খুলনা জাতীয় শিক্ষাঙ্গন

লম্পট শিক্ষক পান্নার অজানা তথ্য ফাঁস

kushtia-teacher-panna-copyকাঞ্চন কুমার,কুষ্টিয়া থেকে:কুষ্টিয়ায় অসংখ্য স্কুল ছাত্রীর সাথে যৌন কেলেংকারীর মূল হোতা লম্পট শিক্ষক হেলাল উদ্দিন পান্নার রঙ্গমহলের অনেক অজানা তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও বীমা কর্মী মনিরুল ইসলাম মনো। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনো পুলিশের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জানান, লম্পট পান্না তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদেরকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে গিয়ে কুষ্টিয়ার সাদা মনের মানুষ বলে পরিচিত নানা সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুল, সজল, দুলালসহ অন্যদের গোপন মুহূর্তের দৃশ্য তাদের অজান্তে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করে রেখে দফায় দফায় ব্লাকমেইলিং করে এবং লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। গত ঈদে পান্না হরিপুরে সবার সামনে তাদের এই ভিডিও সিডি ভেঙে ফেলে জানাই তার কাছে আর এ ধরণের কোন ভিডিও নেই। তারা সবাই পান্নার কথা বিশ্বাস করে। অথচও পান্না যে শেষ পর্যন্ত তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদেরকে এভাবে ফাঁসিয়ে দেবে তা তারা ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেনি। বৃহস্পতিবার গ্রেফতারের পর রাতভর মনোকে গোয়েন্দা পুলিশ নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। গোয়েন্দা পুলিশ যুবলীগ নেতা মনোর কাছ থেকে হালের সবচেয়ে আলোচিত এই যৌন কেলেংকারীর সাথে আর কারা কারা জড়িত ? পান্নার রঙ্গমহলে নিয়মিত কাদের ওঠাবসা ছিল?আলোচিত এসব যৌন কেলেংকারীর গোপন ভিডিও পান্নার ল্যাপটপ থেকে কিভাবে এবং করা সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছে এসব বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনো পান্নার রঙ্গমহলে নিয়মিত যাতায়াত ছিল এমন কয়েকজনের নাম গোয়েন্দা পুলিশের কাছে প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ পান্নার দেয়া এসব তথ্য খতিয়ে দেখছে। মনো নিজেকে নির্দোষ দাবি করে পুলিশের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে জানান, পান্নার কোন ছাত্রী বা অন্য কোন ছাত্রীর সাথে সে বা তার ঘনিষ্ট বন্ধু প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুল, সজল, দুলালসহ অন্যদের যৌন সর্ম্পকের কোন ভিডিও ফুটেজ কেউ দেখাতে পারবে না । যদি পান্নার কোন ছাত্রীর সাথে তাদের এ ধরণের কোন ভিডিও ফুটেজ কেউ দেখাতে পারে তাহলে যে শাস্তি তাকে দেয়া হবে তা সে মাথা পেতে নেবে বলেও পুলিশকে জানায়। মানো পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানায়, নিজের অপরাধ ঢাকতে এবং নিজেকে বাঁচাতে পান্না কৌশল হিসেবে তাদের ৫-৬ বছর আগেকার ভিডিও ফুটেজ মোবাইল এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় যুবলীগ নেতা মনিরুল ইসলাম মনো (৪৫) কে যশোর শহর থেকে কুষ্টিয়া গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে। মনো কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর গ্রামের মৃত হাকিম মালিথার ছেলে। মনোকে গ্রেফতারে নেতৃত্ব দানকারী কুষ্টিয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল যশোর শহর থেকে মনোকে গ্রেপ্তার করে। এদিকে গ্রেফতারের পর যুবলীগ নেতা মনিরুল ইসলাম মনোকে গত ৭ জুলাই কুষ্টিয়া মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এজাহারে মনিরুল ইসলাম মনোর নাম না থাকলেও মোবাইল ও ইন্টারনেটে ছড়ানো ভিডিও ফুটেজে তাকে সনাক্ত করে পুলিশ। জানা যায়, কুষ্টিয়ার আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হেলাল উদ্দিন পান্নার ভাড়া করা বাসার একটি রুমে এক নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে মিলিত হয় মনো। গোপন ক্যামেরায় ওই মুহুর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে রেখে দেয় পান্না। যা ছড়িয়ে দেয় সব জায়গায়। সম্প্রতি ওই ভিডিওচিত্র শহরে ছড়িয়ে পড়লে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম বাদি হয়ে ৭ জুলাই স্কুল ছাত্রীদের সাথে যৌন কেলেংকারীর মূল হোতা হেলাল উদ্দিন পান্নাসহ তিন প্রকৌশলীকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামী হওয়ার কারণে তিন প্রকৌশলী বর্তমানে চাকুরী থেকে সাময়িক বারখাস্ত রয়েছেন। পুলিশ ৭ জুলাই মামলা দায়ের পর এই মামলার অপর আসামী প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান হাসানকে বাগেরহাট থেকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে প্রকৌশলী হাসান জেল হাজতে রয়েছেন। তবে গ্রেফতারকৃত হাসানের কোন ভিডিও ফুটেজ বা যৌন কেলেংকারীর কোন প্রমাণ এ পর্যন্ত পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। আলোচিত এ যৌন কেলেংকারীর একাধিক ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়লে সেখানে যুবলীগ নেতা মনিরুল ইসলাম মনোর একটি ভিডিও ফুটেজ থাকলেও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ সে সময় এজাহারে মনোর নাম উল্লেখ করেনি। তবে আলোচিত এই যৌন কেলেংকারীর ঘটনায় কুষ্টিয়ায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠলে যুবলীগ নেতা মনো গ্রেফতার হওয়ার আশংকায় কুষ্টিয়া ছেড়ে পালিয়ে যান।