জাতীয় ঢাকা

শেষদিকে বিচলিত হয়ে পড়েন মুজাহিদ

mozahid-sm20130717024140স্টাফ স্টাফ করেসপনডেন্ট,হটনিউজটোয়েন্টিফোরবিডি.কম,ঢাকা: একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা শেষ হয় ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে। রায় ঘোষণার শুরুর দিকে মুজাহিদকে প্রাণবন্ত দেখালেও শেষদিকে তাকে বেশ বিচলিত ও উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছিল।

মৃত্যদণ্ডের রায় ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতিরা যখন এজলাস থেকে যখন উঠে যাচ্ছিলেন, তখন আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ানো মুজাহিদ জনাকীর্ণ আদালতে উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, ইসলামী আন্দোলন করাই আমার অপরাধ হয়েছে। এটি হচ্ছে অবিচার, ইনজাস্টিস।

এরপর তিনি আরবিতে দোয়া পড়তে থাকেন।

মুজাহিদের বিরুদ্ধে আনা ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টি প্রমাণিত হয়েছে এবং ২টি প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পারেননি বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১, ৩, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং ২ ও ৪ নম্বর অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পারেননি। প্রমাণিত ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড, ১ ও ৫ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন এবং ৩ নম্বর অভিযোগে ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রমাণিত না হওয়া ২ ও ৪ নম্বর অভিযোগে খালাস পেয়েছেন মুজাহিদ।

রায় ঘোষণার পর মুজাহিদের তিন ছেলে আলী আহমেদ তাজদীক, আলী আহমেদ তাহদীক, আলী আহমেদ মাবরুর এবং পুলিশ তাকে কাঠগড়া থেকে নামিয়ে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নিয়ে আসেন। হাজতখানায় আগে থেকেই ছিলেন অপর মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরী। মুজাহিদ সালাউদ্দিনের সঙ্গে রায় নিয়ে কথা বলতে থাকেন।

মুজাহিদের পরনে ছিল সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি, হাতে কালো ঘড়ি, চোখে সোনালি ফ্রেমের চশমা, পায়ে ধূসর রঙের জুতা।

এর আগে অ্যাম্বুলেন্সে করে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে তাকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়। ১০টা ৪০ মিনিটে এজলাসের কাঠগড়ায় ওঠানো হয়। ১০টা ৪৫ মিনিটে তিনি আসামিপক্ষের একজন আইনজীবীর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলেন। এ সময় তাকে বেশ প্রাণবন্ত ও উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল। তিনি পকেট থেকে চিরুনি বের করে দাড়ি ও চুল আঁচড়ান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুইন্যাল-২ এর তিন বিচারপতি তখনও এজলাসে আসেননি।

১০টা ৪৮ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে বিচারপতিরা এজলাসে আসার পর চেয়ারম্যান ভূমিকা দিয়ে সূচনা বক্তব্য শুরু করেন। এ সময় মুজাহিদ এজলাসের কাঠগড়ায় হেলান দিয়ে বসা ছিলেন।

২০৯ পৃষ্ঠার মূল রায়ের সারাংশ ৩৭ পৃষ্ঠার প্রথম অংশ পড়া শুরু করেন বিচারপতি শাহীনূর ইসলাম। রায় পড়া শুরু করার পর আসামি মুজাহিদ কাঠগড়ায় হাত ঠেকিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে মনযোগ দিয়ে রায় শুনতে থাকেন। রায় পড়ার পুরো সময় তিনি কখনো হেলান দিয়ে, কখনো কনুইয়ে ভর দিয়ে, কখনো সামনের দিকে ঝুঁকে মনযোগ দিয়ে রায় শোনেন।

বেলা ১২টা ২০ মিনিটে বিচারক প্যানেলের সদস্য বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া ৭ নম্বর অভিযোগের রায় পড়ার সময় মুজাহিদ অনেকক্ষণ ওপরের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। এ সময় তিনি কিছু একটা বলার চেষ্টা করেন বিচারপতিদের। কিন্তু ততোক্ষণে সারাংশের তৃতীয় ও শেষ অংশ পড়া শুরু করে দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, যে কারণে মুজাহিদ আর কিছু বলার সুযোগ পাননি।

চূড়ান্ত রায় পড়া শুরু হলে তাকে বিচলিত ও উদ্বিগ্ন দেখায়। কাঠগড়ার ঠিক সামনের আসনে বসা ছিলেন তার তিন ছেলে। তারা কিছুক্ষণ পরপরই তাদের বাবার দিকে তাকিয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।