জাতীয় ঢাকা

ফৌজদারি মামলা আমলে নেওয়ার ক্ষমতা পাচ্ছে না ডিসিরা

2012-06-17-08-51-55-4fdd9aab3c80f-shafique-ahmedসিনিয়র করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজটোয়েন্টিফোরবিডি.কম,ঢাকা: ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আমলে নেওয়া ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সামারি ট্রায়ালের (সংক্ষিপ্ত বিচার) ক্ষমতা পাচ্ছেন না জেলা প্রশাসকরা। তবে মোবাইল কোর্ট আইনে সামান্য সংশোধন আনা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক সম্মেলনের (ডিসি সম্মেলন) শেষ দিন আইন মন্ত্রণালয়ের কার্য-অধিবেশন শেষে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ এ তথ্য জানান।

জেলা প্রশাসক সম্মেলনে জেলা প্রশাসকরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সংক্ষিপ্ত বিচারিক ক্ষমতা এবং ফৌজদারি অপরাধের জন্য অভিযোগ আমলে নেওয়ার ক্ষমতা চান।

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার কাজ নিশ্চিত করবে। সেই লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফৌজদারি কার্যবিধি পরিবর্তন করে এ বিচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের হাতে। নির্বাহী বিভাগের ওপর বিচারের দায়িত্ব যেহেতু সংবিধান ও সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই এটা কোনো ভাবেই সম্ভব নয়। কারণ সংবিধান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী বিচারের ক্ষমতা বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের হাতেই থাকবে। যারা নির্বাহী বিভাগের ম্যাজিস্ট্রেট, তারা নির্বাহী বিভাগেই কাজ করবে।’

তিনি জানান, ‘ নির্বাহী বিভাগের ম্যাজিস্ট্রেটদের মোবাইল কোর্টের কিছু ক্ষমতা দেওয়া আছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের (মোবাইল কোর্ট) সামনে যদি অপরাধ সংঘটিত হয়, সেই ক্ষেত্রে বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন তারা।’

আইনমন্ত্রী বলেন, “জেলা প্রশাসকরা একটা প্রশ্ন তুলেছেন যে, ‘অপরাধ স্বীকার করলে বিচার করা যায়, কিন্তু স্বীকার না করলে শাস্তি দেওয়া যায় না’ কথাটি রয়েছে। আমরা এটির বিশ্লেষণ করে দেখবো সংশোধন করা যায় কিনা। যদিও সমস্ত আইনটা পড়লে দেখা যাবে মোবাইল কোর্টের সামনে অপরাধ করলে শাস্তি দেওয়া যাবে। সেখানে আর অপরাধ স্বীকারের প্রয়োজন হয়না। তবু কখনও যদি কোনো জটিলতা দেখা দেয়, তাহলে আমরা পরীক্ষা করে দেখছি। সেই অংশটুকু বাদ দেবো মোবাইল কোর্ট আইন থেকে।”

‘বার বার ডিসিরা বিচারের ক্ষমতা চাচ্ছেন কেন?’ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘ফৌজদারি অপরাধের বিচারের দায়িত্ব বিচারিক আদালতের। আমরা সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করেছি। এমন কোনো বিধান আমরা করতে পারবো না, যা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইন করলে সর্বোচ্চ আদালত তা বাতিল করে দেবে। পার্লামেন্টে করলেও তা বাতিল হয়ে যাবে।’