জাতীয় ঢাকা

সরকারদলীয় সাংসদ রনি কারাগারে

images (1)আদালত প্রতিবেদক:সাংবাদিক পেটানোর মামলায় পটুয়াখালী-৩ আসানের সরকারদলীয় সাংসদ গোলাম মাওলা রনির জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম এস এম আশিকুর রহমান এই আদেশ দেন। জামিন নাকচের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলা তদন্তাধীন। সাংসদ রনি মামলার বাদীকে যে হুমকি দিয়েছেন জিডির প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে। মামলার তদন্তকার্য সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য এ মুহুর্তে আসামি রনির জামিন আবেদন খারিজ করা হলো। তাকে কাগারে পাঠানো হোক।

জামিন আবেদনের শুনানিতে রনির আইনজীবী কবির হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মুনসুর রিপন আদালতকে বলেন, রনিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা ব্যতিত গ্রেফতার করা হয়েছে যা আইন বহির্ভূত। এটা কোনও ভাবেই পুলিশ করতে পারে না। আদালত বুধবার দুপুর ২টায় রনির জামিন বাতিল করে। আদালত থেকে কোনও ওয়ারেন্ট তখন পাঠানো হয় নাই। অথচ ডিবি পুলিশ তাকে বাড্ডা থেকে আগেই গ্রেফতার করে। আইনজীবীরা আদালতকে আরও বলেন, যে দিন রনির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এরপর দিন রনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তিনি একজন সাধারণ মানুষের মত আসামির কাঠগড়ায় ঢুকে জামিনের প্রার্থনা করেন। তিনি এমপি হিসেবে কোনও বাড়তি সুবিধা নিতে চাননি। আদালতের প্রতি তার সম্মান আছে। ন্যায় বিচারের স্বার্থে রনির জামিন দেয়া হোক। এসময় মামলার বাদী ইউনুছ আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বাদীর আইনজীবী আজিজুর রহমান ও প্রসিকিউশন বিভাগে সহকারী কমিশনার মিরাস উদ্দিন আদালতকে বলেন,‘ জামিনে যেয়ে সাংসদ রনি মামলার বাদীকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য ক্রমাগত হত্যার হুমকি দিয়েছেন। যা জিডির তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আসামি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি একজন জনপ্রতিনিধি। তাই এই আসামি জামিনে মুক্ত থাকলে স্বাক্ষিদের ভয়ভীতি দেখাতে পারে। এছাড়া মামলার তদন্তে আরো ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার জামিন আবেদন নাকচ করা হোক। গতকাল সাংসদ রনিকে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে। এসময় তার বিরুদ্ধে রিমান্ডে নেয়ার কোনও আবেদন ছিল না। যে কারণে রনিকে ডিবির মাইক্রোবসে ঢাকা মুখৗ মহানগর হাকিম আদালতের হাজতখানার সামনে রাখা হয়। টানা দুই ঘণ্টা রনি গাড়িতে অবস্থান করেন। দুপুর ২টার পর তাকে ডিবির মাইক্রোবাসে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

গত ২০ জুলাই শনিবার দুপুরে ইনডিপেনডেন্ট টিভি চ্যানেলের দুই সংবাদকর্মীকে পেটান আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। যে দুই সাংবাদিককে পেটানো হয় এরা হলেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রতিবেদক ইমতিয়াজ মোমিন এবং ক্যামেরাম্যান মহসীন মুকুল। এ ঘটনায় ইনডিপেনডেন্ট টিভি চ্যানেলের সহকারী ব্যবস্থাপক ইউনুছ আলী গোলাম মাওলা রনির বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। সংসদ সদস্য রনি ইনডিপেনডেন্ট টিভি চ্যানেলের অন্যতম মালিক সালমান এফ রহমান, দুই সাংবাদিকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪০ জনের বিরদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করেন।