অর্থ ও বাণিজ্য খুলনা

মালিকেরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন

KST SAMAYকাঞ্চন কুমার,কুষ্টিয়া থেকে:শ্রাবনের রোদ বাদলের কারনে এবার কুষ্টিয়ার তৈরী সুস্বাদু সেমাই উৎপাদনে মারাত্বক বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে মিল মালিকেরা। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বারের ন্যায় এবারো কুষ্টিয়ায় মেশিনে তৈরী সেমাই তৈরী করতে যখন মিল মালিকেরা ব্যাপক প্র¯ু—তি গ্রহন করেছিল তখন বাধ সাদে শ্রাবনের বৃষ্টি। রোজার শুরু থেকে থেমে থেমে বর্ষনের ফলে অধিকাংশ মিলে সেমাই উৎপাদন কমে এসেছে।

গত তিন দিন থেমে থেমে মুষলধারার বৃষ্টিতে একাধিক মিলের সেমাই উৎপাদনে মালিকেরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি মিলে সেমাই উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা যায়। রোজার শুরু থেকে সেমাই উৎপাদনকারী মিল মালিকদের মাঝে আশার আলো সঞ্চার হলেও গত কয়েকদিনের বৃষ্টির কারনে সকলের সেই আশা যেন বরফে পরিনত হয়েছে। বৃহস্পতিবার শহরের বড় বাজার, আড়ুয়াপাড়া ও রাজারহাট এলাকায় অবস্থিত সেমাই মিলে যেয়ে দেখা গেছে সব মিলে সেমাই উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তবে কয়েকটি মিলে তৈরী করা সেমাই বৈদ্যুতিক পাখা দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা শুকানো হচ্ছে। রাজার হাটে বেলাল সেমাই মিলে দেখা গেল বিশেষভাবে বাতাস দিয়ে সেমাই শুকানো হচ্ছে।

এ মিলের অনেক সেমাই বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। একই অবস্থা আর বি ইন্ডাষ্ট্রিজসহ অনেক সেমাই মিলে। এবার ঈদকে সামনে রেখে জেলার ১৩টি সেমাই মিলে এক যোগে সেমাই উৎপাদিত হচ্ছে। জেলার উৎপাদিত কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে শিরিনা সেমাই কারখানা, কুষ্টিয়া সেমাই মিলস, রোলেক্স সেমাই, বিল্লাল ওয়েল মিলস, হোসেন ফুড ইন্ডাষ্ট্রিজ, আশরাফ ফ্লাওয়ার মিলস, শ্রদ্ধাঞ্জলী ইন্ডাষ্ট্রিজ, মিনকো ফ্লাওয়ার মিলস, আরবি ইন্ডাষ্ট্রিজ, আবদুল্লাহ ফ্লাওয়ার, মুনমুন ফুড ইন্ডাষ্ট্রিজ ও এগ্রি ফুড প্রোডাক্ট করপোরেশন।

কুষ্টিয়া ময়দা ও সেমাই মিল মালিক সমিতির সভাপতি চিত্তরঞ্জন পাল জানান,এবার সেমাই মিল মালিকদের ব্যবসার অবস্থা শোচনীয়। বৃষ্টি এবং ঘন ঘন লোড শেডিংয়ের কবলে পড়ে এ ব্যবসার অবস্থা নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক আর বি ইন্ডাষ্ট্রিজের মালিক পাপ্পু জানান,এবার বর্ষার শুরু থেকেই বৃষ্টির কারনে কুষ্টিয়ার সেমাই শিল্প একেবারে শেষ। সেমাই উৎপাদনের সকল প্রস্তুতিই ছিল কিন্তু বৃষ্টির কারনে সেমাই উৎপাদন করা যাচ্ছে না। তিনি জানান,মঙ্গলবার দুপুরের মুষলধারার বৃষ্টি এবং বাতাসের কারনে রৌদ্রে শুকাতে দেয়া অনেক তৈরী সেমাই সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। একই অবস্থা আব্দুল্লাহ ফ্লাওয়ার মিলে। সেখানে বিপুল পরিমান তৈরী সেমাই খাবার অনুপোযোগী হওয়ায় একেবারে নদীতে ফেলা দেয়া ছাড়া কোন উপায় ছিল না। বৃষ্টি বন্ধ হলে মালিকদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সারা দিন থেমে থেমে বৃষ্টিতে সকল আশা ফ্যাকাশে হয় যায়। মিল মালিকেরা জানালেন,এভাবে আবহাওয়া চলতে থাকলে এবার সেমাই উৎপাদন করা কঠিন হয়ে পড়বে। তারপরেও বৃষ্টির পুর্বে তৈরী করা সেমাই দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা সামান্য পুরন করা সম্ভব বলে জানা গেছে।

কুষ্টিয়া ময়দা ও সেমাই মিল মালিকেরা জানান,সেমাই মিল মালিকেরা প্রকৃতির কাছে অসহায়। আগামী দিনগুলোতে ভাল আবহাওয়া হলে বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন আসবে। মিল মালিকেরা আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে। তবে শ্রাবনের বাদলের দিনের কোন বিশ্বাস নেই।