ঢাকা রাজনীতি

বিকল্প শক্তির দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রয়োজন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজটোয়েন্টিফোরবিডি.কম,ঢাকা: দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রধান দু’টি দলের বিকল্প হিসেবে তৃতীয় শক্তির আবির্ভাবের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিকল্প এই শক্তি দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনায় সফল হবে বলে মত দিয়েছেন এক গোলটেবিল আলোচনার বক্তারা।Press-Club-bg20130730035815 (1)
অবশ্য দুই দলকে টেক্কা দেওয়ার মতো শক্ত তৃতীয় শক্তি এখনো গড়ে ওঠেনি বলেও মনে করেন তাদের কেউ কেউ। বক্তারা বলেন, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাব ভালো। তবে ব্যাপক আলোচনা ও মতবিনিময়ের পরই কেবল এটির প্রবর্তন করা যেতে পারে।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এ আলোচনার আয়োজন করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)।

‘দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোটেবিল আলোচনায় কথা বলছিলেন।

দলের সভাপতি আসম আব্দুর রবের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, গণফোরামের যুগ্ম-সম্পাদক আওম শফিকউল্লাহ প্রমুখ।

দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাব সম্বলিত লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন।

বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাব ভালোই। কিন্তু এর সদস্যরা কিভাবে নির্বাচিত হবেন এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী, নাকি অন্য কেউ তাদের নির্বাচিত করবেন? সংবিধান সম্পর্কে ধারণা থাকা মানুষকে নির্বাচিত করতে হবে।

তিনি বলেন, এর জন্য বৈপ্লবিক পরিবর্তন দরকার। তেমন শক্তিশালী কিছু এখনো আসেনি। সংসদ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে হতে হবে। কিন্তু যেভাবে সরকার নির্বাচন করতে চাচ্ছে, তাতে তাদের লোক ছাড়া কেউ সংসদে আসতে পারবেন না।

কাজী জাফর বলেন, তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি জনগণ ও সুশীল সমাজের কামনা। তবে এটি আবির্ভূত হয়নি। এখন অন্য কোনো তৃতীয় শক্তির আবির্ভাব হবে নাতো?

কাদের সিদ্দিকী বলেন, এখন মানুষ বিকল্প শক্তির আশায় উন্মুখ। সংসদে উচ্চ কক্ষ নিশ্চয়ই দরকার আছে। সংসদ দুইটা থাকলে একটা আরেকটার সঙ্গে আলোচনা করতে পারবে।

দ্বি-কক্ষীয় সংসদের অন্যান্য দেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেসব দেশে রাজনৈতিক দলের প্রতি মানুষের আস্থা আছে, এখানে সেটা নাই। এখন পর্যন্ত এ প্রস্তাবের সঙ্গে আছি। তবে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক থাকতে বলবো।

জাফর উল্লাহ বলেন, তৃতীয় শক্তি বলতে কোনো সেনা শাসন নয়, গণতান্ত্রিক শক্তি বোঝানো হচ্ছে। দেশ পরিচালনার সুবিধার্থে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ হতে পারে বা প্রদেশ হিসেবে ভাগ করা যেতে পারে।

মান্না বলেন, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ শুনতে ভালো লাগছে। বিএনপিও দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন করতে চায়। তবে আসম আব্দুর রব যে দ্বি-কক্ষের সংসদের কথা বলছেন তা নিশ্চয়ই বিএনপির মতো হবে না।

তিনি বলেন, দুই দলই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে যাবে। কারণ, খালেদাকে কানের কাছে সবাই বলছেন, আপনিই ক্ষমতায় যাবেন। উভয় দলই নির্বাচনে গেলে তৃতীয় শক্তির সুযোগ কোথায়?

মাহবুব বলেন, শাসক দলের সম্মতি না থাকলে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাব অরণ্যে রোদন ছাড়া কিছু্ই না। এগুলো করতে একটি বিপ্লবী দল লাগবে, সেটা এখনো তৈরি হয়নি।

আনোয়ার বলেন, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদের ব্যাপারে আমি উৎসাহী। এটি ব্রিটেন থেকে ধার করতে হবে না, আমাদের ইতিহাসেই এটি ছিল। আর বিকল্প হিসেবে তৃতীয় শক্তি এখনো তেমন শক্তিশালী হয়ে গড়ে ওঠেনি।