জাতীয় ঢাকা

প্রমোশনে শর্ত শিথিল করবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

National-university-sm20130721032715স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজটোয়েন্টিফোর.কম,ঢাকা: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবর্ষের পরীক্ষায় গ্রেডিং পদ্ধতিতে প্রকাশিত অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বদরুজ্জামান এ কথা জানান। রোববার দুপুরে তিনি হটনিউজকে বলেন, ‘দ্বিতীয় বর্ষে ওঠার শর্ত শিথিল করার চিন্তাভাবনা করছে কর্তৃপক্ষ।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১১ সালের অনার্স পার্ট-১ পরীক্ষার ফল গত ১৫ জুলাই প্রকাশিত হয়। প্রথমবারের মতো গ্রেডিং সিস্টেমে প্রকাশিত ফলে শতকরা ৪৬ ভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য (নট প্রমোটেড) হন। ফলে দ্বিতীয় বর্ষে উঠতে পারছেন না প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী।

গ্রেডিং পদ্ধতির নিয়মানুযায়ী কোনো শিক্ষার্থী প্রথমবর্ষের ফলাফলে জিপিএ ১.৭৫ পয়েন্ট পেলে দ্বিতীয়বর্ষে ওঠার সুযোগ পাবে। ২০০৯-২০১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে গ্রেডিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল।

সনাতন পদ্ধতিতে কোনো শিক্ষার্থী একটি বিষয়ে পাস করেও দ্বিতীয়বর্ষে ওঠার সুযোগ পেতো। কিন্তু গ্রেডিং পদ্ধতিতে ফল প্রকাশে শর্ত জুড়ে দেওয়ায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন এবং দ্বিতীয়বর্ষে উঠতে পারছে না বলে অভিযোগ করছেন তারা।

ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী আন্দোলনে নামে। তারা ফল সংশোধনসহ গ্রেডিং পদ্ধতি বাতিলেরও দাবি জানান।

রোববার গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, আগে এক বিষয়ে পাস করেও পরবর্তী বর্ষে উঠে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু এবার তা না করে তাদের ফেল করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, নতুন পদ্ধতিতে ফলাফল প্রকাশে ভুল করা হয়েছে। এতে ভালো পরীক্ষা দিয়েও যেমন ফেল ফলাফল এসেছে, তেমনি পরীক্ষা না দিয়েও শিক্ষার্থীর ফলাফলে পাস দেখানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের আগে থেকে এই নীতিমালার কথা জানানো হয়নি। এ পদ্ধতিতে এবার ফল প্রকাশ করা হবে, তা অনেক শিক্ষার্থীই আগে জানতেন না। এর আগে ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে অটো প্রমোশন দিয়ে ফলাফল বিপর্যয় আড়াল করা হয়েছে। এবার অটো প্রমোশন প্রত্যাহার করা হয়।

রাজধানীর তিতুমীর কলেজের ছাত্র রিয়াজুল ইসলাম জানান, সর্বাধিক চারটি বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়েও তারা এবার দ্বিতীয় বর্ষে উঠতে পারছেন না। ফলে, তাদের শিক্ষাজীবন এখন মারাত্মক ক্ষতির মুখে।

শিক্ষার্থীরা এক বিষয়ে পাস করলে প্রমোশন দিয়ে স্পেশাল মানোন্নয়ন পরীক্ষার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেডিং সিস্টেমে পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত পদ্ধতি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য শুধু বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি নয়, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিক্ষা ব্যবস্থা ও পদ্ধতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে মানসম্পন্ন গ্রাজুয়েট তৈরিও। সেক্ষেত্রে পরীক্ষার নিয়ম-কানুন অনুসরণ তাদের কল্যাণেই আবশ্যক। শুধু সার্টিফিকেট নিয়ে যে বেশিদূর অগ্রসর হওয়া যাবে না, এটি তাদের বুঝতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যাতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অনার্স পার্ট-২ এ লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত না হয় এবং তাদের অভিভাবকদের উপর বাড়তি চাপ না পড়ে সে বিবেচনায় খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান করে কালক্ষেপণ না করে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।