অর্থ ও বাণিজ্য রাজশাহী

চাটমোহরের পুতি শ্রমিকরা মহা-ব্যস্ত

Pabna CHATMOHAR-JORE-PUTE 01-08-13খাইরুল ইসলাম বাসিদ, পাবনা:পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে পাবনা চাটমোহর উপজেলার পুতিশিল্প এলাকাগুলো কর্মমুখর হয়ে উঠেছে। পুতি শ্রমিকদের যেন দম ফেলার সময নেই। দিন-রাত তারা কাপড়ে চুমকি-পুতি লাগাতে ব্যস্ত। এমনকি নাওয়া খাওয়া ভুলে তারা বর্তমানে চুমকি-পুতি লাগানোর কাজে মহা-ব্যস্ত। উপজেলার প্রতিটি গ্রামের প্রায় বাড়িতেই লক্ষ্য করলে দেখা যায়, বাড়ির ঘরের পাশের আঙিনায় নিড়িবিলি পরিবেশে কাঠের তৈরী ফ্রেমের মধ্যে কাপড় দিয়ে আটকানো হস্থ শিল্পটি নিয়ে কাজে মগ্ন আছে নারী-গৃহীনি, এমনকি বাড়ির স্কুল পড়–য়া ছোট ছোট মেয়েরা ও ছোট ছেলেরাও । চাটমোহর উপজেলায় উন্নতমানের আধুনিক রুচিশীল কাপড়ে চুমকি ও পুতিদিয়ে কারুকার্য করা হচ্ছে। উপজেলার পুতি শ্রমিকরা নিরলশ পরিশ্রমে ও তাদের হস্ত শিল্পর ছোয়ায় চুমকি পুতি দিয়ে কাপরকে করে তুলছে নান্দনিক ও মনোমুগ্ধকর। এসব কাপড়ের চাহিদা ও সুনাম ছড়িয়ে পডছে দেশব্যাপী। চাটমোহর উপজেলার, রেলবাজার, অমৃতকুন্ডা, মাঝগ্রাম, বালুদিয়ার, শাহাপুর, জগতলা, বেজপাড়া, আটলংকা, বন্যাগাড়ী, শিবপুর, নেউতিগাছা, মূলগ্রাম, ভবানিপুর, পাচুড়িয়া, ডিবিগ্রাম, ফৈলজানা, মথুরাপুর, গুনাইগ্রাছা, বিলচলন, ছাইকোলা, হান্ডিয়াল, নিমাইচড়া, পাশ্বডাঙ্গাসহ বিভন্ন গ্রামের নারী, শিশু-কিশোরীরা দিন-রাত নিরলশ ভাবে চুমকি-পুতির হস্তশিল্পর কাজ করে যাচ্ছে।

সরেজমিনে এলাকাগুলোতে ঘুরে পুর্তির কাজ করা মোছাঃ জোসনা খাতুন, মোছাঃ শাহিদা, মোছাঃ তহুরাসহ কয়েকজন মহিলার সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বছরের অন্য সময়ের চেয়ে রোজার ঈদের আগে হস্তশিল্পর কাজ ও চাহিদা বেশি থাকে। এ জন্য গ্রামের নারী, ছোট বড় মেয়েরা শেহেরীর পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নাওয়া-খাওয়া ভুলে নিরলশ ভাবে জরি-পুতির কাজ করে যা্েচ্ছ। পুতির কাজ করা এসব কাপড় দিয়ে তৈরী হবে ছেলেদের পাঞ্জাবী, ফতুয়া, টি-শাট, মেয়েদের থ্রী-পিচ, ছালোয়ার-কামিজ, শাড়ি। এ ছাড়া শাড়ির ওপরে বর্ণিল সুতা, বুটিক ও চুমকির কাজও করা হচ্ছে। দেখা গেছে, কাপড়ের ওপর পুতি-চুমকিদিয়ে নান্দনিক ও মনোমুগ্ধকর নানা নকশা করা হচ্ছে। এখানকার নান্দনিক ও মনোমুগ্ধকর নানা নকশায় তৈরি কাপড়ের চাহিদা রয়েছে দেশব্যাপী।

নেউতিগাছা গ্রামের পুর্তির কাজ করা মোছাঃ আফরোজা বলেন, আগের বছরে একটি থ্রী-পিচে পুতি চুমকি লাগিয়ে দিলে ১‘শ টাকা থেকে ১‘শ ২০ টাকা করে পারিশ্রমীক দিত। বর্তমানে তা কুমিয়ে ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা করে দিচ্ছে মহাজনেরা। যতটা কাপড়ের কাজ করা যাবে ততবেশি টাকা পাওয়া যাবে। তাই ঈদের সামনে বেশি বেশি কাজ করছি।