কৃষি রংপুর

কুড়িগ্রামে পাট নিয়ে কৃষকের ভোগান্তি

Kurigram pic-(01), 29-07-2013 (1)ডাঃ জি এম ক্যাপ্টেন, কুড়িগ্রামঃকুড়িগ্রামে পাট নিয়ে কৃষকরা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। একদিকে ব্রহ্মপূত্র-তিস্তা-ধরলা অববাহিকায় বন্যা ও নদী ভাঙনে আগাম পাটকেটে বাজারে কমমূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে। অপরদিকে বৃষ্টির অভাবে খাল-বিল শুকিয়ে গিয়ে পানির অভাবে পাট পচাতে (জাগ) না পেরে চরম অনিশ্চিয়তার মধ্যে রয়েছে তারা। ফলে সোনালী আঁশ পাট এখন কৃষকের গলার ফাঁস হয়ে দেখা দিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় চলতি মৌসুমে ২১ হাজার ২৭৭ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে দেশী ৮৪২ হেক্টর এবং তোষা ২০ হাজার ৪৩৫ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ২৪ হাজার ৪৪ হেক্টর। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ অঞ্চলে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু এখন শ্রাবণের প্রথম সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বৃষ্টির দেখা না পাওয়ায় উজান এলাকার বেশিরভাগ খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় ক্ষেতের পাট কেটে পানির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে কৃষকদের। ফলে অনেক ক্ষেতের পাট শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেকে পাট কেটে জমিতে কিংবা নীচু জায়গায় স্তুপ করে পাট রেখেছেন। এতে পাটের গুণগতমান কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে ক্ষতির মূখে পড়বে পাটচাষীরা।

কুড়িগ্রাম সদর এবং উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেল বেশিরভাগ খাল-বিল শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। দুর্গাপুরের টুপামারীর বিল অর্ধেকাংশ শুকিয়ে যাওয়ায় অনেকের পাট শুকনো মাটিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখানকার গোড়াই রঘুরায়ের কৃষক মোস্তাফিজার রহমান জানান, কড়া রোদে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় হাটু পানির পাট এখন শুকনো মাটিতে পঁচছে।

অপরদিকে আগাম পাট তুলে মন্দা বাজারে পাট বিক্রি করে ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হচ্ছে কৃষকরা। এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার কৃষক রাজু জানান, এবার তিনি আলু তুলে ২৩ বিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছিলাম। আগাম উঠানোও বিঘায় মাত্র ৬ মন করে ১০৮ মন পাট পেয়েছেন। গোডাউন না থাকায় ইতিমধ্যে ১ হাজার ৬শত টাকা মন হিসেবে ৮০ মন পাট বিক্রি করেছেন। তিনি আরো জানান পাট কেটে তা পরিবহণ করে খাল-বিলে পঁচাতে কৃষককে বাড়তি খরচ পোহাতে হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক প্রতীপ কুমার মন্ডল জানান, পাট চাষে লাভ করতে হলে ১০০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে পাট কাটতে হবে। এছাড়াও রিবননেরেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষক ছোট্ট খালে বা চাড়ায় পানিঢেলে পাট পঁচাতে পারে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেঁচে যাবে।