জাতীয়

ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের জন্য ৯৬ মেঃ টন চাল বরাদ্দ

BIPU LALMONIRHAT PHOTOলালমনিরহাট থেকে মাজহারুল ইসলাম বিপু:উজান থেকে নেসে আসা আর অব্যাহত ভারী বর্ষনে লালমনিরহাটে বন্যার পর এখন তিস্তা ও ধরলা নদীর তীর বর্তী এলাকাগুলো ভাঙ্গতে শুরু করেছে। বন্যা ও নদীভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের জন্য সরকার ৯৬ মেঃ টন চাল বরাদ্দ করা হলেও ৯০ টন চাল প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেনের নির্বাচনী এলাকায় বরাদ্দ করায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে প্রশাসন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করেছে।প্রতি বছর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল আর অব্যাহত বর্ষনে জেলার ৫টি উপজেলায় ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দেয়। এতে জেলার হাজার হাজার ঘরবাড়ী, পাকা রাস্তাঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, আবাদী ফসলের মাঠ, নদী গর্ভে বিলিী হয়ে পড়ে। ফলে তিস্তা পারের মানুষ নিঃস্ব হয়ে যায়। অনেকে মাথার গোজার ঠাই পর্যন্ত নেই আবার অনেকে বাধে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। জেলার ৪৫টি ইউনিয়নের মধ্যে রাজপুর, খুনিয়াগাছ, মহিষখোচা, মোগলহাট, কুলাঘাট, গোকুন্ডা, ভোটমারী, তুষভান্ডার কাকিনাসহ গোড্ডি মারী, সিংগীমারী, সিন্দুনা, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ীসহ ২০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজার ৭৫ শতাংশ নদী গর্ভে চলে গেছে। তিস্তা পাড়ের মানুষ এর শোক কেটে উঠতে না উঠতে গত কয়েক দিনের অব্যাহত বর্ষনে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে পানির স্রোতে আবারো শুরু হয়েছে তিস্তা নদীর ভাঙ্গন। ইতিমধ্যে শতাধিক ঘরবাড়ী, গাছপালা,আবাদী ফসলের মাঠ নদী গর্ভে বিলিীন হয়ে গেছে। আতংকেত বাস করছে তিস্তা পাড়ের মানুষ। আবার কখন সহায় সম্বলটুকু নদী গর্ভে চলে যায়।জেলায় বন্যা ও নদীভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের জন্য সরকার ৯৬ মেঃ টন চাল বরাদ্দ করা হলেও গণশিক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেনের নির্বাচনী এলাকা পাটগ্রাম উপজেলায় ৬০ মেঃ টন ও হাতীবান্ধা উপজেলায় ৩০ মেঃটন , যথাক্রমে পাটগ্রাম ও হাতিবান্ধা উপজেলায় ৯০ মেঃ টন চাল। লালমনিরহাট সদরে ৩০ কেজি কম ৬ মেঃ টন, আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলায় কোন ক্ষয়রাতির চাল বরাদ্দ করা হয়নি। এনিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে ইউ, পি চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের মধ্যে চরম ক্ষোভ আর হতাশ দেখা দিয়েছে। গণশিক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেনের নির্বাচনী এলাকায় বরাদ্দ করায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের মাঝেও দেখা দিয়েছে ক্ষোভ আর হতাশা। তাদের দাবী বন্যা ও নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের মাঝে জরুরী ভিত্তিতে ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ করা হোক। এ ব্যাপারে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলায় বন্যা ও নদী ভাঙ্গন বেশী হওয়ায় সেখানে বরাদ্দ বেশী তাছাড়া আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বন্যা ও নদী ভাঙ্গনে কোন পত্র প্রেরণ না করায় সেখানে বরাদ্দ পায়নি।