খুলনা রাজনীতি

টানা ৪ দিনের হরতালে স্থবির স্থলবন্দর বেনাপোল

27072012033532pmBENAPOLE_EXPORT_TRUCK_JAMরিপন হোসেন, যশোর থেকে:জামায়াত শিবিরের ডাকা টানা চার দিনের হরতালে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল। হরতালে বন্দরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও সম্ভব হচ্ছেনা ওই পণ্য পরিবহন। এতে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। আর চার দিনে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৪ কোটি টাকা। বিরাজমান পরিস্থিতিতে বিদায়ী অর্থবছরের মতো এবারও এ বন্দরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা বন্দর কর্তৃপক্ষের।

হরতাল চলাকালে বেনাপোল থেকে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় বন্দরের শুল্কগুদাম থেকে পণ্য খালাস নিতে পারেন না ব্যবসায়ীরা। দু’একটি শেডে মালামাল লোড হলেও হরতালের কারণে ট্রাকগুলো ছেড়ে যেতে পাড়ছে না। গত সোমবার থেকে চলছে এমন অচলাবস্থা। এতে আমদানি ও রফতানিকারকদের একদিকে যেমন পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি সময়মত পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তারা।

আমদানি কারক কামরুজ্জামান স্বপন বলেন, দেশীয় শিল্প কারখানার প্রায় ৭০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানি হয় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। এ বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় আমদানিনির্ভর শিল্প কারখানাগুলো পড়েছে উৎপাদন হুমকিতে। তাছাড়া চার দিনের হরতালের এ বন্দরে প্রায় ৪৪ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। (প্রতি দিন ১১ কোটি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য থাকে কর্তৃপক্ষের। আর ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩৫০ কোটি টাকা) এভাবে চলতে থাকলে গত অর্থবছরের মতো এবারও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে কি না তা নিয়ে সংসয়ে রয়েছেন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু বলেন,হরতালের কারণে কাজ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন বন্দরের শ্রমিক ও ট্রাক চালকরা।

যশোর চেম্বার অব কমার্স সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, সামনে ঈদ। এই মুহুর্তে টানা হরতালে ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। যার প্রভাব পড়বে বাজারে।

হরতালে সরকার বিশেষ ব্যবস্থায় দেশের সর্ববৃহৎ এ স্থল বন্দরের যাবতীয় কার্যক্রম সচল রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছে বন্দর ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্টদের।