জাতীয় বরিশাল

এমপি রনি!সাংবাদিক নির্যাতনের মাধ্যমেই যার পরিচিতি!

roni MPনিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী:গলাচিপা-দশমিনা উপজেলা থেকে নির্বাচিত সাংসদ গোলাম মাওলা রনির পরিচিতি অর্জনের পিছনে রয়েছে সাংবাদিক নির্যাতনের লম্বা ইতিহাস। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মহাজোট সরকার গঠনের এক বছরের মাথায় সে সাংবাদিক নির্যাতন করে এবং সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজী ও মানহানিসহ বিভিন্ন ধরণের মামলা-হামলা ও সাংবাদিকদের মোবাইল ফোনে হুমকি দেয়ার মাধ্যমে খবরের শিরোনামে আসেন এমপি রনি। মহাজোট সরকারের এমপিদের মধ্যে প্রথম সাংবাদিক নির্যাতনকারী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে আসেন রনি। এরপর ইলোক্ট্রেনিক মিডিয়ায় টক-শোতে অংশ নিয়ে চমকপ্রদ ও নিজ দলের সমালোচনাসহ মিস্টি মিস্টি বক্তব্য দেয়ার মাধ্যমে সবার দৃষ্টি কারেন তিনি।

২০০৮ সালে প্রথম বরের মতো গোলাম মাওলা রনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এক বছরের মধ্যে তার নির্বাচনী এলাকা গলাচিপা নদীর তীর ভরাট করে মার্কেট নির্মান শুরু করেন। একইসঙ্গে গলাচিপা উলানিয়া নদীর তীর ভরাট ও দখল করে তার বাহিনী। এ নিয়ে ২০০৯ সালের ২১ আগস্ট থেকে দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এমপি রনি ২৩ সেপ্টেম্বর মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের হুমকী ও তাদের বিরুদ্ধে গলাচিপা থানায় ৪ টি মামলা দায়ের করেন। এলাকা ছাড়া করেন অনেক সাংবাদিককে। আর তখন থেকেই গোলাম মাওলা রনি ভাইয়া বাহিনীর প্রধান হিসেবে সাংবাদিকদের কাছে আতংকের নামে পরিনত হন।

এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে ২৮ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী থেকে একটি সাংবাদিক প্রতিনিধি দল যায় গলাচিপায়। এ সময় আরটিভি ও বাংলাভিশন প্রতিনিধি গলাচিপা খেয়াঘাট পৌছলে এমপি রনির ভাইয়া বাহিনীর ক্যাডররা তাদের ওপর চড়াও হয়। তাদের ক্যামেরা, মোটরসাইকেলসহ সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। একইসঙ্গে শারিরিক ভাবে তাদের লাঞ্ছি¦ত করেন ভাইয়াবাহিনী প্রধান এমপির শ্যালক মকবুল ও ক্যাডার মামুনসহ অন্যরা। পরে গলাচিপা থানার পুলিশ গিয়ে ওই দুই সাংবাদিককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এবিষয় ওই সাংবাদিকরা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ এমপি রনির অনুমতি না পাওয়া সারাদিন বসিয়ে রেখে সাংবাদিকদের মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে জেলা থেকে যাওয়া সাংবাদিক প্রতিনিধি দলকে নিরাপত্তা দিতে গলাচিপা থানা পুলিশ অসহায়াত্ব প্রকাশ করে। পরে সাংবাদিকদের অনুরোধে পটুয়াখালী থেকে র‌্যাব সদস্যরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করে পটুয়াখালী নিয়ে আসেন।

এ সব ঘটন নিয়ে পত্রিকার শিরোনাম হন এমপি রনি। পাশাপাশি টিভি চ্যানেলগুলোতেও তার পরিচয় প্রকাশ পায়। ব্যাপক লেখালেখি ও ইলেক্ট্রোনিক মিডিয়াতে তার বিরুদ্ধে ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ওই সময় প্রশ্ন উঠলে ঘটনার ২৬দিন পর গলাচিপা থানা পুলিশ সাংবাদিকদের মামলা গ্রহন করতে বাধ্য হন। কিন্তু এর দু’দিন পরই গলাচিপার প্রথম আলো ও আমারদেশ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমপির ক্যাডাররা ধর্ষণ, ছিনতাই ও চাঁদাবাজীর ৩টি মামলা করে। বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রধান শিরোনাম হন এমপি রনি। এরপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ৩ নভেম্বর প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, যুগান্তর নির্বাহী সম্পাদক সাইফুল আলমসহ জাতীয় ও পটুয়াখালী-গলাচিপার স্থানীয় ১১ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ঢাকায় একশকোটি টাকা মানহানির মামলা করেন এমপি রনি। এবারও আলোচনায় এমপি রনি। এভাবে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রোনিক মিডিয়ার মাধ্যমে সাংবাদিক নির্যাতনকারী এমপি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন রনি।

সাংবাদিক নির্যাতনের বিষয়ে পটুয়াখালীপ্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক নেতা আবুজাফর খান বলেন, সাংসদ রনি এখনও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা জিয়িয়ে রেখেছেন। আমরা মফস্বল সাংবাদিকরা তার ছোবল থেকে রক্ষা না পেয়ে হতাশ ছিলাম এতদিন। আমরা চাই সাংবাদিক নির্যাতনের দৃস্টান্ত মূলক বিচার হোক। তবে এবার নতুন করে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিক নিজ হাতে পিটিয়ে তার পুরান চরিত্রেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন বলেও মনে করেন এই সাংবাদিক নেতা।

পটুয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আলমগীর বলেন, ‘‘গোলাম মাওলা রনি উগ্র মৌলবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। তিনি যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ভাইর ছেলে। আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারী। দলকে বিতর্কিত করতে ও আওয়ামলীগের সু-নাম নষ্ট করতেই এমপি রনি ইনডেপেনডেন্ট টিভির সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিবেন বলে আমাদের বিশ্বাস। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।