অর্থ ও বাণিজ্য ঢাকা

পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের আশঙ্কা

Onion-1120130723073407হটনিউজ২৪বিডি.কম,নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা: অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ বাড়াতে পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে ভারত সরকার।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণে সরকারকে এ পদক্ষেপ নিতে হতে পারে বলে জানান এক সরকারি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। খবর ইকোনমিক টাইমসের।
ওই কর্মকর্তা বলেন, সরকার পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। বাজারদর নিয়ন্ত্রণেই এ পণ্য রফতানিতে নিষেধাজ্ঞাসহ যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন বাজারে এর সরবরাহ ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। ভারি বর্ষণের কারণে মহারাষ্ট্রের মতো বৃহৎ উৎপাদক রাজ্যগুলো থেকে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। ফলে প্রভাবিত হচ্ছে বাজার।
এশিয়ায় পেঁয়াজের বৃহৎ পাইকারি বাজার মহারাষ্ট্রের লাসাগাঁওয়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ রুপিতে। এছাড়া রাজধানী দিল্লিতে একই পরিমাণ পেঁয়াজের খুচরাদর ৩০-৪০ রুপি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ভারত ৭৭৬ দশমিক ৪৭ কোটি রুপির ৫ লাখ ১১ হাজার ৬১৬ টন পেঁয়াজ রফতানি করেছে। গত অর্থবছরের একই সময় এর পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ১৭ হাজার ২৭৪ টন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারদর নিয়ন্ত্রণে পণ্য রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি ছাড়া কোনো উপায় নেই। আগে ন্যূনতম রফতানি মূল্য (এমইপি) বাড়ানোর মাধ্যমে রফতানি কমানো হতো। কিন্তু গত বছর এমইপি তুলে দেয়া হয়েছে। তবে এ মুহূর্তে পণ্য রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ সরকারের জন্য একটি কঠিন পদক্ষেপ।
চলতি বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সবরকম পণ্য রফতানিতেই জোর দেয়া হচ্ছে। মোট পেঁয়াজ উৎপাদনের ১০ শতাংশ রফতানি করে ভারত।
ভারতীয় পেঁয়াজের প্রধান বাজার বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। নাসিকভিত্তিক ন্যাশনাল হর্টিকালচারাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (এনএইচআরডিএফ) ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সিবি হোলকার বলেন, আগামী মাস পর্যন্ত পেঁয়াজের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকবে। মহারাষ্ট্র, অন্ধ্র প্রদেশ, কর্ণাটক ও রাজস্থানে উৎপাদিত নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ অক্টোবর থেকে বাজারে সরবরাহ শুরু হবে। লাসাগাঁওয়ে বর্তমানে প্রতি কুইন্টাল পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ রুপিতে। আগামীতে এ বাজারে পণ্যটির মজুদ কমে তিন থেকে চার লাখ টনে নেমে আসতে পারে। ফলে সে সময় দাম আরো বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।