খেলা

আইপিএল এ ¯পট ফিক্সিং বিতর্কের ৬০ দিন পেরিয়ে গেছে

1খেলাধূলা : ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)-এ ¯পট ফিক্সিং বিতর্কের পর পেরিয়ে গেছে ৬০দিন। পুরো ভারতীয় ক্রিকেট অঙ্গণকে কাঁপিয়ে ফেলা এ ধরনের বিতর্ক আগে কখনো দেখা যায়নি। দিল্লি এবং মুম্বাই পুলিশ সন্দেহভাজনদের ধরার জন্য চেষ্টার ত্র“টি করেনি। টেস্ট ক্রিকেটার এস শ্রীশান্তসহ আইপিএলের দল রাজস্থান রয়্যালসের তার দুই টিমমেট অজিত চান্ডিলা এবং অংকিত চ্যবন গ্রেফতার হয় পুলিশের হাতে।
¯পট ফিক্সিংয়ের এই ধাক্কা ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাসের মতো। বলিউড সেলিব্রেটি থেকে শুরু করে দলগুলোর মালিকদের নাম পর্যন্ত শোনা যায় এই জঘন্য কাণ্ডে। স্বল্প সময়ের জন্য বলিউডে অভিনয় করা বিন্দু দারা সিং এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি (বর্তমানে দায়িত্বের বাইরে) এন শ্রীনিবাসনের মেয়ের জামাতা গুরুনাথ মেয়াপ্পন গ্রেফতার হন। তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে ¯পট ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জোরালোভাবে নাম আসে রাজস্থান রয়্যালসের মালিক বলিউড সেলিব্রেটি শিল্পা শেঠী এবং তার স্বামী রাজ কুন্দ্রার। সূত্র বলছে , এই মামলায় প্রথম চার্জশিট দেয়ার আগে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)-এর সঙ্গে চূড়ান্ত যাচাই বাছাইয়ের কাজ করছে পুলিশ।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জালে এতসব নামীদামী ব্যক্তিবর্গ ধরা পড়লেও তাদের ভাগ্যে কি ঘটতে যাচ্ছে, তা জানা যাচ্ছে না। এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে বেশ কিছুদিন। ফিক্সিংয়ের এই কুশীলবদের বর্তমান অবস্থান জানার লোভ সম্ববত কেউই সংবরণ করতে পারবেন না।
এরই মধ্যে দিল্লি পুলিশের তদন্ত বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এই কাণ্ডে অভিযুক্ত ১৯ জনের মধ্যে এস শ্রীশান্ত এবং চ্যবনসহ ১০ জনকে জামিন দিয়েছেন দিল্লির একটি আদালত। অবশ্য পুলিশের ভাষায় ‘নাটের গুরু’ অজিত চান্ডিলা এখনো আটক আছেন জেলখানায়।
শ্রীশান্ত:
২৭দিন হাজতবাসের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। দূর্দান্ত এই ফাস্ট বোলারটি কয়েকদিন আগে ভাইরাস জনিত জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। হাসপাতাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমসকে তিনি বলেছেন, আমি বিসিসিআইকে পুরো গল্পটা শুনিয়েছি। গত ২৭টা দিন আমার সঙ্গে একজন দাগী অপরাধী এবং একজন খুনী আসামির ন্যায় আচরণ করা হয়েছে।
খালাস পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, আমার কাছে অবৈধ কোনো অর্থ নেই। প্রতিটা কাণাকড়ি পর্যন্ত আমার বৈধভাবে উপার্জিত স¤পদ এবং প্রতিটা রুপীর ট্যাক্স পরিশোধ করা হয়েছে। আকাশে বাতাসে এখন মালয়ালম সিনেমা ‘বিগ পিকচার’-এ শ্রীশান্তের অভিনয়ের খবরটাই সবচেয়ে বহুল প্রচারিত।
অংকিত চ্যবন:
আইপিএল বিতর্ক চলাকালেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন অংকিত চ্যবন। বিবাহের জন্য তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনও দেয়া হয়েছিল। এরপর আদালতে আত্মসমর্পন করলে তাকে জেল হাজতে নেয়া হয়। ১০ জুন তিনি শ্রীশান্তের সাথে পুনরায় জামিন লাভ করেন। নব পরিণীতা স্ত্রী’র সাথেই যে তিনি সময় কাটাচ্ছেন, এটা পরিষ্কার।
চ্যবনের এক আত্মীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, অংকিত যতটা সম্ভব তার পরিবারের সাথে সময় কাটাতে চাইছে। কঠিন সময়ে কেটেছে তার। পুলিশ হেফাজতে নির্ঘুম রজনী কাটাতে হয়েছে। এখন সে
আরাম করতে চায়।
আবারো ক্রিকেটে ফেরার অনুমতি পাবেন বলে আদালতের রায় প্রত্যাশা করছেন চ্যবন। দুর্ভাগা এই খেলোয়াড়টি বলেছেন, আমি বরাবরই শতভাগ উজাড় করে দিতে চেয়েছি। অনেক ধৈর্য নিয়ে ক্রিকেট খেলেছি। আশা করছি আবারো ক্রিকেটে ফেরার বিষয়ে বিচার বিভাগ থেকে ইতিবাচক রায় পাব।
অজিত চান্ডিলা:
রাজস্থান রয়্যালসের এই ক্রিকেটারটি এখনো জেল হাজতে আছেন। দিল্লির আদালতে শুনানির অপেক্ষায় আছে তার জামিনের আবেদন। আইপিএল-এর ¯পট ফিক্সিং কান্ডের ‘মূল হোতা’ হিসাবে তার জামিনের তীব্র বিরোধিতা করছে দিল্লি পুলিশ। ‘আন্ডার ওয়ার্ল্ড’-এর ডন দাউদ ইব্রাহীমের অবৈধ সিন্ডিকেটের হয়েও চান্ডিলা কাজ করেন বলে বিশ্বাস করে দিল্লি পুলিশ।
গুরুনাথ মিয়াপ্পন এবং বিন্দু দারা সিং:
বিসিসি আইয়ের সাবেক সভাপতি এন শ্রীনিবাসনের জামাতা গুরুনাথ মিয়াপ্পন ছিলেন চেন্নাই সুপার কিংসের প্রধান ব্যক্তি। হাজতবাসের পর বিগত ৪ জুন ছাড়া পান তিনি। তামিলনাড়– পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আবারো সমন পাঠাচ্ছে। তিনি এবং বিন্দু দারা সিং-এর বিরুদ্ধে নতুন কিছু তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানাচ্ছে তামিলনাড়–র গোয়েন্দা দপ্তর।
¯পট ফিক্সিংয়ে মিয়াপ্পনের হয়ে বাজি ধরার বিষয় স্বীকার করেন বিন্দু দারা সিং। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ মে গ্রেফতার হয়ে হাজতবাসের পর ৪ জুন মুম্বাইয়ের একটি আদালত থেকে জামিন লাভ করেন মুম্বাইয়ের এই অভিনেতা।
রাজ কুন্দ্রা ও শিল্পা শেঠী:
আইপিএল ¯পট ফিক্সিংয়ে রাজস্থান রয়্যালসের এই দুই সহ -অংশীদারের জড়িত থাকার বিষয়ে মিডিয়াতে ব্যাপক আলোচনার ঝড় ওঠার পর তারা লন্ডনে উড়ে গেছেন ছুটি কাটাতে। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী দু’জনের এই ট্রিপটা নাকি বেশ আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। রাজ কুন্দ্রার পাসপোর্ট পুলিশ বাজেয়াপ্ত করার কারণে তা সম্ভব হয়নি। লন্ডনে সপ্তাহখানেক কাটিয়ে তাদের পর্তুগালে লম্বা সময় কাটানোর পরিকল্পনা রয়েছে।