অর্থ ও বাণিজ্য ঢাকা

চার দিনের হরতালে ঈদ বাজারে ধস

C-1020130718044639হটনিউজ২৪বিডি.কম,অর্থনৈতিক প্রতিবেদক,ঢাকা: রোজা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোয় শুরু হয় ঈদের কেনাকাটা। সারা বছরের ব্যবসায়িক আয়ের বড় একটি অংশ আসে এ সময়ের কেনাকাটা থেকে।
গত বছর রমজানের শুরুতে মার্কেটগুলোয় ছিল ক্রেতার উপচে পড়া ভিড়। ব্যবসায়ীরা আশা করেছিলেন, এ বছরও তেমনটি হবে।
কিন্তু জামায়াতের ডাকা হরতালের কারণে পাঁচদিনের হরতালে ক্রেতা যাচ্ছে না বিপণিবিতানে। এতে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল ঈদের ব্যবসা।
হরতালে বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটের অধিকাংশই বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবারও কোন মার্কেট খুলেনি। কোনো কোন মার্কেটের সামনের অংশ বন্ধ রাখলেও ভেতরে দোকান খোলা রাখা হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতা নেই। এছাড়া অনেকে জানেন না, মার্কেট খোলা না বন্ধ। তাই কেনাকাটা করতে এসেও অনেকে ফিরে যাচ্ছেন।
বড় মার্কেট বন্ধ থাকলেও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ব্যবসা করছেন। তবে লোকজন কম থাকায় তাদের ব্যবসাও হচ্ছে না। রাজধানীর মালিবাগ থেকে মৌচাক মার্কেট পর্যন্ত ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা দোকান সাজিয়ে বসেছেন। তবে বেচাকেনা হচ্ছে না বলে তারা জানান।
এদিকে ফার্মগেট, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের সামনের ফুটপাতে গতকালও দোকান খোলেন ব্যবসায়ীরা। হরতালের কারণে দিনের বেলায় তাদের আশানুরূপ ব্যবসা হয়নি।
জানা গেছে, একের পর এক হরতালে রফতানি বাণিজ্যও থমকে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, হরতাল অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। তবে টানা চার দিনের হরতাল দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় ধরনের ক্ষতি করছে। এমনকি ঈদের আগে এ ধাক্কা কোনোভাবেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির বলেন, হরতাল দেশের উন্নয়নের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর বিদ্যমান টানা হরতালে এর প্রভাব আরো নেতিবাচক। রমজান মাস অনেক ব্যবসায়ীর ব্যবসা করার একটা ভালো সময়। অথচ এবার এ সময়ের সদ্ব্যবহার করতে পারছেন না তারা।
অন্যদিকে হরতালের আওতার বাইরে থাকলেও তৈরি পোশাক রফতানিও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জানা গেছে, পোশাকের কাপড় তৈরি হয়েছে; কিন্তু সেলাইয়ের কাজ শুরু করতে কারখানায় কাপড় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এভাবেই তৈরি পোশাক তৈরির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে পণ্য তৈরিতে বিলম্ব হচ্ছে। আর সময়মতো জাহাজীকরণও সম্ভব হচ্ছে না।
হরতালের করণে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যমান টানা হরতালে নিত্যপণ্যের দামের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে।
বিনিয়োগ বোর্ড সূত্র অনুযায়ী, চলমান হরতালে পূর্বনির্ধারিত বেশ কয়েকটি সভা বাতিল করেছেন বিদেশী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এর মধ্যে অনেকেই সভা আগামী মাসে করার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি সবুর খান বলেন, এ সময়ে হরতালের সব দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। ব্যবসায়ীরা সারা বছর যে ব্যবসা করে তার অনেকাংশই নির্ভর করে রমজান ও ঈদের ওপর।
বড় ব্যবসায়ীদের চেয়ে ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হবে। কারণ তারা স্বল্প পুঁজি নিয়ে রমজানে ব্যবসা করতে আসেন। তাদের ওপর বড় ধরনের একটি প্রভাব পড়বে। রাত-দিন কাজ করে বা দিনের ২৪ ঘণ্টা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান খোলা রেখেও হয়তো এ প্রভাব কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না।
বিজিএমইএর সহসভাপতি রিয়াজ বিন মাহমুদ বলেন, ‘এর আগেই আমরা জানিয়েছি, এক দিনের হরতালে আমাদের ৩০০ কোটি টাকার ওপরে ক্ষতি হয়। যেহেতু এখন রমজান মাস, তাই কাজের চাপ বেশি। পরপর হরতালে আমাদের কাজ অনেকটাই বন্ধ হয়ে আছে।
কোথাও মালপত্র পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আমরা কীভাবে ঈদের বেতন বা বোনাস দেব, তা বুঝে উঠতে পারছি না।’