কৃষি খুলনা যশোর

৭ জেলার কৃষকদের গম চাষ থেকে বিরত’র পরামর্শ

unnamedআব্দুল ওয়াহাব মুকুল, যশোর প্রতিনিধি: গমের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ব্লাস্ট রোগ মহামারী হিসেবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় এবার খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ৭ জেলার কৃষকদের গম চাষ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে কুষ্টিয়া, যশোর, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল ও ভোলা জেলার কৃষকদের এ পরামর্শ দেওয়া হয়। এসব জেলার ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারিত ছিল।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ফরিদপুর অঞ্চল)-এর অতিরিক্ত পরিচালক কিংকর চন্দ্র দাস সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ব্লাস্ট ছত্রাক জাতীয় রোগ, এই রোগে আক্রান্ত গমের ফলন ব্যাপকভাবে কমে যায়। তাই আমরা চেষ্টা করছি যেসব জেলায় এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে গম চাষাবাদ নিরুৎসাহিত করতে। কৃষকদের এই রোগ মোকাবেলায় উদ্বুদ্ধকরণ সভাসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে কুষ্টিয়া, যশোর, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল ও ভোলা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এসব জেলার চাষীদের গম চাষ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। অন্য জেলাগুলোতেও সতর্ক দৃষ্টি রাখছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
কিংকর চন্দ্র দাস জানান, গমের বীজ থেকেই ব্লাস্টের উৎপত্তি। আক্রান্ত বীজের মাধ্যমে গমের ব্লাস্ট রোগ ছড়ায়। বৃষ্টির কারণে গমের শীষ ১২-২৪ ঘণ্টা ভেজা থাকলে এবং তাপমাত্রা ১৮ সেন্টিগ্রেড বা এর বেশি হলে এ রোগের সংক্রমণ হয় এবং রোগের জীবাণু দ্রুত বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ব্লাস্ট রোগের জীবাণু কিছু কিছু ঘাস জাতীয় আগাছায় বাস করতে পারে। তবে সেখানে রোগের লক্ষণ সহজে দৃষ্টিগোচর হয় না।
আক্রান্ত জমি থেকে বীজ গম সংগ্রহ না করার পরামর্শ দেন কিংকর দাস। এছাড়া বীজ বের হওয়ার সময় বৃষ্টি ও উচ্চ তাপমাত্রা পরিহার করতে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম ১৫ দিনের মধ্যে বীজ বপন এবং শীষ বের হওয়ার সময় থেকে দুবার ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেন তিনি।
ওই কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, ব্লাস্টের বৈজ্ঞানিক নাম ম্যগনাপোরথি অরাইজি (পাইরিকুলারিয়া অরাইজি)। মেহেরপুর ও যশোর বিএডিসির মাধ্যমে প্রথম এ রোগের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হয়। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের ক্ষতিকর ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগ বাংলাদেশের গম ক্ষেতগুলোতে জেঁকে বসে। যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের ধান ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগের উপস্থিতি থাকলেও তা কখনই তেমন ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু গম ক্ষেতের ব্লাস্ট চাষিদের স্বপ্নকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে।
এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এমদাদ হোসেন সেখ জানান, গত বছর যশোরাঞ্চলের ৫ জেলায় গম আবাদে ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এবারও ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশংকায় কৃষকদের গম চাষ ও বীজ সংরক্ষণে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এজন্য এবার গমের আবাদের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়নি।
তিনি আরো বলেন, একই জমিতে এবারও গম চাষ করলে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিতে পারে। ওই রোগের জীবাণু ঘাসের সঙ্গে থেকে যায়। ক্ষেতের ঘাস বা আগাছা থেকে রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। তবে ওই জমিতে কয়েক বছর গম আবাদ না করাটাই ভাল।