অপরাধ ঢাকা

কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগ

download (4)মিয়া মোঃ নোমান, টাঙ্গাইল:টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন ও মির্জাপুর কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রায় ছয় কোটি টাকা মুল্যের জায়গা দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মির্জাপুর শহরের প্রানকেন্দ্র মির্জাপুর থানার কাছে প্রায় ১৪ শতাংশ জায়গা দখল করে সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন এবং কলেজ অধ্যক্ষ সালাহউদ্দিন বাবর সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে জমির উপর দেয়াল নির্মান ও বেশ কয়েকটি দোকানঘর নির্মান করেছে।

সংসদ সদস্য ও কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জায়গা দখলসহ এসব অভিযোগ করেছেন আমেরিকা প্রবাসী এক ব্যাক্তি। গতকাল সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে লিখিত বক্তব্যে প্রবাসী নাফিজ আহমেদ জুয়েল অভিযোগ করেন, তার বাবা টাঙ্গাইল শহরের পুর্ব-আদালত পাড়ার বাসিন্দা জালাল উদ্দিন আহম্মেদ ১৯৬২ সালে মির্জাপুর বাইমহাটি মৌজার ২৪ শতাংশ জায়গা ক্রয় করেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে বিভিন্ন ব্যাক্তির কাছে ১০ শতাংশ জায়গা বিক্রি করে দেন। অবশিষ্ঠ ১৪ শতাংশ জায়গা ১৯৯৩ সালে জালাল উদ্দিন তার ছোট ছেলে মাহাবুব হাসানকে হেবা দলিল করে দেন। এরপর ১৪ শতাংশ থেকে মাত্র ০১ শতাংশ জমি বিক্রি এবং ৬.৫ শতাংশ জমি নাফিজ আহম্মেদ জুয়েলকে হেবা দলিল করে দেন মাহাবুব হাসান। এরপর বিগত ২০১২ সালে নিঃসন্তান মাহাবুব হাসান এক স্ত্রী রেখে মারা যান। ওয়ারিশ হিসেবে তার ৬.৫ শতাংশ জমির মালিক হন এক স্ত্রী, দুই ভাই ও তিন বোন। অর্থাৎ দশমিক ৬৯ শতাংশ করে জমির মালিক হন বোনেরা। গত কয়েক বছর আগে আমেরিকা প্রবাসী নাফিজ আহম্মেদ জুয়েল প্রায় চার ফুট পরিমান উচুঁ দেয়াল নির্মান করেন।

সম্প্রতি দেশে ফিরে জায়গার কাছে গিয়ে দেখতে পান স্থানীয় সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন ও মির্জাপুর কলেজের অধ্যক্ষ সালাউদ্দিন বাবর তাদের নামে সাইন বোর্ড টাঙ্গিয়ে উচুঁ দেয়াল নির্মান করে সেখানে বেশ কয়েকটি দোকান ঘর নির্মান করা হয়েছে।

এব্যাপারে প্রবাসী নাফিজ আহম্মেদ জুয়েল মির্জাপুর কলেজের অধ্যক্ষ সালাহউদ্দিন বাবরের কাছে যোগাযোগ করলে ওই জায়গা ক্রয় করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বলেন আপনার দুই বোনের কাছ থেকে এ জায়গা কিনে নিয়েছি। অথচ জায়গা কেনার কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি একাব্বর হোসেন। সাংবাদিক সন্মেলনে নাফিজ আহম্মেদ জুয়েল দাবি করেন, দখল করা জায়গার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ছয় কোটি টাকা।