কৃষি রংপুর

মরিচ ক্ষেতে ভাইরাস ও মাকড়সার আক্রমন

Kurigram Chili photo-03-08.13ডাঃ জি এম ক্যাপ্টেন, কুড়িগ্রামঃকুড়িগ্রামে মরিচের দাম আকাশ ছোয়া হওয়ায় কৃষকরা লাভের আশা করলেও উৎপাদন কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে। আকস্মিক অনাবৃষ্টিতে মরিচ ক্ষেতে ভাইরাস ও মাকড়সার আক্রমনে মরিচের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে কীটনাশক ব্যবহার করেও কোন ফল পাচ্ছেন না কৃষকরা। বিরুপ আবহাওয়ায় এ বছর মরিচের ফলন ৫ ভাগের ১ ভাগে নেমে এসেছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় এ বছর ৩শ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। প্রথম দিকে ফলন ভালো থাকলেও মরিচের ভাল দাম পায়নি কৃষকরা। রমজানের শুরুতেই হঠাৎ করে মরিচের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা স্বপ্ন দেখে অধিক লাভের। কিন্তু অনাবৃষ্টির কারনে ভাইরাস ও মাকড়সার আক্রমনে মরিচ গাছের পাতা কুকড়ে গেলে উৎপাদন একেবারেই কমে যায়। ফলে বাজারে মরিচের দাম বেশি থাকলেও উৎপাদন ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন এখানকার মরিচ চাষীরা। ফলন না থাকায় কৃষকের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছে এ পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরাও। অন্যান্য মৌসুমে কুড়িগ্রামের মরিচ জেলার চাহিদা পুরন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হলেও এ বছর বাইরে থেকে মরিচ আসছে কুড়িগ্রামে। সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের মরিচ চাষী আজগার আলী জানান, অতি খরা ও কীট নাশক ব্যবহারে কাজ না হওয়ায় মরিচ গাছে ফুল আসা একেবারেই কমে গেছে। মরিচ গাছে ফলন না আসায় বাজারে দাম বেড়ে গেছে বলে জানান তিনি। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঠালবাড়ী ইউনিয়নের কৃষি শ্রমিক আমেনা খাতুন জানান, অন্যান্য বছর মরিচ ক্ষেতে কাজ করেই যাদের সংসার চলতো । এবছর মরিচের ফলন হঠাৎ করে কমে যাওয়ায় প্রতিদিন কাজই চলছে না তাদের। এ অবস্থায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ মজনুর রহমান জানান, মরিচ ক্ষেতে মাইট বা মাকড়সার আক্রমনে ফলন অনেকটাই কমে গেছে। খালি চোখে দেখা যায়না এমন ক্ষুদ্র মাকড়সা পাতার উল্টোদিকে থেকে প্রচুর রস শোষন করে। ফলে মরিচ গাছের পাতা কুকড়ে যায় আর স্বাভাবিকভাবে গাছে ফুল আসতে পারে না। তবে মাকড়সা দমনে প্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ কৃষকদের দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান । দ্রুত মরিচ ক্ষেতে ফলন না আসার কারন নির্নয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে কৃষকদের পাশে দাড়াবে কৃষি বিভাগ। আর এতে করে কৃষকরা পুষিয়ে নিতে পারবে তাদের ক্ষতি এ প্রত্যাশা মরিচ চাষীদের।