শেরপুর সারাদেশ

বন্দুকযুদ্ধে জেএমবির সামরিক প্রধানসহ নিহত ২

বন্দুকযুদ্ধে জেএমবির সামরিক প্রধানসহ নিহত ২

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া অফিস ॥ জেলার শেরপুর উপজেলার বিশালপুরে রবিবার রাতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিষিদ্ধ জেএমবির উত্তরাঞ্চলের সামরিক কমান্ডার খালিদ হাসান ওরফে বদর মামা (৩২) ও আরেক সদস্য রিপন (৩০) নিহত হয়েছে। এ সময় ১টি বিদেশী পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি, ম্যাগজিন, ধারাল অস্ত্র ও গ্রেনেড তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার হয়। খালিদ হাসানের বাড়ি রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের হামিদপুরে এবং রিপনের বাড়ি রাজশাহীতে বোয়ালিয়া এলাকায়।

পুলিশ জানায়, রবিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে শেরপুরের নয়লাপাড়া মোড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবির বেশ কিছু সদস্য নাশকতার জন্য সমবেত হচ্ছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল বগুড়ায় বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা পরিচালনা করা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় জঙ্গীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। দু’পক্ষের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টা গোলাগুলি হয়। এরই মধ্যে কয়েকজন জঙ্গী পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ গুলিবিদ্ধ ২ জঙ্গীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই জঙ্গীকে মৃত ঘোষণা করেন। শেরপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, জঙ্গীবিরোধী এই অভিযানে গোলাগুলির সময় দুই পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়। তারা হলো- মোত্তালেব ও বাবুল আকতার। নিহত দুই জঙ্গীর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত খালিদ দিনাজপুরে ইতালীয় নাগরিক ড. পিয়েরি হত্যা চেষ্টা মামলা এবং ইসকন ও কান্তাজির মন্দিরে হামলাসহ সেখানকার ৪টি মামলার আসামি। এর মধ্যে ২টি দিনাজপুর সদর থানা ও ২টি কাহারোল থানার মামলা। অপর জঙ্গী রিপন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক রেজাউল করিম হত্যাকা-ের পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত ছিল। জঙ্গী রিপনের বাড়িতেই রেজাউল করিম হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সেখানে বাইক হাসান, সুভাস, খালেদ ও হলি আর্টিজান হোটেলে নিহত বাঁধন ছিল। জঙ্গীদের এই কিলিং স্কোয়াড অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যায় অংশ নেয়।

এদিকে বিভিন্ন সূত্রের খবর, ঢাকায় নারায়ণগঞ্জে হলি আর্টিজানের মাইন্ড মাস্টার তামিমসহ দুইজন নিহত হওয়ার পর কথিত জেএমবির সদস্যরা সারাদেশে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তামিমের সঙ্গেও বগুড়ায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুইজনের সম্পর্ক থাকতে পারে। এদিকে কথিত জেএমবির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও বিচারে মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়া সিদ্দিকুল ইসলামের (বাংলা ভাই নামে অধিক পরিচিত) বাড়ি বগুড়ায় হওয়ায় এই এলাকায় কথিত জেএমবির সদস্যদের বিচরণ ছিল। যা এখনও আছে। বগুড়াকে বেজ করে কথিত জেএমবি পুনর্গঠনের পালায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত উত্তরাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডার খালিদ হাসান ওরফে বদর মামা বগুড়ায় জেএমবি সংগঠিত করছিল বলে জানা যায়। তার কিছু প্রমাণও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পেয়েছে।

গত এপ্রিল মাসের তিন তারিখে সন্ধ্যায় শেরপুরের জোয়ানপুর কুটিরভিটা গ্রামের এক বাড়িতে বিকট শব্দে বোমা বিস্ফোরিত হলে এলাকার লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে দেখতে পায় বোমা বানাবার সময় দুই তরুণ নিহত হয়েছে। ওই বাড়ি থেকে বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উচ্চ ক্ষমতার জেল গ্রেনেড ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। নিহতদের একজন ছিল তরিকুল ইসলাম জুয়েল। বাড়ি সিরাজগঞ্জ। আরেকজনের পরিচয় পাওয়া যায় প্রায় দেড় মাস পর। তার নাম রাইসুল ইসলাম খান ওরফে ফারদিন। সে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জেএমবির সামরিক প্রধান ছিল। তার শ্বশুরবাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুরে।

রবিবার রাতে শেরপুরেই কথিত জেএমবির উত্তরাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডার খালিদ হাসান বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর পুলিশের ধারণা সে এবং নিহত রিপন এই এলাকাতেই জঙ্গী সংগঠিত করার জন্য এসেছিল। ইতোপূর্বে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে যত হামলা হয়েছে তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল খালিদ ও রিপন। পুলিশ তাদের দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিল। বিশেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক রেজাউল করিম হত্যাকা-ের পরিকল্পনা করা হয় রিপনের বাগমারা বাড়িতে। সেখানে খালিদ, বাইক হাসানসহ অন্যরা ছিল। রেজাউল করিম হত্যাকা-ে তারা অংশ নেয়। গত ২৩ এপ্রিল রাজশাহীতে শালবাগান এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে অধ্যাপক রেজাউল করিমকে জবাই করে হত্যা করা হয়। কিছুদিন আগে এই হত্যাকা-ে জড়িত বাইক হাসান বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। তার বাড়ি গাইবান্ধা। রাজশাহী পুলিশ জানায়, এ হত্যাকা-ে আরও একজনের নাম এসেছে তার নাম শরিফুল ইসলাম। তাকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

গত বছর নবেম্বর মাসে বগুড়ার শিবগঞ্জে শিয়া মসজিদে এশার নামাজের সময় হামলা করে এক মুসল্লিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার সঙ্গে কথিত জেএমবি জড়িত। পুলিশের ধারণা বন্দুকযুদ্ধে নিহত খালিদ মিয়া মসজিদে হামলাকারীদের একজন। স্থানীয়রা তখন জানিয়েছিল, মোটরসাইকেলযোগে তিন যুবক এসে মসজিদে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় খালিদ হাসানকে সন্দেহ করার অন্যতম কারণ ছিল সে এর আগে দিনাজপুরে ইতালীয় নাগরিক পিয়েরি হত্যা চেষ্টা, ইসকন ও কান্তজীর মন্দিরে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল।

পুলিশ জানায়, এই এলাকায় জঙ্গীদের আস্তানা খুঁজে বের করে অভিযান চালানো শুরু হয়েছে।