জাতীয় ঢাকা

সাঈদীর আপিল মামলার শুনানি ১৭ সেপ্টেম্বর

Sayedee-sm20130729220114স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজটোয়েন্টিফোরবিডি.কম,ঢাকা: জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর ঘোষিত রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি মো. মোজ্জাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৫ সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আসামি পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক এবং সরকার পক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যার্টনি জেনারেল এম কে রহমান।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২৮ মার্চ সাঈদী ও সরকারপক্ষ পৃথক দু’টি আপিল (আপিল নম্বর: ৩৯ ও ৪০) দাখিল করেন। গত ৩ এপ্রিল আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদনের সারসংক্ষেপ জমা দেন সরকারপক্ষ। ১৬ এপ্রিল সারসংক্ষেপ জমা দেন আসামিপক্ষ।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণের মতো আটটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দু’টি অপরাধে সাঈদীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

সাঈদীর বিরুদ্ধে গঠন করা অভিযোগে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিন হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা, নয়জনেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ, বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, ভাঙচুর এবং ১শ’ থেকে ১শ’৫০ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরে বাধ্য করার মত ২০টি ঘটনার অভিযোগ আনা হয়েছিলো।

এগুলোর মধ্যে সন্দেহাতীতভাবে ৮টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর মধ্যে দু’টি অভিযোগে অর্থাৎ ৮ ও ১০ নং অপরাধে সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। এছাড়া ৬, ৭, ১১, ১৪, ১৬ ও ১৯ নং অভিযোগ প্রমাণিত হলেও এগুলোতে কোনো সাজার কথা ঘোষণা করেননি ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল জানান, দুই অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ায় বাকিগুলোতে আর সাজা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আর বাকি ১২টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় সেগুলোতেও কোনো সাজা ঘোষণা করা হয়নি।

সাজা ঘোষিত না হওয়া ওই ৬টি অভিযোগে শাস্তির আর্জি জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আর সাঈদীর ফাঁসির আদেশ থেকে খালাস চেয়ে আসামিপক্ষ আপিল করেন।

আপিল আবেদনের শুনানিতে নেতৃত্ব দেবেন ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। আর রাষ্ট্রপক্ষে নেতৃত্ব দেবেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন’১৯৭৩ এর বিধান অনুসারে, রায় ঘোষণার এক মাসের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করা যাবে। সে হিসেবে ২৮ মার্চ আপিলের শেষ দিনটিতেই উভয়পক্ষ আপিল আবেদন করেন। আইন অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এর আগে ট্রাইব্যুনাল-২ এর রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষ কাদের মোল্লার দণ্ড বাড়িয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি আর আসামিপক্ষ যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ থেকে খালাসের আর্জি জানিয়ে আপিল করেন। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে গত ১ এপ্রিল শুরু হয়ে ২৩ জুলাই শেষ হয় উভয় পক্ষের আপিলের শুনানি। বর্তমানে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া ফাঁসির আদেশ থেকে খালাস চেয়ে গত ৬ জুন আপিল করেন কামারুজ্জামান। তবে কামারুজ্জামানের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেননি রাষ্ট্রপক্ষ। সরকারপক্ষ থেকে এ আপিল মামলার সারসংক্ষেপ জমা দেওয়া হয়েছে। আর ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আসামিপক্ষকে সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলেছেন আপিল বিভাগ।