জাতীয় ঢাকা

ঈদে ঘরে ফেরা শুরু

gabtoli-bg20130731031113স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজটোয়েন্টিফোরবিডি.কম,ঢাকা: ঈদকে সামনে রেখে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। কর্মব্যস্ত নগরী, ক্লান্তিকর জীবন থেকে কিছু দিনের জন্য প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে চিরচেনা নিজ নিজ বাড়িতে ছুটে চলেছেন নগরবাসীরা।

বুধবার সকালে রাজধানীর গাবতলী টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, বাস কাউন্টারগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। অনেকেই ঈদের অগ্রিম টিকিটের বাড়তি ঝামেলায় না গিয়ে একটু আগেভাগেই বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। তবে ঈদের বেশ কিছু দিন আগে ফিরলেও যাত্রীদের গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। যাত্রীদের অভিযোগ, সরকারের নির্দেশনা ও বাস মালিকদের ঘোষণা অনুযায়ী ৫ আগস্ট থেকে ঈদের বিশেষ ট্রিপে যাত্রা শুরুর জন্য অগ্রিম টিকিট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন থেকেই ঈদের ভাড়া হিসেবে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে পরিবহনগুলো।

শ্যামলী, কল্যাণপুর ও গাবতলী টার্মিনালের বাস কাউন্টারগুলোতে এখন আর অগ্রিম টিকিটের জন্য ভিড় নেই। কারণ, অধিকাংশ পরিবহনের অগ্রিম টিকিট দেওয়া শেষ হয়েছে দু’দিন আগেই। এখন চলছে অতিরিক্ত ট্রিপের টিকিট বিক্রি। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী অতিরিক্ত ফেরির ব্যবস্থা করা হলে এবার আর যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।

গাবতলী বাস টার্মিনালে বাসের জন্য অপেক্ষমান আনিসুর রহমান বলেন, আমি এখনই যাচ্ছি না। পরিবারের অন্যদের পাঠিয়ে দিচ্ছি। কারণ, ঈদের আগ মুহূর্তে দীর্ঘ যানজটে পড়তে হয়, তাই ওদের আগেই পাঠিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু ঈদের অনেক আগে গেলেও ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ঈদের টিকিটের দামে। এক একটা টিকিটে ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা অতিরিক্ত নিচ্ছে পরিবহনগুলো।

সোহাগ পরিবহনের গাবতলী শাখার ইনচার্জ মো. সোলায়মান হোসেন হটনিউজকে বলেন, আমাদের পরিবহনের সবগুলো ট্রিপের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শেষ। আগামী ৫ আগস্ট ভোর থেকে ঈদের বিশেষ ট্রিপ শুরু হবে।

তিনি বলেন, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী যদি ঈদের চারদিন আগে থেকে দূরপাল্লার রুটে ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকে, তাহলে আর দীর্ঘ যানজটে পড়তে হবে না। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এবার পাটুরিয়া ঘাটে ১৪টি ফেরির ব্যবস্থা করা হবে। এটা হলে ঘাটে কোনো যানজটে পড়তে হবে না। এখন দেখার বিষয় এ প্রতিশ্রুতি কতোটুক বাস্তবায়িত হয়। তাছাড়া প্রশাসনের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার হলে মহাসড়কগুলোতে বেশি যানজটে পড়তে হবে না।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুলাই শুক্রবার থেকে ঈদ উপলক্ষে সবগুলো রুটের বাস, ট্রেন ও লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। প্রথম দিনেই প্রায় অধিকাংশ পরিবহনের অগ্রিম টিকিট শেষ হয়ে যায়। প্রথম দিনে বাসের অগ্রিম টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হলেও এরপর থেকে আর দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ঘরমুখো যাত্রীদের।