জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর সারাদেশ

আইএসবিরোধী বাংলাদেশের পরিবেশ : ড. রোহান গুণারত্নে

হটনিউজ ডেস্ক: পৃথিবীর ১২০টি দেশে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর অস্তিত্ব রয়েছে। তারমধ্যে বাংলাদেশ একটি। তবে বাংলাদেশে আইএস কখনও বড় পরিসরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। কারণ, এদেশের পরিবেশ আইএস বিরোধী এবং মানুষজন হচ্ছেন শান্তিপ্রিয়। মঙ্গলবার দুপুরে বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স অ্যান্ড টেরোরিজম রিসার্চের (আইসিপিভিটিআর) অধ্যাপক ড. রোহান গুণারত্নে।
জঙ্গিবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে দক্ষিণ এশিয়া ও পার্শ্ববর্তী ১৪টি দেশের পুলিশ প্রধানদের তিনদিনব্যাপী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে। এ সম্মেলনের একজন আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন ড. রোহান গুণারত্নে। সম্মেলন শেষে হোটেলের লবিতে দাঁড়িয়ে  সাক্ষাৎকার দেন তিনি।
বাংলাদেশ সরকার যদি তামিম চৌধুরী কিংবা তার গ্রুপকে ধ্বংস করতে না পারতো তাহলে এখানে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলা চালানোর সম্ভাবনা ছিল— এ গুঞ্জন সত্যি কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পৃথিবীর ১২০টি দেশে আইএস-এর অস্তিত্ব আছে। এরমধ্যে বাংলাদেশও একটি। ১২০টি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা কিংবা ড্রোন হামলা চালানো সম্ভব নয়। যদি কোথাও আইএস বড় পরিসরে হাজির হয় কিংবা কোনও এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় তখন আলাদা বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
ড. রোহান গুণরত্নে বলেন, বাংলাদেশে আইএস কখনোই অতটা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। কেননা, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং এখানে আইএস পরিপন্থী পরিবেশ বিরাজ করছে। তাই এখানে কখনই আইএস বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারবে না।
বাংলাদেশে তো আইএস নেই এবং দেশের পুলিশ কিংবা সরকারও এটা স্বীকার করে না,এ বিষয়টাকে কীভাবে দেখেন জানতে চাইলে সিঙ্গাপুরের এই অধ্যাপক ও গবেষক বলেন, ‘আমি এটি মানতে রাজি নই। বাংলাদেশে আইএস-এর অস্তিত্ব নেই এটা মানতে রাজি নই। ইতালির নাগরিক তাভেল্লা সিজার ও জাপানি নাগরিক ওসি কুনিও হত্যা এবং হলি আর্টিজানের হামলার মতো ঘটনাগুলো আইএস-ই করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জেএমবি’র সদস্যরা আইএস-এর প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়ে আইএস-এ যোগ দিয়েছে। তারা আইএস-এর হয়ে হলি আর্টিজানে হামলা চালিয়েছে।’
ড. রোহান আরও বলেন, ‘তামিম চৌধুরীর নেতৃত্বে ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশে আইএস-এর কার্যক্রম শুরু হয়। তামিম চৌধুরীই কানাডা থেকে এসে বাংলাদেশে আইএসকে পরিচিত করেন। আগে থেকে সক্রিয় থাকা জেএমবি সদস্যদের সংঘবদ্ধ করেন। জেএমবি ও আইএস-এর মতাদর্শ সম্পূর্ণ আলাদা। জেএমবি কখনও বিদেশি নাগরিকদের হত্যা করেনি। বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা হিন্দুদের হত্যা করেনি। কিন্তু জেএমবি যখন আইএস-এর মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আইএস-এ পরিণত হলো, তখন থেকে তারা বিদেশি নাগরিকদের হত্যা শুরু করলো। অন্য ধর্ম বিশ্বাসীদের হত্যা শুরু করলো। শেষ পর্যন্ত হলি আর্টিজানে হামলা চালালো।’
হলি আর্টিজানে জঙ্গিদের হামলাকে আইএস-এর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার পক্ষে যুক্তি দিয়ে ড. রোহান গুণরত্নে বলেন, ‘আইএস-ই এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। জেএমবি তা করেনি। আইএসই একমাত্র সংগঠন যারা হামলার দায় স্বীকার করেছে। সুতরাং, ঢাকা, গুলশান কিংবা হলি আর্টিজানে আইএস হামলা করেনি বলে যারা দাবি করছেন সেটা ভুল।’
ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য বিভিন্ন বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশে আইএসকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে এ তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. রোহান  বলেন, অতীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সংযোগ থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু আইএসকে কোনও গোয়েন্দা সংস্থা বা সরকার পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে- এমন প্রমান এখনও তিনি পাননি। তার মতে, ‘আইএসকে কোনও সরকারই পৃষ্ঠপোষকতা দেবে না। কারণ আইএসকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া যে কোনও সরকারের জন্যই বিপজ্জনক। আর এমন হলে সেখানে আমেরিকার বোমা হামলা চালানোর শঙ্কা রয়েছে।’
ড. রোহান গুণরত্নে বলেন, ‘কোনও দেশে যদি আইএস-এর অস্তিত্ব থাকে তাহলে এমন কোনও দেশের সরকারেরই উচিত হবে না সেই তথ্য জনগণের কাছ থেকে লুকানো। বরং জনগণের কাছে তা প্রকাশ করে তাদের সঙ্গে নিয়েই সরকার আইএসবিরোধী লড়াই ভালোভাবে চালাতে পারবে।’
পুলিশ প্রধানদের সম্মেলনের প্রথম দিন রবিবার ড. রোহান গুণরত্নে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, হলি আর্টিজানে যারা হামলা চালিয়েছিল, ‘তারা জেএমবি নয়, তারা আইএস। তার এই  বক্তব্য প্রসঙ্গে পরদিন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘গুলশান হামলার বিষয়ে গুণারত্নের বক্তব্য পুলিশ সমর্থন করে না। রোহান সাহেব একজন প্রফেসর। তিনি কোনও পুলিশ কর্মকর্তা নন। তিনি শিক্ষাবিদ ও গবেষক। তিনি তার নিজের মতো করে বলেছেন।’