খুলনা শিক্ষাঙ্গন

আবারও অনিশ্চিত খুবির জীববিজ্ঞান স্কুলের পরীক্ষা!

Khulna-KU-bg20130719142512স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজটোয়েন্টিফোরবিডি.কম,খুলনা: উচ্চ আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও আগামী ২৪ জুলাই নির্ধারিত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) জীববিজ্ঞান স্কুলের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা গ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নির্বাহী কমিটির কিছু সদস্য ও শিক্ষকদের একাংশের অসহযোগিতার ফলে এ অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।দুই দুই বার নির্বাহী কমিটির সভা থাকলেও কয়েকজন সদস্য ও সংশ্লিষ্ট স্কুলের কয়েকজন শিক্ষকের আপত্তি ও অনেকটা বাধার মুখে তা করা সম্ভব হয়নি।জানা গেছে, খুবির জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. সমীর কুমার সাধু ছুটি শেষে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করে বৃহস্পতিবার নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। নির্বাহী কমিটির কয়েকজন সদস্য ও সংশ্লিষ্ট স্কুলের কয়েকজন শিক্ষকের আপত্তি ও অনেকটা বাধার মুখে তিনি সভা করতে পারেননি। তিনি বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে লিখিতভাবে ওই দিনই জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।এর আগে ডিনের চলতি দায়িত্বে থাকা উপাচার্য ১৬ জুলাই এক দফা নির্বাহী কমিটির সভা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাকেও নির্বাহী কমিটির সভা করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি বাধার কারণে তিনি ডিনের রুমেও ঢুকতে পারেননি বলে জানা গেছে।

গত ১০ জুলাই উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩ সপ্তাহের মধ্যে এ পরীক্ষা গ্রহণের কথা রয়েছে। ফলে রোববার বা সোমবারের মধ্যে নির্বাহী কমিটির সভা করা না গেলে আদালতের নির্দেশনা কোনোভাবেই কার্যকর করা যাবে না এবং সে ক্ষেত্রে আদালত অবমাননার মতো ঘটনা ঘটবে।ফলে জীববিজ্ঞান স্কুলের শিক্ষার্থীদের ঈদের আগে আর পরীক্ষা হবে না। তাদেরকে নিরাশ হয়ে ঈদে বাড়ি ফিরতে হবে- এমনটিও মনে করছেন কেউ কেউ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অফিসের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, স্কুলের ৭টি ডিসিপ্লিনের সকল বর্ষের স্নাতক ২য় টার্ম এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণীর ১ম/২য় টার্মের পরীক্ষা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জীববিজ্ঞান স্কুলের নির্বাহী কমিটির ৮০তম সভা (জরুরি) আহবান করা হয়।ডিন প্রফেসর ড. সমীর কুমার সাধু যথাসময়ে সভায় যোগদানের জন্য অফিস রুমে প্রবেশকালে নির্বাহী কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য এবং জীববিজ্ঞান স্কুলের কিছু শিক্ষক করিডোরে দাঁড়িয়ে ডিন নিয়োগের বিষয়ে আদালতের রুলের কথা উল্লেখ করে নির্বাহী কমিটির সভা না করার জন্য চাপ দেন।উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপস্থিত শিক্ষকদের আপত্তির মুখে নির্বাহী কমিটির সভা করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি প্রশাসনকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানান।এদিকে জীববিজ্ঞান স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম না প্রকাশ করার শর্তে হটনিউজকে বলেন, ডিন পদ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কিছু শিক্ষকদের এ বিরোধ আমাদের শিক্ষাজীবনকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। মাসের পর মাস আমরা সেশনজটে আটকা পড়ছি।

তারা আরও বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অবস্থা এর আগে কখনও দেখিনি। আমরা পরীক্ষার জন্য টানা চার দিন অনশন করলাম, মুমূর্ষু হলাম। যার কারণে গত ১০ জুলাই ভিসি স্যারসহ ৭ জন ডিসিপ্লিন প্রধান ২৪ জুলাই থেকে পরীক্ষা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে অনশন ভাঙ্গালেন। পরে হাইকোর্টের নির্দেশনার কথা শুনে আশায় বুক বাঁধলাম। এখন দেখছি, ওই আশ্বাসও রক্ষা হচ্ছে না। তাহলে এবার কি পরীক্ষা গ্রহণে আমাদের শিক্ষকরা আমাদের জীবন চান? জীবন দিয়েই কি আমাদের পরীক্ষা গ্রহণে তাদের রাজি করাতে হবে?বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান হটনিউজকে বলেন, আমি এখনও আশা করছি, জীববিজ্ঞান স্কুলের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে যথাসময়ে পরীক্ষা নেবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যকে উঁচু করে দেখবেন।তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে কমপক্ষে যদি একটি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয় হলে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ওয়াদা রক্ষা করা সম্ভব হবে, তেমনি অন্যদিকে স্বস্তি পাবে শিক্ষার্থীরা।