আন্তর্জাতিক

অনৈক্যই দ.এশিয়ায় বন্যা সতর্কীকরণে বড় বাধা

Flood-bg-120130719071929নিউজ ডেস্ক,হটনিউজটোয়েন্টিফোরবিডি.কম,ঢাকা: অনৈক্য ও অসহযোগিতামূলক মনোভাবের কারণেই সময়মত বন্যার পূর্বাভাষ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে থাকা দক্ষিণ এশীয় রাষ্ট্রগুলো । ফলে বিপুল প্রাণহানি এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে।
শুধু সময়মত পূর্বাভাষ আদান প্রদান সম্ভব হলে ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালের বন্যাপ্রবণ এলাকার অসংখ্য মানুষের প্রাণ এবং সম্পদ রক্ষা পেত।
শুক্রবার বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বন্যা নিয়ন্ত্রণে মূলত এ অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগ এবং তথ্য আদান-প্রদানের ঘাটতির কথা উঠে আসে।
দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যার অন্যতম একটি কারণ হলো অতিবৃষ্টি। অতিবৃষ্টির কারণে এই অঞ্চলে প্রায়ই মারাত্মক বন্যা দেখা দেয়। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ভারতের উত্তরাখণ্ড এবং নেপালের বন্যা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
কিন্তু পানি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে বৃষ্টিপাত ও বন্যার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কীয় (হাইড্রোলজি) কোন তথ্য আদান-প্রদানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে এক ধরনের অনীহা দেখা যায়।
অবশ্য সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তারা অনুধাবন করছেন, বন্যা ও নদীর পানির প্রবাহের তথ্য আদান প্রদানের জন্য এ অঞ্চলে একটি আলাদা নেটওয়ার্ক প্রয়োজন।
গত মাসে হয়ে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার কথা উল্লেখ করে পশ্চিম নেপালের দারচুলা জেলার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা চিরঞ্জীবী অধিকারী বলেন, “বন্যা সম্পর্কে আমরা ভারতের পক্ষ থেকে কোন পূর্ব সতর্কীকরণ পাইনি।” নেপালের এ অঞ্চলটি ভারতের উত্তরাখণ্ড সংলগ্ন হওয়ায় সেখানেও ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়।
গত মাসের ওই বন্যায় ভারতের উত্তরাখণ্ডের প্রায় সহস্রাধিক লোক প্রাণ হারান। এখনও নিখোঁজ আছেন কয়েক হাজার মানুষ।
অধিকারী বিবিসিকে আরও জানান,“আমরা বন্যার কারণ সম্পর্কে জানতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগে চেষ্টা করছি, কিন্তু তাদের সঙ্গে এখনও টেলিফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।”
একইভাবে ২০১০ সালে কাবুল নদীর প্লাবন থেকে পাকিস্তানে সংঘটিত ভয়াবহ বন্যার উদাহরণও টানা যায়।
আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের সীমান্তের অনেকটা পথ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বন্যাপ্রবণ এই নদীর পানি প্রবাহের পূর্বাভাষ আদান প্রদানের ক্ষেত্রে দেশদু’টির মধ্যে কোনো ব্যবস্থা নেই।
এ ব্যাপারে পাকিস্তানের প্রধান আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ রিয়াজ বলেন, “অবশ্যই কাবুল নদী আমাদের জন্য হুমকি, কিন্তু দুই দেশের মধ্যে বৃষ্টিপাত কিংবা বন্যা সম্পর্কিত কোন তথ্য আদান প্রদানের ব্যবস্থা নেই।”
সমস্যা সমাধানে নীতি নির্ধারণী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এছাড়া ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেও তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। চাইলেই পাকিস্তানের পক্ষে ভারত থেকে তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়। আর যেটুকু তথ্য পাওয়া যায়, সেটা বন্যা পূর্বাভাষের জন্য যথেষ্ট নয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে আসে বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতিও। বেশ কয়েকটি অভিন্ন নদী ভাগাভাগি করলেও নদীর প্রবাহ কিংবা বন্যার পূর্বাভাষ সম্পর্কে বাংলাদেশ নেপাল কিংবা ভারত থেকে খুব কমই তথ্য পায়।
এ ব্যাপারে নেপালের কর্মকর্তারা জানান, আগে ফ্যাক্সের মাধ্যমে ঢাকায় তথ্য পাঠানো হলেও বর্তমানে কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে।
তবে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, বন্যা ও নদীর পানি প্রবাহ সংক্রান্ত তথ্য আদান প্রদানের ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে গঙ্গার তিনটি এবং ব্রহ্মপুত্রের চারটি বন্যা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে তথ্য পেয়ে থাকে বাংলাদেশ।
এছাড়া ব্রহ্মপুত্রের বন্যা পরিস্থিতির ওপর চীনা নিয়ন্ত্রিত তিব্বত থেকেও নিয়মিত তথ্য পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আমিরুল হোসেন।
তবে আরও অগ্রবর্তী তথ্যের জন্য তিনি ভারতের থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি বলেন,“যেহেতু আমাদের দেশের লোকজন কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগেই বন্যার ব্যাপারে আগাম সতর্কীকরণ তথ্য পেতে চায়, তাই আমাদের প্রয়োজন ভারতের থেকে প্রাপ্ত তথ্য।”
তবে নদীর পানি ভাগাভাগি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরোধ থাকায় এ সংক্রান্ত তথ্য আদান প্রদান একটি স্পর্শকাতর বিষয়।
এসব সমস্যা তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, একমাত্র সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতামূলক মনোভাব এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রসমূহের উর্ধ্বতন মহলের পদক্ষেপ গ্রহণই এ সমস্যার সমাধান করতে পারে।