অপরাধ খুলনা

দারোগা প্রকাশের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

images (1)রিপন হোসেন, যশোর থেকে : একটি ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেনাপোল পোর্ট থানায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত দারোগা প্রকাশ চন্দ্র ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে দুহাতে টাকা উড়াচ্ছেন। এদিকে এই ঘটনার সংবাদ প্রকাশ না করার স্বার্থে বেনাপোলের কতিপয় নামধারী সাংবাদিক দারোগা প্রকাশ চন্দ্রের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ধর্ষনের শিকার মেয়েটিরও কোন খোঁজ মিলছে না। মেয়ের সন্ধানে তার পরিবারের সদস্যরা গত ২ দিন ধরে বেনাপোল চষে বেড়াচ্ছেন। ছুটছেন থানা থেকে হাসপাতাল আর সম্ভাব্য সব স্থানে। কেউ কেউ বলছেন ভিন্ন কথাী ! অনেকে বলছেন ঘটনাটির প্রমান মুছে ফেলতে মেয়েটিকে নিয়ে দারোগা প্রকাশ বড় ধরনের কোন অঘটন ঘটিয়েছেন কিনা তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।

সূত্র জানায়, বাগেরহাট জেলার মোল্লার হাটের হযরত আলী গাজীর মেয়ে লায়লা খাতুন দীর্ঘ দিন বোম্বে ছিলেন। ঈদ উপলক্ষে তিনি পরিবারের লোকজনের জন্য কেনাকাটা করে গত ২৭শে জুলাই বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু পাসপোর্ট ভিসা না থাকায় তিনি অবৈধভাবে দালালের মাধ্যমে সীমান্তের সাদীপুর ঘাট দিয়ে সন্ধ্যায় দেশে ঢোকেন । খবর পেয়ে বেনাপোল পোর্ট থানার এ এস আই প্রকাশ চন্দ্র সাদীপুর গ্রামের ঘাট মালিক সবুরের বাড়িতে হানা দেয়। এসময় দারোগা প্রকাশ মালামালসহ সবুর ও লায়লাকে আটক করে। ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে সবুরকে ছেড়ে দেন দারোগা প্রকাশ। আর তার লোলুপ দৃষ্টি পড়ে সুন্দরী হ্যান্ডস্যাম লায়লার উপর। সে নানা টালবাহানায় লায়লাকে আটকে ফেলে। থানায় নিয়ে আসার কথা বলে দারোগা প্রকাশ মালামালসহ লায়লাকে নিয়ে ওঠেন পোর্ট থানা থেকে ১শো গজ দুরের হোটেল মাহাবুবে। দারোগা প্রকাশ এই হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে আগে থেকেই বসবাস করতেন। তিনি হোটেল ম্যানেজারের মাধ্যমে কৌশলে লায়লাকে ৩০১ নম্বর কক্ষের বর্ডার দেখিয়ে নিজ কক্ষে তোলেন। এর পর জেলের ভয় দেখিয়ে দারোগা প্রকাশ জোর করে লায়লাকে ধর্ষণ করে। এদিকে অপূর্ব সুন্দরী নাদুস নুদুস লায়লার প্রতি লোলুপ দৃষ্টি পড়ে হোটেলের ম্যানেজারসহ আরো ২/১ জনের। কিন্তু তাদের কে বঞ্চিত করে দারোগা একাই রাতভর সুন্দরী লায়লাকে ভোগ করবে এটা মেনে নিতে পারেননি হোটেলের ম্যানেজারসহ অন্যরা। ফলে খবরটি পৌঁছে যায় একজন আলহাজ্ব সাংবাদিকের কাছে। তিনি তার সাগরেদ সাংবাদিক নামধারী প্রতারক রাসু ও আশরাফকে ক্যামেরা দিয়ে পাঠিয়ে দেন হোটেল মাহাবুবে। তারা অডিও এবং ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে রাত ১১টার দিকে পৌঁছে যান হোটেল মাহাবুবে। তাদের নেতৃত্ব দেন বেনাপোলের সেই স্বনামধন্য আলহাজ্ব সাংবাদিক। স্বঘোষিত এই সাংবাদিক গ্রুপটি দারোগা প্রকাশ ও লায়লার বেডের দৃশ্য গোপনে ক্যামেরা বন্দি করেন। এক পর্যায়ে সাংবাদিক নামধারী প্রতারকরা দারোগা ও লায়লাকে ভেতরে রেখে ৩০২ নম্বর কক্ষটিতে তালা লাগিয়ে দেন। ঘটনাটি চাউর হয়ে গেলে দারোগা প্রকাশ ওই আলহাজ্ব সাংবাদিকের দারোস্থ হন। শ্রশ্রুষামন্ডিত ওই আলহাজ্ব সাংবাদিক এসময় তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে দারোগা প্রকাশ চন্দ্রের সাথে গোপন বৈঠক করেন। দারোগা প্রকাশ ভিডিওতে নিজের অপকর্মের দৃশ্য দেখে কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়েন। চাকরি হারানোর ভয়ে তিনি সাংবাদিক নামধারী প্রতারকদের পাতা ফাঁদে ফেঁসে যান। এসময় তিনি এই সংবাদ বা ভিডিওটি প্রকাশ না করার দাবি জানান। বিনিময়ে ওই আলহাজ্ব সাংবাদিক দারোগা প্রকাশের কাছে ঈদ খরচ হিসেবে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে দেনদরবার শেষে দারোগা প্রকাশ তার সহকর্মী এস আই নারায়ন চন্দ্রের মাধ্যমে ওই আলহাজ্ব সাংবাদিকের হাতে নগদ ৬০ হাজার টাকা তুলে দেন। নিজে ২০ হাজার টাকা রেখে বাকি ৪০ হাজার টাকা আলহাজ্ব সাংবাদিক তার বাকী সাঙ্গপাঙ্গদের মধ্যে ভাগ করে দেন। কিন্তু ততক্ষনে এ খবর পৌঁছে যায় বেনাপোল কেন্দ্রীয় আরো কিছু সাংবাদিকের কাছে। ফলে তারাও দারোগা প্রকাশকে ব্লাক মেইল করে পকেটস্থ করেন আরো প্রায় অর্ধলাখ টাকা। এদিকে শেষ রক্ষা করতে দারোগা প্রকাশ ভোর রাতেই মেয়েটিকে তার মোটর বাইকের পিছনে উঠিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান বলে জানান হোটেল বয় নজরুল। কিন্তু গত ৩ দিনেও মেয়েটি তার বাড়িতে না পৌঁছানোয় ঘটনাটি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে শুরু করেছে। এদিকে মেয়ের সন্ধানে তার পিতা গত ২ দিন ধরে বেনাপোল বন্দর এলাকায় ঘুরছেন। শেষে লোক মুখে তার মেয়েকে পুলিশ আটক করেছে মর্মে খবর পেয়ে তিনি ছুটে যান বেনাপোল পোর্ট থানায়। কিন্তু থানার রেকর্ড পত্রে লায়লা আটকের কোন তথ্য নেই। ফলে হতাশ হয়ে তিনি থানা থেকে ফিরে আসেন। তিনি আশংকা করছেন দারোগা প্রকাশ তার মেয়ের বড় ধরনের কোন ক্ষতি করেছে। এদিকে দারোগা প্রকাশ চন্দ্র ঘটনার পর থেকে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তিনি এ বিষয়ে কারোর সাথে কোন কথা বলছেন না। গতকাল এ রিপোর্ট লেখার সময় বেশ কয়েকবার দারোগা প্রকাশের সাথে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। এ বিষয়ে দারোগা নারায়ন চন্দ্র বলেন, এ এস আই প্রকাশ বেনাপোল পোর্ট থানায় নতুন। তিনি হোটেল মাহাবুবের একটি রুম ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকেন। ঘটনার দিন রাত ১২টার দিকে প্রকাশ আমাকে ফোন করে তার রুমে আসার অনুরোধ করেন। সহকর্মীর বিপদের কথা শুনে দ্রুত আমি ওই হোটেলে যায়। সেখানে আগে থেকেই ৩/৪জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলো। রুমে ঢুকে দেখি তারা ভিডিও ক্যামেরায় কি যেন দেখছে। আমি নিজেও ভিডিওটি দেখ্ ি। এসময় মেয়েটি খাটের এক কোনে বসে কাঁদছিলো। শেষ পর্যন্ত প্রকাশের কথা মতো আমি একজন সাংবাদিকের হাতে ৬০ হাজার টাকা তুলে দিয়ে হোটেল ত্যাগ করি। পরে কি ঘটেছে তা বলতে পারবো না। মেয়েটি কে বা কোথা থেকে এসেছে বা কোথায় যাবে সে সম্পর্কে কোন তথ্য তিনি দিতে পারেননি। এ ব্যাপারে পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, এ এস আই প্রকাশ ব্লাক মেলিংয়ের শিকার। বেনাপোলের একদল ভুয়া প্রতারক সাংবাদিক তাকে ব্লাক মেইল করেছে। মানুষের জীবনে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে। তবে সাংবাদিক নামধারী সন্ত্রাসী রাসু, চোরাকারবারী আশরাফসহ অন্যরা যা করেছে তা রীতিমত অপরাধ। তারা দারোগা প্রকাশকে ব্লাক মেইল করে প্রচুর টাকাও নিয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। প্রতারকদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি – এমন প্রশ্নের উত্তরে ওসি মিজান বলেন, কি করবো বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কিছু করে কি বিপদে পড়েবো ?