জাতীয় ঢাকা

রাতের যানজটে নাকাল যাত্রাবাড়ী

Jatrabare-bg20130718191005হটনিউজটোয়েন্টিফোরবিডি.কম,ঢাকা: নির্মাণ কাজের কছ্ছপ গতীর কারণে যাত্রাবাড়ী থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত নির্মাণাধীন ‘মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার’ এলাকায় রাতের বেলায়ও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। মধ্য রাতে ফ্লাইওভারের তিন দিকে যাত্রীসহ মালামাল পরিবহনকারী আটকে থাকা শত শত গাড়ির সারি ভোগান্তির কথাই জানান দেয়।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে যাত্রাবাড়ী রাজধানী মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফ্লাইওভারের নিচে সড়কের একদিকে দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। একদিকে ছাড়লে আরেক দিকে বন্ধ থাকে যান চলাচল। ফলে বেড়ে যায় যানজট।

যানচালক, ট্রাফিক পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম সড়ক হয়ে যাত্রাবাড়ী দিয়ে রাজধানীতে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে রয়েছে দূরপাল্লার বাস-ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান। ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজের ধীর গতি, ট্রাফিক ব্যবস্থার দ‍ূর্বলতা ও যত্রতত্র দোকানপাট যানজটের কারণ।

রাতের মধ্যেই যাত্রাবাড়ী রাজধানী মার্কেট থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে গোপীবাগ, টিকাটুলি এবং যাত্রাবাড়ী পূর্ব সিগন্যাল পর্যন্ত যানজট লেগে আছে। এসব যানবাহনের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ছাড়াও রয়েছে দূর পাল্লার বাস। ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজের জন্য এক পথে গাড়ি চলাচল করতে পারে।

তিন পথের মিলনস্থল রাজধানী মার্কেট এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের যানজট সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। ফ্লাইওভারের নিচে নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত গাড়ি, ভাঙাচোরা ও খানখন্দে ভরা রাস্তার পাশে অবৈধ দোকানপাট এবং পার্কিং করে রাখা গাড়ি যানজট আরো বাড়িয়ে দেয়। আর দিনের বেলায় প্রকট যানজট গড়ির সারি আরো দীর্ঘ করে তোলে।

রাত একটার দিকে রাজধানী মার্কেট সিগন্যালে দায়িত্ব পালন করছিলেন ডেমরা ট্রাফিক জোনের টিএসআই মো. ফারুক। তিনি হটনিউজকে জানান, তিন দিকে থাকা ট্রাফিক সদস্যদের সঙ্গে ওয়াকিটকিতে যোগাযোগ করে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

ওই এলাকায় ১০ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে থাকা টঙ্গী থেকে আসা ‘বেস্ট তুরাগ’ পরিবহনের সুপারভাইজার শান্ত হটনিউজকে জানান, প্রতিদিনই ফ্লাইওভারের নিচে এক পথে চলাচলের রাস্তার জন্য আধাঘণ্টারও বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ফ্লাইওভার দ্রুত নির্মাণ শেষ হলে সমস্যা থাকবে না বলে মনে করেন শান্ত।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০১৩ সালের ৩০ জুন। তবে প্রকল্প মেয়াদের আগেই এটি শেষ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

এ বছরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে ফ্লাইওভার উদ্বোধন করার কথা ছিল। তারও আগে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ফ্লাইওভারটির কার্যক্রম উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। সে সময় জানানো হয়েছিল, রাজধানীবাসীর জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ অব্যাহত রাখতেই এই প্রকল্পে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যাত্রাবাড়ী সড়ক পরিদর্শন এবং ফ্লাইওভারের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেপ্টেম্বরে যান চলাচলের জন্য ফ্লাইওভার খুলে দেওয়া হবে।’

ফ্লাইওভার নির্মাণের পাশাপাশি ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের দুর্বলতার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এবং স্থানীয় সরকারের আওতাধীন ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টিকে সার্বক্ষণিক আমার নজরদারিতে রয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, ঢাকার প্রবেশমুখ ছাড়াও দুটি টার্মিনালের কারণে এই এলাকায় যানবাহনের চাপ বেশি। ট্রাফিক ব্যবস্থা আরো সক্রিয় করার পাশাপাশি কাজের গতি বাড়িয়ে দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করা হলে নগরবাসী এ যানজট থেকে মুক্তি পাবে। এছাড়া রাজধানীতে যান চলাচল অনেক সহজ হবে।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফ্লাইওভার খুলে দেওয়ার জন্য রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তিনশ কর্মী। ফ্লাইওভারের একটি অংশের অবকাঠামো নির্মাণকারী ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের এক প্রকৌশলী হটনিউজকে বলেন, ‘সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আশা করা যাচ্ছে ২/৩ মাসের মধ্যে নির্মাণ শেষ হবে।’