আন্তর্জাতিক প্রধান খবর

মেয়ের জন্য দোয়া চাইলেন শেখ রেহানা

photoনেপুর মিয়া, লন্ডন থেকে, হটনিউজ টোয়েন্টিফোরবিডি. কম:লন্ডনের যে আসনটিতে টিউলিপ সিদ্দিক নির্বাচন করতে যাচ্ছেন, মেয়ের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে এসে সেই এলাকা নিয়ে স্মৃতিকাতর হলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একমাত্র বোনকে সচরাচর গণমাধ্যমের সামনে আসতে দেখা না গেলেও লন্ডনে বৃহস্পতিবার মেয়ের সঙ্গে ছিলেন তিনি।কিলবার্নের একটি রেস্তোরাঁয় ওই সংবাদ সম্মেলনে মেয়ের পক্ষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি পঁচাত্তরের ট্রাজেডির পর কিলবার্নে থাকার স্মৃতিও উঠে আসে রেহানার কথায়।যুক্তরাজ্যের আগামী নির্বাচনে লেবার পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত করা টিউলিপই বলে ওঠেন কিলবার্ন নিয়ে নিজের স্মৃতি এবং সেই সঙ্গে মায়েরও।“আপনারা এটা নাও জানতে পারেন। ১৯৭৫ এর পর বাংলাদেশে পুরো পরিবার যখন মারা গেলেন, আমার মা এখানে এসেছিলেন। জাস্ট এই রাস্তার পাশের রাস্তায় ছিলেন।”বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সময় দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ছিলেন জার্মানিতে। এরপর ছোট বোন শেখ রেহানার নির্বাসিত জীবনের প্রায় পুরোটাই কাটে লন্ডনে।কীভাবে কেটেছিল সেই দিনগুলো, তা উঠে আসে আজকের প্রধানমন্ত্রীর বোনের কথায়।“তখন এই রাস্তায় সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত আমি চাকরি খুঁজতে বেরুতাম। কারণ আমার থাকার জায়গা ছিল না। খাওয়ার কিছু ছিল না। কোথায় যাব, কী করব?”১৯৭৭ সালে কিলবার্নেই ড. শফিক সিদ্দিকের সঙ্গে বিয়ে হয় শেখ রেহানার।“এই দোতলা এর আশপাশ অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। সেটা অনেক বছর আগের কথা,” এখনকার অবস্থা দেখে বলেন তিনি।“যেদিন শুনলাম ও (টিউলিপ) কিলবার্ন থেকে মনোনীত হচ্ছে, এক রকম খুশির একটা আমেজ…।”সদ্য বিবাহিত টিউলিপও স্বামী ক্রিস্টিয়ান পার্সিকে নিয়ে কিলবার্নেই থাকেন। সব কিছু মিলিয়ে তারও পছন্দের এলাকা এটি।“অনেকে জিজ্ঞাস করে, তুমি এখানে দাঁড়ালে কেন। হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্নে। আমি তো বড় হয়েছি হ্যাম্পস্টেড কিলবার্ন এলাকায়। আমি এখানে স্কুলে পড়ছি, এখানে আমি আমার হাসবেন্ডের সঙ্গে থাকি।”

হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনে লেবার পার্টির মনোনয়ন গত রোববার নিশ্চিত করেন শেখ হাসিনার ভাগ্নি। প্রতিদ্বন্দ্বী দুজনকে হারিয়ে অভ্যন্তরীণ ভোটাভুটিতে জয়ী হন ৩১ বছর বয়সি টিউলিপ।মা শেখ রেহানা বলেন, “ও নিজস্ব প্রচেষ্টায় এত দূর এসেছে। এখানে আমার কোনো সাহায্য নেই।“অমুকের ভাগনি, অমুকের মেয়ে কিছুই না। এটা তার নিজের যোগ্যতায়, নিজের কর্মফল।”

“আপনারা ওকে দোয়া করবেন, যেন নানার নাম রাখতে পারে।”“ওর নানা বলতেন, পৃথিবীতে যেখানে অসহায় মানুষ আছে, মানুষ মানুষকে সাহায্য করবে। তাহলেই মানুষ মনের শান্তি পাবে এবং তিনি নিজেও শান্তি পাবেন,” বাবা বঙ্গবন্ধুর কথাও আসে তার কণ্ঠে।টিউলিপ নিজেও বলেছেন, নিজের চেষ্টায়ই রাজনীতিতে সফল হতে চান তিনি। দেশে না থেকে প্রবাসে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে তার যুক্তি- “আমি যদি বাংলাদেশে গিয়ে দাঁড়াতাম, আপনারাই কিন্তু বলতেন, ডায়নেস্টি পলিটিকস।”শেখ রেহানা বলেন, মেয়েদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো হস্তক্ষেপ করেননি তিনি।ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডন থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী টিউলিপের ছোট বেলাও উঠে আসে মায়ের কথায়।“ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে আমি বসতাম। পাশেই ছোট বাচ্চাদের, প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের একটা ইউনিট ছিল। তো হঠাৎ ওকে খুঁজে পাচ্ছি না। দেখি ও সেখানে গিয়ে বাচ্চাদের সঙ্গে .. তাদেরকে রাইমস পড়াচ্ছে।”“ছোটবেলা থেকেই ও (টিউলিপ) অন্য লোকের, অন্য জনের সেবা করার জন্য, সেই নীতিতেই সে বিশ্বাসী।”রাজনীতির জটিল পথে পা রাখা মেয়ে যেন সব কিছু সামলে উঠতে পারে, সে জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন শেখ রেহানা।