল ৫টার দিকে স্বাভাবিক হয়। পুলিশ বাসটি আটক করেছে।

আওরঙ্গ ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে শরীয়তপুর-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দলের মনোনয়ন না পেয়ে ২০০১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন তিনি।

২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপিতে যোগ দিয়ে প্রার্থী হন আওরঙ্গ। তবে এবার তিনি হারেন আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাকের কাছে।

 

এক সময়ের যুবলীগ নেতা আওরঙ্গের নাম ’৮০ এর দশকের পুরোটা সময়ই ছিল আলোচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সব সংঘর্ষের সময় তার নাম উঠে আসত।
তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগে ‘শরীয়তপুর-মাদারীপুর গ্রুপটি’ আওরঙ্গই নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে বলা হয়। সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি নিয়ে ওই সময় আলোচিত-সমালোচিত ছিলেন তিনি।

হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলার আসামি আওরঙ্গ ২০০১ সালে ‘অপারেশন ক্লিনহার্টে’ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তবে কিছুদিনের মধ্যে ছাড়া পান তিনি।

ইদানীং রাজনীতিতে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় ছিলেন আওরঙ্গ। ঢাকার কাঁঠালবাগানের বাড়িতেই বেশিরভাগ সময় থাকতেন তিনি।