জাতীয় বরিশাল

নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম।

jamalpur-bg20110724140110বরগুনা:বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী বরগুনার পায়রা-বিষখালী-বলেশ্বর নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা অতি জোয়ারের পানি একটু সুযোগ পেলেই প্লাবিত করে দেয় গ্রামাঞ্চল। অসহায় হয়ে পড়ে নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ জেলার লাখ লাখ মানুষ। দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কার ও ভাঙ্গনরোধ করতে না পারলে অসংখ্য প্রাণহানিসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীর পাড়ে বসবাসরত মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন জোয়ারের সময় পানির তোড়ে ভেঙ্গে যায় ঘর-বাড়ি, বন্যানিয়ন্ত্রন বাধ ও ফসলের মাঠ। কিন্তু ভাঙ্গনরোধ অথবা বন্যানিয়ন্ত্রন বাধ রক্ষায় কর্তৃপক্ষের কোন কার্যক্রম নেই। জীবন ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে উপকূলের মানুষ। ফসলের মাঠ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার লোক।

জেলার সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো হচ্ছে-সদর উপজেলার বুড়িরচর, গোলবুনিয়া, চালিতাতলী, লতাকাটা, পালের বালিয়াতলী, নিশানবাড়িয়া, নলী, ডালভাঙ্গা, গুলিশাখালী। বেতাগী উপজেলার সড়িষামুড়ী, ঝোপখালী, বামনা উপজেলা শহর, রামনা। পাথরঘাটার কালমেঘা, পদ্মা, রুহিতা, জ্বীনতলা, কাকচিড়া। আমতলীর চাওড়া, বালিয়াতলী ও তালতলী উপজেলার ছোটবগী, মৌপাড়া, বড়বগী, জয়ালভাঙ্গা, তেতুলবাড়িয়া। এছাড়া ভাঙ্গতে শুরু করেছে ছোটবগী, জয়ালভাঙ্গা, চালিতাতলী, গোলবুনিয়া, নলী, কাকচিড়াসহ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী বাজার।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলার ২২ পোল্ডারে ২৪ কিলোমিটার বন্যানিয়ন্ত্রন বাধ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আংশিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে ১৭৫ কিলোমিটার। বরগুনা জেলায় মোট সাড়ে নয়শ কিলোমিটার বন্যানিয়ন্ত্রন বাধ আছে।

তালতলী উপজেলার মৌ-পাড়া গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেন বলেন,“ অন্তত ৭ একর জমিতে বাপ-দাদার বাড়ি ছিল। ১০/১২ একর ছিল ফসলের মাঠ। নদীতে ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে সব শ্যাষ হইয়া গ্যাছে। এহোন নিজেদের থাকার জায়গাই নাই। সদর উপজেলার গোলবুনিয়া বাজারের মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, দীর্ঘ্য দিনের পুরানো গোলবুনিয়া বাজারটি ভাঙ্গতে শুরু করেছে। বর্তমানে জেলা পরিষদের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্ধ এনে রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বন্যানিয়ন্ত্রন বাধটি রক্ষা করতে না পারলে বাজারসহ গ্রামের বাড়ি-ঘর বিলীন হয়ে যাবে। আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, পায়রা নদীর ভাঙ্গনে এ পর্যন্ত বালিয়াতলী গ্রামের শত শত ঘর-বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। যার কারনে অনেকে ঘর-বাড়ি না থাকায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে শ্রমিকের কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, এ এলাকার মানুষকে রক্ষা করতে হলে দ্রুত ব্লোক দিয়ে ভাঙ্গনরোধ করতে হবে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মালেক জানান, ভাঙ্গনরোধে কাজ করার জন্য মন্ত্রণালয় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্ধ আসলে কাজ করা হবে। তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের পর মন্ত্রনালয় থেকে কোন বরাদ্ধ আসেনি। যার কারনে বেড়িবাঁধের কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা। তারপরও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো দিয়ে যাতে জোয়ারের পানি না উঠে সেজন্য স্থানীয়দের সহযোগিতায় কিছুটা মেরামত করা হয়েছে।