ঢাকা বিনোদন

শেরপুরে কৃষকের প্রিয় ষাড়ের মই দৌড় খেলা

Pic- Moi Daurশেরপুর থেকে শাহরিয়ার আহম্মেদ শাকির:কাস্তে, লাঙ্গল, জোয়াল, মই ও গরু নিয়েই কৃষকের সারা দিনে কাজ চলে মাঠে ময়দানে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে অবসরে নানা গ্রাম্য খেলা খেলে বা দেখে তারা আনন্দ উপভোগ করে থাকে। এর মধ্যে কৃষকের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা ষাড়ের মই দৌড় খেলা। শেরপুর জেলায় এ খেলাটি জনপ্রিয়তা এখনো কমেনি। বরং আরো বেড়েছে।

শেরপুর জেলার গ্রামাঞ্চলের কৃষকের বাপ দাদার আমালের খেলা হচ্ছে ষাড়ের মই দৌড় খেলা। এটি গ্রাম বাংলার কৃষকের একটি ঐতিহ্যও বটে। বাপ দাদার এ ঐতিহ্যবাহী খেলাটি এখনো কৃষকরা আকড়ে ধরে রেখেছে। কৃষকসহ জেলার সাধারণ মানুষ কাজের ফাঁকে ফাঁকে এ খেলাটি খেলে বা দেখে খুব আনন্দ ভোগ করে থাকে। ষাড়ের মই দৌড় খেলার আয়োজন করলে এখনও হাজার দর্শক এ খেলাটি উপভোগ করার জন্য একত্রিত হয়। ঐতিহ্যবাহী এ খেলাটি ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। ষাড়ের মই দৌড় খেলার খেলুয়ার ও ষাড় গরুও রয়েছে অনেক। ৪টি ষাড় একসাথে একটি মইয়ে বেধে পৃথক আরো ৪টি ষাড়ের মইয়েরর জুটিতে একসাথে দৌড় দেয়। প্রতিটি মইয়ে দুইজন করে মইয়েল থাকে। আর যখন এক সাথে ষাড়গুলো দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় তখন উপস্থিত দর্শকদের আনন্দের সীমা থাকেনা। কোন কোন সময় ৩টি পৃথক মইয়ে ১২টি একসাথে দৌড় দেয়। এ দৌড়টিতে কৃষকের আনন্দের মাত্রাটি ও কৌতুহল আরো বেড়ে যায়। কিন্তু প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাবে ষাড়ের মই দৌড় খেলার মইয়েল বা খেলোয়াররাও অনেক সময় হতাশ হয়ে পড়েন। একজন কৃষকের ৪টি বড় ষাড় গরু থাকে না। তাই তারা খেলার দিন একে অপরের গরু হায়ার করে থাকে। শুধুমাত্র মই দৌড়ের জন্যই কৃষকরা গরু গুলো লালন-পালন করে থাকে। কৃষকের এ শকের গরুগুলোর দামও প্রচুর। এ ধরনের খেলা আয়োজন করা সরকারের কোন সংস্থাও নেই। কৃষকরাই তাদের মনের আনন্দের জন্য এ খেলাটি আয়োজন করে থাকে। চাহিদা থাকায় কেউ কেউ এখন এ খেলার আয়োজন করছেন। স্থানীয় লোকজনের দাবী জনপ্রিয় এ খেলাটি যেন হারিয়ে না যায়। এ জন্য সরকারী-বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও উদ্যোগের প্রয়োজন। দেশের বৃহৎ অংশ কৃষক। আর কৃষকের আনন্দদায়ক খেলাগুলো ধরে রাখার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ সরকারীভাবে নেয়া উচিৎ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এব্যাপারে শেরপুর সদর উপজেলার হেরুয়া বালুরঘাটের মইয়েল মই দৌড় খেলার আয়োজক মোঃ আব্দুল হামিদ জানান, আমাদের কৃষকের এ খেলাটি খুবই প্রিয়। আমরা এ খেলাটি খেলে খুবই আনন্দ পাই। আমাদের দেশে শিক্ষিত সমাজের খেলার জন্য সরকার কত টাকা খরচ করে। অথচ আমাদের কৃষকের খেলার জন্য কোন টাকা কেউ খরচ করে না। অপর মইয়েল পাঙ্খা আলী বলেন, এ খেলাটি আমাদেও বাপ-দাদার আমল থেকে চলে আসছে। আমরা বাপ-দাদার খেলাটি হারাইথে দিমুনা। এ খেলাটি দেখে দর্শকরাও আনন্দ পায়, আমরাও খুব আনন্দ পাই। কেকের চর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল খালেক ডিলার বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ খেলাটি ধরে রাখতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা এই এলাকায় খেলাটি ধরে রাখার জন্য প্রতি বছরই খেলার আয়োজন করে থাকি। সবারই উচিত খেলাটির আয়োজনে সহযোগিতা করার।