জাতীয় ঢাকা

জাজমেন্ট না পড়েই টকশোতে কথা

 war-tribunalsm-120130717004129হটনিউজটোয়েন্টিফোরবিডি.কম,ট্রাইব্যুনাল থেকে: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় নিয়ে টেলিভিশনের টকশো’তে যারা আলোচনা করেন তারা জাজমেন্ট না পড়েই কথা বলেন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান ওবায়দুল হাসান শাহীন।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় পড়া শুরুর আগে প্রাক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এ বিচারপতি বলেন, আমরা দেখেছি বিভিন্ন রায়ের পরে টেলিভিশনে টক শো হয়। আমাদের মনে হয় যারা টেলিভিশনে মন্তব্য করেন তারা জাজমেন্ট পড়েন না।

তিনি বলেন, আমরাতো টকশো তে গিয়ে জবাব দিতে পারি না। আমরা এখানে কথা বলতে পারি তাই, এখানেই কথা বলছি।

কাদের মোল্লার রায় নিয়ে তিনি বলেন, মামলাটি এখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আছে। তারা যদি আমাদের রায়কে সমর্থন করেন তাহলে সেটা সবার জন্য মেন্ডেটরি হবে। যারা কথা বলেন তাদের মাথায় রাখতে হবে বিষয়টি সাবজুডিস (বিচারাধীন)।

এ বিচারপতি বলেন, রাস্তায় যারা স্লোগান দেন ‘ফাঁসি ফাঁসি’ বলে, আমার অনুরোধ তারা এটা থেকে বিরত থাকবেন। এটা সবার জন্য প্রযোজ্য।

তিনি বলেন, একটি কথা মনে রাখতে হবে, আদালতের হাত অনেক লম্বা। আদালতের ওপর আঘাত করলে সেটা বাংলাদেশের যে সীমানাতেই হোক তাদেরকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে পারেন আদালত। বাংলাদেশের আদালত, এই ট্রাইব্যুনাল এবং বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট সে ক্ষমতা রাখে।

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মামলার রায় ১১টা ২ মিনিটে পড়া শুরু হয়। বিচারক প্যানেলের সদস্য শাহিনুর ইসলাম প্রথম অংশ পড়া শুরু করেন।

২০৯ পৃষ্ঠার রায়ে মোট ৬৫৮টি প্যারাগ্রাফ রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ পৃষ্ঠা পড়বেন বিচারকরা।

রায়ের দ্বিতীয় অংশ পড়বেন বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া ও শেষ অংশ অর্থাৎ মূল রায় পাঠ করবেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীন।

এর আগে সকাল দশটা ৫০ মিনিটে ১২ মিনিটের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীন। দশটা ৪৮ মিনিটে বিচারকরা আসন নেন এজলাসকক্ষে।

সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে আসামির কাঠগড়ায় তোলা হয় আসামি মুজাহিদকে। তার পরনে রয়েছে সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা।

সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের করা হয় মুজাহিদকে। এরপর একটি সাদা মাইক্রোবাসযোগে তাকে আনা হয় ট্রাইব্যুনালে। ৯টা ৪০ মিনিটে ট্রাইব্যুনালে এনে তাকে রাখা হয় ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায়। পরে তাকে নেওয়া হয় এজলাসকক্ষে।