কৃষি চট্টগ্রাম

পাহাড়ের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা মাল্টা

Malta-0320130801074610হটনিউজ৩২৪বিডি.কম,চট্টগ্রাম, ০১ আগষ্ট: পার্বত্য এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাল্টা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চট্রগ্রামের রাঙ্গামাটি বান্দরবান খাগড়াছড়ি কাপ্তাই প্রভৃতি এলাকার হাজার হাজার একর জমি মাল্টা আবাদের জন্য খুবই উপযোগী।
কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনার রাইখালি কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের গবেষকরা এ সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। গবেষনা কেন্দ্রে দীর্ঘ গবেষণায় এ সাফল্য পাওয়া গেছে। এর ফলে এক সময়ের বিদেশী ফল মাল্টা এখন দেশেই আবাদ করা সম্ভব হবে।

রাইখালি কৃষি গবেষনা কেন্দ্রে দেখা গেছে, প্রায় ৫ থেকে ৬ ফুট উচ্চতার ডালপালা আর সবুজ পাতা পরিবেষ্টিত প্রতিটি মাল্টা গাছ। সবুজ মাল্টার ভারে প্রায় ন্যুজ্ঝ হয়ে পড়েছে গাছ।
প্রতিটি গাছে গড়ে ২ শতাধিক ফল ধরেছে। ফলের আকৃতি ও গঠন বিদেশী মাল্টার চাইতে উন্নত। বাজারের বিদেশী মাল্টার চাইতে মিষ্টি ও রসালো। ফল পরিপুর্ণ হলে হাল্কা সবুজ রংয়ের হয়। জাতীয় বীজ বোর্ড অনুমোদিত উন্নত জাতের এ মাল্টার নাম বারি-১।

গবেষনা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ তত্ত্ব) শ্যামা প্রসাদ চাকমা জানান, কম বৃষ্টিবহুল শুস্ক ও উষ্ণ জলবায়ু মাল্টা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। বায়ু মন্ডলের আদ্রতা ও বৃষ্টিপাত মাল্টা ফলের গুণাগুণকে প্রভাবিত করে। ঢালু এবং অম্লীয় মাটিতে মাল্টা ভাল জম্মে।
পাহাড়ি কৃষকরা জমিতে মাল্টা চাষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক সাফল্য পেতে পারেন বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, কাপ্তাইয়ের রাইখালী কৃষি গবেষনা কেন্দ্রে ২০০৭ সালে প্রথম শতাধিক গাছে মাল্টার একটি বাগান তৈরী করা হয়। বর্তমানে বাগানে প্রতিটি গাছে গড়ে ২‘শতটি করে ফল ধরেছে। প্রতি গাছে উৎপাদিত মাল্টার ওজন কমপক্ষে ৩০ কেজি।
বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ন্যুনতম মুল্য ১‘শ টাকা করে কেজি ধরা হলেও প্রতিটি গাছে তিন হাজার টাকা মুল্যের মাল্টা পাওয়া যাবে। গাছ থেকে তোলা মাল্টা কোন প্রকার প্রযুক্তির ব্যবহার বা ফ্রিজিং ছাড়াই কমপক্ষে একমাস স্বাভাবিক থাকবে। একবার বাগান করলে প্রতি বছরই সেই বাগান থেকে ফল পাওয়া যাবে।

রাইখালী কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম হারুনুর রশিদ জানান, মাল্টা চাষের সাফল্য সাধারন মানুষকে জানাতে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এলাকার কৃষকদের মাঝে মাল্টা চাষে সাড়াও মিলেছে। আগ্রহীদের চারা সরবরাহ করতে গবেষনা কেন্দ্রে কলম তৈরির কাজ চলছে।