রংপুর শিক্ষাঙ্গন

বেতন বোনাস পাচ্ছেন না শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

images (9)রংপুর অফিস:ঈদে আগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন বোনাস পাচ্ছেন না। তিন মাস ধরে তাদের বেতন বোনাস বন্ধ রয়েছে। এতে করে পরিবার পরিজন নিয়ে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বকেয়া বেতন-বোনাসসহ ৭ দফা দাবিতে শুক্রবার ক্যাম্পাসে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান। ঈদের আগে যদি তাদের বকেয়া সমুহ পরিশোধ করা না হয় তবে ঈদের পর লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়। এরই মধ্যে আজ শনিবার তারা অবস্থান ধর্মঘট পালন করার ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহবায়ক অধ্যাপক ড. সরিফা সালোয়া ডিনা।

তিনি বলেন, আমাদের দাবিগুলো হচ্ছে- উচ্চ শিক্ষাগামী শিক্ষকদের ছুটি নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের সকল পারিতোষিক দ্রুত পরিশোধ করা, জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন বিভাগে এডহক ও পদের বিপরীতে অস্থায়ী পদে কর্মরত শিক্ষকদের স্থায়ী পদে নিয়োগ নিশ্চিত করা, আপগ্রেডেশন প্রাপ্যতার সময় অতিক্রান্ত শিক্ষকদের জরুরি ভিত্তিতে প্রাপ্যতার তারিখ হতে আপগ্রেডেশন নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অরগানোগ্রাম অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে সব বিভাগে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্তরে অতিরিক্ত দায়িত্বের পদসমূহে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষকদের নিয়োগ নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত পদের চেয়ে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দেওয়ায় বাজেট স্বল্পতার কারনে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী বর্তমান অবকাঠামো ও দপ্তর অনুপাতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে প্রায় এক হাজার লোকবল দরকার। সেখানে কর্মরত আছেন ছয়শ’র কিছু বেশি। ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অর্গানোগ্রাম করা আছে সে অনুযায়ী ২০১৩ সালের মধ্যে ২১টি বিভাগের প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক প্রয়োজন ২৬৩ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো বিভাগ, হল, লাইব্রেরী, ইনস্টিটিউট ও বিভিন্ন দপ্তর মিলে কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রয়োজন সাত শতাধিক। বাস্তবে যার চেয়ে অনেক কম লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর এতগুলো পদের বিপরীতে ইউজিসির আর্থিক অনুমোদিত পদের সংখ্যা মাত্র ২৬০টি। যার মধ্যে শিক্ষকের পদ ৮২ বলেও জানান তাঁরা।

প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সদস্য সচিব ড. গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ‘তিন মাস বেতন বন্ধ থাকার পরেও ঈদের আগে বকেয়াসহ বোনাস পরিশোধ না করে কর্তৃপক্ষ খুবই অমানবিক আচরণ করছেন। তাই আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছি। এর মধ্যে যদি সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে ঈদের পর কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো। তিনি আরো বলেন, বেতন না পেয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করলেও এ সমস্যা সমাধানের বিষয়ে উপাচার্য যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়- দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অর্থ সংকটে পড়লে অন্য খাত থেকে অর্থ ধার করে সংকট মোকাবেলা করা হয়ে থাকে। কিন্তু বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্যকে এমন পরামর্শ দেওয়া হলেও তাতে তিনি কর্ণপাত করেননি। এমনকি এই সংকট মেটানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দুই কোটি টাকা ধার হিসেবে দেওয়ার জন্য রাজি থাকলেও উপাচার্য অদৃশ্য কারণে সেই অর্থ গ্রহণ করতে রাজি হননি।

ঈদের আগে বেতন বোনাস না পাওয়ার বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম নূর-উন-নবী সাংবাদিকদের জানান, ইউজিসি আর্থিক অনুমোদন দেওয়া পদগুলোর বাইরে কোনো অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ায় বেতন-বোনাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন কোনো খাত নেই যেখান থেকে বেতন বোনাস দেওয়া যেতে পারে। তবে ইউজিসি থেকে থোক বরাদ্দের চেষ্টা করা হচ্ছে বিষয়টা সমাধান করার জন্য। ঈদের আগে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি জানান।