অপরাধ খুলনা

দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে অবাধে আসছে ফেনসিডিল

chuadanga-bgb-20130503021601কাঞ্চন কুমার,কুষ্টিয়া থেকে:স্থান কাল পাত্র ভেদে এর নাম ডাইল, জুস আবার কখনো সিরাপ। দৌলতপুর উপজেলাসহ এ অঞ্চলের সর্বত্র এ সকল নামেই পরিচিতি ও নেশার খোরাক যোগাচ্ছে মরণ নেশা ফেনসিডিল। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সীমান্ত এলাকায় আসন্ন ঈদকে টার্গেট করে বে-পরোয়া হয়ে উঠেছে এখানকার মাদক ব্যবসায়ীরা। দৌলতপুরের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন দেশের অভ্যন্তরে ভারত থেকে অবাধে আসছে মরণ নেশা ফেনসিডিল, হেরোইন, মদ ও গাঁজা। এখানকার মানুষ নদীতে যেভাবে বন্যার পানি আসে। সেই বানের জলের সাথে তুলনা করা শুরু হচেছ ফেনসিডিলকে। প্রতিদিন বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের অভিযানে কিছু মাদক ধরা পড়লেও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে সিংহভাগ মাদক মজুদ ও পাচার করছে মাদক ব্যবসায়ীরা। সরেজমিনে দৌলতপুর সীমান্ত এলাকা ঘুরে জানা গেছে, সীমান্তের রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সীগঞ্জ, মোহাম্মদপুর, ডাঙ্গেরপাড়া ও তালপট্টি, চিলমারী ইউনিয়নের মরারচর, হবিরচর, উদয়নগর, বাজুমারা ও বাংলাবাজার এবং প্রাগপুর ইউনিয়নের প্রাগপুর, বিলগাথুয়া, ময়রামপুর, মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া ও জামালপুর ভাঙ্গাপাড়া এবং আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের গড়–রা, ধর্মদহ ও কাজিপুর সহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে এবং কোথাও নদীপথ দিয়ে দিনে ও রাতে ভারত থেকে আসছে ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা ও মদ সহ বিভিন্ন মাদক। এলাকাবাসী জানায়,প্রথমে মাদক বহনকারীরা সীমান্তের ওপার থেকে ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য পুটলি বা বস্তায় করে আবার পদ্মায় পানি বেড়ে যাওয়ায় প্লাস্টিক বস্তায় বেঁধে সাঁতরে, অথবা পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে নদী পার হয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তির কাছে সেগুলো পৌঁছে দেয়া হয়। এরপর তারা সুবিধামতো তৃতীয় ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয় এবং তৃতীয়জন তা পৌঁছে দেয় নির্দিষ্ট গন্তব্যে। তারা আরো জানায়, বর্তমানে প্লাস্টিকের বোতলজাতকৃত ফেনসিডিল যেখানে কাঁটাতার আছে সেখানে ভারতীয়রা ছোট ছোট পুটলি বেঁধে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য কাঁটাতারের ওপার থেকে এপারে ছুড়ে ফেলে এবং বাংলাদেশী মাদক ব্যবসায়ীরা সেগুলো কুড়িয়ে নিয়ে তাদের গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছে। তবে, মাদকদ্রব্যের ব্যবসার সাথে যারা জড়িত তারা কিছুটা আগে গোপনীয়তা রক্ষা করলেও বর্তমান সময়ে তা অনেকটা ওপেন সিক্রেট। সীমান্তের মুন্সীগঞ্জ, জামালপুর, আবেদের ঘাট এবং ভাগজোত এলাকার এক ডজন ব্যক্তি এ মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে স্থানীয় সুত্রগুলো জানায়। এছাড়া ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে স্থানীয় এলাকার ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পর্যাপ্ত চাহিদা মেটানোর জন্য সকল মাদক ব্যবসায়ীরা এখন আরো বে-পরোয়া হয়ে উঠেছে বলে সুত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

এদিকে উপজেলার প্রাগপুর, রঘুনাথপুর, বিশ্বাসপাড়া, ময়রামপুর, বিলগাথুয়া, মহিষকুন্ডি,জামালপুর, জামালপুর ভাঙ্গাপাড়া, ধর্মদহ, তেকালা, গড়ুরা, ভাগজোত, ডাংমড়কা, বাগোয়ান, মথুরাপুর, হোসেনাবাদ, সিরাজনগর, আবেদের ঘাট, ফিলিপনগর, দৌলতপুর হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা, ফুটানীবাজার, রিফাইতপুর, সাদিপুর, বেগুনবাড়িয়া, আল্লারদর্গা, সোনাইকুন্ডি, তারাগুনিয়া, খলিশাকুন্ডি, বৈরাগীরচর সহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা শতাধিক মাদকের আস্তানা গড়ে উঠোয় সে সকল এলাকায় প্রতিনিয়ত রং বেরঙের পরিচিত, অপরিচিত দামী দামী প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল আরোহীরা যাতায়াত করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। প্রাগপুর এলাকার বাসিন্দা প্রভাষক সামছুজ্জোহা জানান, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের প্রত্যক্ষ মদদ ও সহযোগীতায় মাদক চোরাচালানীরা বর্তমান সময়ে চরম বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সীমান্তে নিরীহ মানুষ ও গরু ব্যবসায়ীক্ষে ওপর তারা গুলি চালালেও মাদক ব্যবসায়ীদের তারা ধরেও নিয়ে যায়না এবং এদের উপর গুলিও চালায় না। অন্যদিকে এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, বিজিবির পাশাপাশি দৌলতপুর থানা পুলিশ চোরাকারবারীদের সহায়তা করছে। তারা বলেন, পুলিশের সাথে মাদক চোরাকারবারিদের ঘনিষ্ট সম্পর্ক আছে সে কারণে পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়না। এছাড়া রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কিছু নেতা ও কয়েকজন ইউনিয়ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধির সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে দৌলতপুর থানার ওসি রবিউল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি সীমান্তের ওপার থেকে মাদক আসার কথা স্বীকার কনে জানান, সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যরা থাকা সত্বেও কিভাবে দেশের ভিতরে তারা প্রবেশ করছে তা তার বোধগম্য নয় বলে তিনি জানান। সীমান্তে মাদক চোরাচালান বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে বিজিবির ৩২ ব্যাটালিয়ানের উপ-অধিনায়ক মেজর তারেক মাহমুদ সরকার জানান, এ সময়ে পদ্মায় পানি বেড়ে যাওয়ায় বৈরী পরিবেশে কিছুটা সমস্যা হলেও সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চোরাচালান রোধে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া ইতিমধ্যে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য আটক হয়েছে।