অপরাধ খুলনা

শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ৭ রক্ষীকে স্ট্যান্ড রিলিজ

S5_ Central-Zailরিপন হোসেন যশোর থেকে :বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ৭ কারারক্ষীকে শাস্তিমূলক বদলী করা হয়েছে। একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত কারাগারে মাদক সরবরাহ, চিহ্নিত অপরাধীদের কাছে মোবাইল ফোন সরবরাহ, মহিলা করারক্ষীদের নির্যাতন করা, কারা দর্শনার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় ও তা আতœসাত এবং কারা ক্যান্টিনের টাকা আতœসাতসহ একাধিক অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে বলে জানা গেছে।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে অনিয়ম, দূর্নীতি কোন নতুন ঘটনা নয়। তবে সম্প্রতি এই বিষয়গুলো মারাতœক আকার ধারন করেছে। নানা প্রকারের অনিয়ম আর কারা কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার কারনে ভেঙ্গে পড়েছে কারা প্রশাসন। যা নিয়ে কারা স্টাফদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। অবস্থা অব্যাহত থাকলে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের অঘটন- এমন আশংকা খোদ কারা কর্তৃপক্ষের। তার পরও অবস্থার উন্নয়নে তেমন কিছুই করতে পারছেন না স্থানীয় কারা কর্তৃপক্ষ। সূত্র বলছে, এসব অনিয়ম দূর্নীতির সাথে কারা প্রশাসনের উধ্বতন কর্মকর্তারাই সরাসরি ভাবে জড়িত। তাদের আশকারা পেয়ে কতিপয় কারা রক্ষী ধরাকে সরা জ্ঞান করেছেন। যার কারনে গোটা কারাগারে বিরাজ করছে অসন্তোষ।

সম্প্রতি কারা অভ্যান্তরে হিরোইন , ফেনসিডিল ও গাঁজা সরবরাহ করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়েন করারক্ষী মনির হোসেন। তার কয়েক দিন আগে কুখ্যাত সন্ত্রাসী চরমপন্থি পূর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির আঞ্চলিক প্রধান শিমুলের কাছে অর্থের বিনিময়ে মোবাইল ফোন সরবরাহ করে ধরা পড়েন কারারক্ষী হাবিবুর রহমান। এছাড়া দর্শনার্থীদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে দীর্ঘ দিন কারারক্ষীরা মোটা অংকের টাকা আদায় করছে যার কোন সঠিক হিসাব নেই। এদিকে সম্প্রতি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ২ জন পুরুষ কারারক্ষীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন একজন মহিলা কারারক্ষী। অপরদিকে কারাগারের অভ্যান্তরে অবস্থিত কারা ক্যান্টিনের হিসাব রক্ষক মিয়া সাহেব আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে ক্যান্টিনের কয়েক লাখ টাকা আতœসাতের অভিযোগ রয়েছে। একই সাথে তার বিরুদ্ধে কয়েদি ও আসামীদের সাথে চরম দূর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। একই সাথে আসামী ও কয়েদীদের জমাকৃত টাকাও নানা অজুহাতে কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। অপরদিকে অর্থের বিনিময়ে রোগীদের হাসপাতালে পোষ্টিং, ভালো ভালো খাবার সরবরাহ ও নিয়ম না থাকলেও অবাধে বাইরের খাবার কারাগারের ভেতরে ঢোকানোসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে বার বার কারা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সত্বেও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় কারা রক্ষীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। একই সাথে ভুয়া জামিন নামায় একাধিক আসামীকে কারামুক্ত করার চক্রান্তের সাথেও অভিযুক্ত কারারক্ষীদের যোগসাযোশ রয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনা তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির তদন্ত রিপোটের ভিত্তিতেই গতকাল যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী উজ্জল মিয়া, আলী রেজা, আব্দুল আলিম,সাইফুল ইসলাম,মনির হোসেন,জামাল উদ্দিন ও হাবিবুর রহমানকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। বিভাগী পরিবর্তন করে এসব কারারক্ষীদের চট্রগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন কারাগারে বদলী করা হয়েছে। এদিকে গতকাল সকালে এই বদলীর আদেশ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছালে কারারক্ষীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অনেকে এই আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করলেও অধিকাংশ কারারক্ষী ও কয়েদীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তারা দোষী এত কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু যারা এসব কাররক্ষীদের দিয়ে এসব অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করিয়ে বাড়তি সুবিধা বা ফায়দা লুটেছেন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা অখুশি। এদিকে এ বিষয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র সুপার সিদ্দিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন নিয়ম মাফিক কারারক্ষীদের বদলি হয়েছে। এটা রুটিন ওয়ার্ক। এই বদলীজনিত কারনে কারাগারা কর্মকান্ডে কোন অসুবিধা হবে না। জেলর কামরুল ইসলাম বলেন, যশোর কারাগারটি মাদকমুক্ত কারাগার। এখানে মাদক সরবরাহরে কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া অর্থ আতœসাৎসহ যে সব অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। যাদেরকে বদলী করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন বিভাগীয় নান অভিযোগ ছিলো। কর্তৃপক্ষ ভালো মনে করেছে তাই বদলী করেছে। এত আমাদের কোন হাত নেই। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কারা কর্মকর্তা বলেন, হঠাৎ করে এ রকম একটি আদেশের ফলে জেল খানায় কিছুটা অসন্তোষ বিরাজ করছ্।ে