জাতীয় ঢাকা

মিল্কির খুনিদের ধরতে বিমান-স্থলবন্দরে সতর্কতা

DMP-SM20130731051224স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজটোয়েন্টিফোরবিডি.কম,ঢাকা: যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কির চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার পলাতক চার আসামি গ্রেফতারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তারা যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সেজন্য বিমান ও স্থল বন্দরসমূহে এই সতর্কতা জারি করা হয়।

বিশেষ করে ভারতে পালিয়ে থাকা বাংলাদেশের বেশ কিছু শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে এদের যোগাযোগ রয়েছে; এ কারণে তারা যেন ভারতে পালাতে না পারে সেজন্য সতর্ক নজর করে রাখা হয়েছে। তাছাড়া এই চার আসামিকে গ্রেফতারে র‌্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

গুলশান থানার ওসি (তদন্ত) নূরে আজম মিয়া হটনিউজকে এই সকল তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে বুধবার সকালে গ্রেফতারকৃত ৭ আসামির মধ্যে ৬জনকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের ৭দিন করে রিমান্ড আদেশ দিয়েছেন। তাদের ১০দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।

মামলা সূত্রে জানা যায়, যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কি হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তার ছোট ভাই মেজর রাশেদুল হক খান বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যামামলা দায়ের করেন।

জাহিদ সিদ্দিকি তারেককে ১ নম্বর আসামি, সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চলকে ৭ নম্বর আসামি, সন্ত্রাসী সোহেল ওরফে কার্নি সোহেলকে ৮ নম্বর আসামি করে মোট ১১ জনের নামে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অজ্ঞাত হিসেবে আরও ৪/৫ জন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়েছেন থানার এসআই সাব্বির আহমেদ।

থানার ওসি নূরে আজম হটনিউজকে বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ ও র‌্যাব অভিযান অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে এ আসামিরা যেন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশের সকল বিমানবন্দর, নৌ বন্দর এবং স্থলবন্দরে এদের ব্যাপারে তথ্য পাঠানো হয়েছে।

নূরে আজম বলেন, ‘আমরা সম্ভাব্য সকল প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

জানা গেছে, এ সকল সন্ত্রাসীদের দেশের বাইরেও পলাতক সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভারতে পালিয়ে যাওয়া দেশের শীর্ষ কয়েকজন সন্ত্রাসীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগের প্রমাণ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে। আর তাই তারা যেন ভারতে পালাতে না পারে সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে র‌্যাব-পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে র‌্যাবের অপারেশন অফিসার মোর্শেদ হটনিউজকে বলেন, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে এরই মধ্যে ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে তারা কাজ করছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধুমাত্র র‌্যাব-১ এ অভিযানের মধ্যে নেই, দেশে র‌্যাবের সকল ব্যাটালিয়নে এ ব্যাপারে তথ্য প্রেরণ করা হয়েছে। তারাও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে কাজ করে চলেছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে রাজধানীর গুলশান ১ নম্বরের ১২৩ নম্বর রোডের শপার্স ওয়ার্ল্ড শপিং মলের সামনে প্রকাশ্যে রাস্তার উপর ফিল্মি স্টাইলে উপর্যুপরি গুলি করে খুন করা হয় ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্কিকে (৪২)।

নিহত মিল্কির বাবার নাম এরশাদ উদ্দিন খান। গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনায়। স্ত্রী শিপু এবং দুই সন্তান আশিক (৫) ও রাইয়ানকে (২) নিয়ে মিল্কি ঢাকায় মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে র‌্যাবের টিম জাহিদ সিদ্দিকী তারেক নামের অন্য এক যুবলীগ নেতাকে পাঁচ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের কাছে তারেক হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন বলে ৠাব জানিয়েছে।