ঢাকা প্রধান খবর

আরপিওতে আ’লীগের সুপারিশেই আস্থা ইসির

12320130715191130সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট,হটনিউজটোয়েন্টিফোরবিডি.কম,ঢাকা: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) চূড়ান্ত করে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সংশোধনীতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে করা ইসির সংলাপে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দেওয়া বেশিরভাগ সুপারিশকেই আমলে নিয়েছে ইসি।নতুন সংশোধনীতে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের জন্য নির্বাচনী কাজ সহজ করতে নির্বাচনকালীন অপরাধের শাস্তি কমানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ এ বিষয়ে হটনিউজকে বলেন, ‘আমরা আরপিও চূড়ান্ত করে একবার তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। মন্ত্রণালয় কিছু বিষয় নির্দিষ্ট করে আমাদের তা ঠিক করার জন্য আবার তা ফেরত পাঠায়। আমরা আবার তা চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।’সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী, আসন্ন দশম সংসদ নির্বাচনে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকছে না। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) বিদ্রোহী প্রার্থীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। আর সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল ও প্রার্থীর (দলীয়) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে দলের হাতে। চাইলেও কোনো প্রার্থী দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী হিসেবে নিজের প্রার্থিতা রক্ষা করতে পারবেন না।টাঙ্গাইল-৩ উপনির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পরাজয়ের পর ক্ষমতাসীন দল ইসির সংলাপে বিদ্রোহী প্রার্থী প্রথা বাতিলের বিধান রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের সুপারিশ করেছিল ইসির কাছে।

কিন্তু বিষয়টি আর আলোচনায় উঠে আসেনি। ইসির ওই রাজনৈতিক সংলাপে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ চারদলীয় জোটের কেউ-ই অংশ নেয়নি। ফলে তাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো মতামত পায়নি ইসি।নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ হটনিউজকে বলেন, ‘দশম সংসদ নির্বাচনে দল বা জোট একটি আসনে যাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে সেই শুধু প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। আর ওই আসনে দলের বা জোটের অন্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র অটো (স্বয়ংক্রিয়ভাবে) বাতিল হয়ে যাবে। এই বিধান আরপিও ১২ধারার ৩ (বি) উপধারায় সংযুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া আরপিও ২, ১৪ ও ২৫ ধারাও সংশোধন করা হয়েছে।’

এর মাধ্যমে মনোনয়পত্র দাখিল ও প্রত্যাহারের চূড়ান্ত ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে দলের হাতে। আর দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচনা থাকবে ইসির।এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ হটনিউজকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো সংলাপে এ ধরনের প্রস্তাব রেখেছে। তাই আরপিওতে ইসি এ বিধান যুক্ত করেছে।’

নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক এ বিষয়ে হটনিউজকে বলেন, ‘দলীয় প্রার্থীর বিষয়টি দলের কাছেই রাখার প্রস্তাব আমাদের। বাছাইয়ে একজনকেই বৈধতা দেবে সংশ্লিষ্ট দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিনে ওই দলের বাকিদের মনোনয়ন প্রত্যাহার হয়েছে বলেই ধরে নেওয়া হবে।’তবে স্বতন্ত্র নির্বাচনের বিধি আগের মতোই রাখা হয়েছে। যে কেউ দল থেকে পদত্যাগ করে এক ভাগ ভোটারের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে।

এর আগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, এক আসনে দলের সর্বোচ্চ ৫ প্রার্থীর নাম মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ ছিল। সেখান থেকে বাছাইয়ের পর দলের পক্ষ থেকে মনোনীত একজনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয় রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিন্তু বাছাইয়ে অন্যরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে করার কিছুই ছিল না ইসির।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন হটনিউজকে বলেন, ‘সাধারণত প্রার্থী বা তার এজেন্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা দলের এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাছাইয়ের পর বৈধ করলে অন্যদেরগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। কারণ, প্রতীক একজনকেই দিতে হবে। এরপরও অন্যরা সরে না দাঁড়ালে ঝামেলার সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে।’

বর্তমান উদ্যোগে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী আইনে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি দলগতভাবেও রয়েছে।’

এর আগে গত ৮ মে নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সংশোধনীর জন্যে ছোটোখাটো করণিক ত্রুটিসহ ৪৭টি বিষয় উল্লেখ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ মে আইন মন্ত্রণালয় পর্যবেক্ষণ করে ফের ইসির কাছে তা ফেরত পাঠান। ইসির প্রস্তাবের ৪৬টি বিষয়ে একমত পোষণ করে আইন মন্ত্রণালয় আটটি বিষয়ে রি-রাইট করতে বলে আর তিনটি বিষয়ের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে তা বাদ দিতে বলে।

সংশোধিত আরপিওতে নির্বাচনী ব্যয় ১৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ লাখ করার প্রস্তাবও করেছে ইসি। এছাড়া নিবন্ধনের শর্তগুলো প্রতিপালন না করলেও নিবন্ধন বাতিলের নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে আরপিওতে।

এছাড়া উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো নির্বাচনী আইন প্রয়োগ ও আচরনবিধি মানতে সবাইকে বাধ্য করতে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের অংশ গ্রহন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। এজন্য নির্বাচনী অপরাধের শাস্তি সাত বছর থেকে কমিয়ে পাঁচ বছর করার ও প্রস্তাব করা হয়েছে।