অপরাধ জাতীয় প্রধান খবর

শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‍যৌন নির্যাতনের তদন্ত এক মাসেও শুরু হয়নি

435d100615c397b9b0dae62f5e79d1e7-583bacba0bec5হটনিউজ২৪বিডি.কম : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠলেও গত এক মাসেও কাজ শুরু করেনি যৌন নিপীড়ন নিরোধ কমিটি। কমিটি বলছে, কোন পথে তদন্ত শুরু করবে তা-ই নির্ধারণ করতে পারেনি তারা। তাদের কাছে নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ থাকলেও কোনও শিক্ষার্থীর বয়ান না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। যৌন নিপীড়ন নিরোধ সেল এ অজুহাত দেখালেও ওই শিক্ষকের নিপীড়নের অনেক দালিলিক অভিযোগ ইতোমধ্যে বিভাগের পক্ষ থেকেই প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত সদস্যের যৌন নিপীড়ন নিরোধ কমিটির সদস্যরা বলছেন, আমাদের কাছে বিভাগের পক্ষ থেকে বেশকিছু ডক্যুমেন্টস দেওয়া হয়েছে।যেগুলোর বেশিরভাগই ফেসবুক ও তার বিভিন্ন লেখার অংশ, যা পত্রিকায় বের হয়েছে। এগুলো ধরে আমাদের এই কমিটি কাজ করতে পারবে কিনা, সেই সিদ্ধান্তেই আমরা আসতে পারিনি। তবে কেউ একজন যদি উপস্থিত হয়ে তার সঙ্গে কী ধরনের যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে, সেটা জানালে আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করতে পারব।

কোনও শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সরাসরি অভিযোগ না পাওয়ার কথা বললেও, গত এক মাস আগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। হয়রানির শিকার ওই ছাত্রী সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। তাহলে সেলের পক্ষ থেকে অভিযোগ না পাওয়ার অস্বীকার কেন?

এমনকি হয়রানির শিকার এক ছাত্রী হটনিউজ২৪বিডিকে বলেন, আমি ওনার সঙ্গে রিলেশনে জড়িয়ে পড়েছিলাম। পরে তিনি আমাকে ভয়ভীতি দেখাতেন। ব্ল্যাকমেইল করতেন। কেবল আমি না, আরও অনেকে তার সব অন্যায়ের শিকার। কিন্তু মুখ খুলতে তারা ভয় পাচ্ছেন।

এবিষয়ে রাজশাহী বিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন নিরোধ কমিটির সাত সদস্যের কেউই মুখ খুলতে চাননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন কথা বলেছেন।যোগাযোগ করা হলে কমিটির অন্যতম সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেগুলো কিভাবে সমন্বিত করে এগুবো এটাই নির্ধারণ করতে পারিনি। যদিও ঘটনাগুলো মুখে মুখে সবারই জানা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য সারোয়ার জাহানকে তদন্ত অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি হটনিউজ২৪বিডিকে বলেন, ‘এক মাস বেশি সময় না। অভিযোগ আমরা যৌন নির্যাতন সেলের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। তারাই বিষয়টি কিভাবে তদন্ত করবেন, সেটা দেখবেন।’ এধরনের কমিটির কাজ তদারকির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও মনিটরিং টিম আছে বা থাকা উচিত কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এবিষয়ে আপনি রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এন্তাজুল হক হটনিউজ২৪বিডিকে বলেন, ‘আমার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে এখনও কোনও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ যায়নি। তবে সেটা সবসময় আমার মাধ্যমেই যেতে হবে,বিষয়টি এমনও না।’ বোঝাই যাচ্ছে যেকোনও কারণেই হোক, তদন্ত খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে যৌন নিপীড়ন নিরোধ কমিটির সাবেক এক সদস্য মনে করেন, প্রকৃত অর্থে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে মনে হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর পক্ষে কোনও শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলাটা সহজ বিষয় না। তিনি আরও বলেন, যৌন নিপীড়নের অভিযোগ খুব সংবেদনশীল এবং ক্ষমতা কাঠামোর কারণেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরাই হয়রানির শিকার হন। ওই শিক্ষকের যে সকল কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই জানেন। সেগুলো তদন্তের আওতায় আনলে, এই অপরাধে তার চাকরি চলে যাওয়ারও সম্ভাবনা আছে।

অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা টিবিউনকে বলেন, ‘আমি এখন সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব নিয়ে আলাপ করতে চাই না।’