জাতীয় সিলেট সুনামগঞ্জ

ছাতকের সরকারের পুরষ্কার ঘোষিত খুনি সিফাত টঙ্গীতে গ্রেফতার

unnamed চান মিয়া, ছাতক,সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের ছাতকে সরকারের পুরষ্কার ষোষিত শীর্ষ খুনী মঈনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাতকে টঙ্গী পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বুধবার বেলা ২টায় গ্রেফতার করে তাকে টঙ্গী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ২০১০সালের ১৮এপ্রিল ছাতকের গোবিগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিজবুততাহরীরের লিফলেট বিতরনকালে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। তার বাড়ি ছাতকের কালারুকা ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে। সে মৃত আব্দুল কুদ্দুছের পুত্র। তার পিতা ও চাচা আওয়ামী ঘরানার থাকায় লিফলেটসহ হাতেনাতে গ্রেফতারের পরও সে জেল থেকে সহজেই ছাড়া পেয়ে আবারো জঙ্গী তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ে। ঢাকা ডিএমপি পুলিশ ১৯মে সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে সিফাতসহ ছয়জনের ছবিসহ বিস্তারিত তথ্য পাঠিয়ে পুলিশ তাদের ধরিয়ে দিতে ১৮লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। ঢাকা ‘ডিএমপি নিউজ পোর্টালে’ও তাদের ছবিসহ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। যে ছয়জনের ছবি ও নাম প্রকাশ করা হয়েছে তারা হলেন, এবিটির শীর্ষ পর্যায়ের সংগঠক (১) শরিফুল ওরফে সাকিব ওরফে শরিফ ওরফে সালেহ ওরফে আরিফ ওরফে হাদী ও (২) সেলিম ওরফে ইকবাল ওরফে মামুন ওরফে হাদী, সদস্য (৩) সিফাত ওরফে সামির ওরফে ইমরান ওরফে মঈনুল হাসান শামীম, (৪) আবদুস সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে সালমান ওরফে সাদ (৫) শিহাব ওরফে সুমন ওরফে সাইফুল ও (৬) সাজ্জাদ ওরফে সজীব ওরফে সিয়াম ওরফে শামস।
সরকারের ১৮লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষিত দেশের ছয়জন শীর্ষ জঙ্গির অন্যতম এবিটির সামরিক শাখার অন্যতম হচ্ছে সিফাত। ঢাকা কলাবাগানের জোড়া খুন, লেখক অভিজিৎ রায়, ফয়সল আরেফিন দীপন, নীলাদ্রি চ্যাটার্জি নিলয়, জবি ছাত্র নাজিমুদ্দিন সামাদসহ আট লেখক-প্রকাশক ও ব্লগার হত্যায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে শনাক্ত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এদের মধ্যে ধৃত সিফাত অন্যতম খুনি হিসেবে পুলিশের সন্দেহের তালিকায় ছিল। পুলিশ বলছে, শনাক্ত হওয়া ছয়জন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সক্রিয় সদস্য। কোন হত্যার ঘটনায় কারা কীভাবে জড়িত ছিল, সেই ব্যাখ্যাও দেয় ডিএমপি পুলিশ। এ প্রথম উগ্রপন্থিদের তথ্যসহ ছবি প্রকাশ করে ধরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে ১৮লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এর আগে নববর্ষে টিএসসিতে শ্লীলতাহানি ও মতিঝিলে জামায়াত-শিবিরের ভাংচুরের ঘটনায় জড়িতদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
পুলিশের প্রেসনোটে বলা হয়- একাধিক হত্যায় জড়িত সিফাত : এবিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সিফাত। তিনি সংগঠনে শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান নামেও পরিচিত। তার বাড়ি সিলেট অঞ্চলে। তিনি সংগঠনের সামরিক শাখার অন্যতম সদস্য। আজিজ সুপার মার্কেটে দীপন হত্যা, সাভারে শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিয়াদ মোর্শেদ বাবু হত্যাকান্ডে তার সরাসরি অংশগ্রহনের বিষয়টি পাওয়া যায়। সিফাত এসব কিলিং মিশনের সার্বিক সমন্বয়কারী ও জড়িতদের প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। তার ব্যাপারে তথ্যদাতাকে দুই লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। অবশেষে ২৪আগষ্ট বুধবার সিফাতকে টঙ্গী পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ছাতক থানার মামলা নং-১০, তাং-১৮.০৪.২০১০ইং রুজু করা হয়েছিল। পরে জামিনে বেরিয়ে এসে দীর্ঘ প্রায় ৬বছর এমামলায় সুনামগঞ্জ আদালতে হাজিরা না দেয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তাকে জঙ্গি লিফলেট বিতরনকালে গ্রেফতারের পর ছাতক থানা পুলিশ বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করে। জামিনে আসার পর সে এবিটে সংগঠনের সাথে জড়িয়ে পড়ে।