জাতীয় ঢাকা প্রধান খবর রাজনীতি

বাংলাদেশ ভারত আক্রান্ত হলে পাশে থাকবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

3_37176হটনিউজ ডেস্ক :  ভারত আক্রান্ত হলে বাংলাদেশ ভারতের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে গণমাধ্যমকেন্দ্রে ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ অনুষ্ঠানে এ কথা জানান মন্ত্রী। ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ বিষয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এ সংলাপের আয়োজন করেছে। ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে অবস্থান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতির বিষয়ে একজন সাংবাদিক জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে পাকিস্তানের কোন বর্ডারও নেই। তাদের অবস্থান বারশ’ মাইল দূরে। তাদের (পাকিস্তান) হুঙ্কার, তাদের হাঁকডাকে আমাদের কিছু আসে-যায় না। আমরা তাদের ১৯৭১ সালে পরাস্ত করে বিদায় করে দিয়েছি। তাদের কথা চিন্তাও করতে চাই না। তাদের কথা স্মরণও করতে চাই না।’

আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কারণে বাংলাদেশ পাকিস্তানে সার্ক সম্মেলনে যায়নি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেটাও আপনারা দেখেছেন। কাজেই হাঁকডাক যেখানে আছে সেখান থেকেই করবে, তাতে আমাদের কিছু আসে-যায় না।’

পাক-ভারত যুদ্ধ বাধলে বাংলাদেশ কার পাশে থাকবে- এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘ভারতের সাংবাদিক সাহেবরা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে ভারত যদি কোন অবস্থায় পড়ে বাংলাদেশের অবস্থান কি হবে? আমি তাদেরকে বলেছি, বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সবখানেই ভারত আমাদেরকে সহযোগিতা করছে। ভারত যখন আক্রান্ত হবে তখন নিশ্চয়ই আমরা ভারতের সঙ্গে থাকব। এটাতো স্বাভাবিক।’

অনুষ্ঠানে পুলিশ বাহিনীতে হেলিকপ্টার সংযোজন প্রসঙ্গ উঠে এলে তিনি বলেন, সন্ত্রাস দ্রুত নির্মূলে আমরা পুলিশ বাহিনীতে হেলিকপ্টার সংযোজন করতে চাই। সেক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের যে রকম বরাদ্দ দেওয়া হবে, যে রকম টাকা ছাড় পাবো সেভাবেই হেলিকপ্টার কিনবো।

অনুষ্ঠানে কোস্টগার্ডের জাহাজ কেনা ও জলসীমা পাহারা দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের জলসীমার পরিমাণ অনেক বেড়েছে। তাই এই সুবিস্তৃত জলসীমা পাহারা দেওয়া কোস্টগার্ডের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ । তাই সরকার কোস্টগার্ডের জন্য চারটি অত্যাধুনিক জাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে দুটি জাহাজ এ বছরেই আসছে। এগুলো কোস্টগার্ডের বহরে যুক্ত হবে। এ চারটি জাহাজ পেলে আমাদের কোস্টগার্ড আধুনিক হবে এবং বিশ্বের যে কোনও কোস্ট গার্ডের সঙ্গে তা সমান তালে সমুদ্রসীমা পাহারা দিতে পারবে।

বিএসআরএফের সভাপতি শ্যামল সরকারের সভাপতিত্বে সংলাপে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম শামীম চৌধুরী, বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক ছিদ্দিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।