জাতীয় ঢাকা

ঝুলে আছে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের ২য় শ্রেণির মর্যাদা

Primary-sm-120130729234657 (1)স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজটোয়েন্টিফোর.কম,ঢাকা: দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদ মর্যাদার বিষয়টি। পদটিকে দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেডে উন্নীত করার বিষয়টিতে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় সাড়া না মেলায় দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা এখন বৃহত্তর আন্দোলনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তবে এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতনস্কেলের পরিবর্তে প্রধান শিক্ষকের পদ দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেডে উন্নীত করার দাবিটি দীর্ঘদিনের।পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির দাবিও রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক বিকাশ, গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে, যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক গড়ে তোলার স্বার্থে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদকে আরও মর্যাদাসম্পন্ন ও আকর্ষণীয় করতে গত বছরের ডিসেম্বরে এ পদকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীতের প্রস্তাব করে মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকদের বেতনস্কেল আপগ্রেডের কথাও বলা হয় ওই প্রস্তাবে।

৩৭ হাজার ৬৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য এ প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে ৩১৬ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে তখন জানানো হয়েছিল।

বর্তমানে প্রধান শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে (৫৫০০-১২০৯৫ টাকা) বেতন পেয়ে আসছেন। মন্ত্রণালয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বেতন দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদায় দশম গ্রেডে (৮০০০-১৬৫৪০ টাকা) উন্নীতের প্রস্তাব করে। এছাড়া প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডে (৬৪০০-১৪২৫৫ টাকা) উন্নীত করারও প্রস্তাব করা হয়েছিলো।

পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১২তম গ্রেডে (৫৯০০-১৩১২৫ টাকা) এবং প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৩তম গ্রেডে (৫৫০০-১২০৯৫ টাকা) উন্নীতের প্রস্তাব করা হয়।

দাবি আদায়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছিলো শিক্ষকরা। কিন্তু দাবির বিষয়টি সুর‍াহা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সরকারকে আল্টিমেটাম বেঁধে দিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন শিক্ষকরা।

এর অংশ হিসেবে শিক্ষকদের একটি সংগঠন আগামী ২৮ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে শিক্ষক সমাবেশের আহবান করেছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২৬ হাজারসহ বর্তমানে ৬৫ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের তালিকায় যুক্ত।

সমিতির সভাপতি আবুল বাসার হটনিউজকে বলেন, ‘আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তিন দফা দাবিতে ডাকা সমাবেশে অন্তত ৫০ হাজার শিক্ষক উপস্থিত হবেন। সমাবেশ থেকে লাগাতার আন্দোলন-কর্মসূচি আসবে।’

তবে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ব্যানারে অপর একটি সংগঠনের সভাপতি মু. আব্দুল আউয়াল তালুকদার বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসের পর নতুন কর্মসূচির কোনো যৌক্তিকতা নেই।’

গত সপ্তাহে শিক্ষকদের দু’টি সংগঠন প্রাথমিক শিক্ষা সচিবের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে। এ সময় বলা হয় শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবির সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সম্মতি রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস এম আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষকদের দাবির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

হটনিউজকে তিনি বলেন,‘প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা দান ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন আপগ্রেড করার বিষয়টি অনুমোদনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে অর্থমন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব শামসুদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া হটনিউজকে বলেন, ‘পদমর্যাদা উন্নীতের সঙ্গে আর্থিক বিষয় জড়িত। তবে বিষয়গুলো পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।’