জাতীয় ঢাকা

বয়সী গোলাম আযমকে ফাঁসি থেকে বাঁচালো

image_764_221232হটনিউজ২৪বিডি.কম:মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হলেও বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় গোলাম আযমের রায়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এসেছে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে।মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলও এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছে বলে সংগঠনের কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন।সোমবার আদালত যুদ্ধাপরাধ পরিকল্পনার অপরাধে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয় ৯১ বছর বয়সী গোলাম আযমকে।রায়ে বিচারক বলেন, গোলাম আযম যে অপরাধ করেছেন তার সবকয়টিতে সর্বোচ্চ শাস্তিই তার প্রাপ্য। কিন্তু এই রায়ে বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা হয়েছে। একাত্তরে দুই নং সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকারী মুক্তিযোদ্ধা আকরাম হোসেন বলেন, “এই রায়ে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি আহত, দুঃখিত এবং লজ্জিত। গোলাম আযম ছিল একাত্তরের মূল খলনায়ক। একাত্তরে এই পরিমাণ হত্যা, লুটপাট, ধর্ষণের মূল নীল নকশা ছিল গোলাম আযমের। তার ফাঁসি হলো না। এই রায় আমরা মানি না।”আরেক মুক্তিযোদ্ধা সাইফুজ্জামান বলেন, “এই রায় কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যে ব্যক্তি একাত্তরে একের পর এক ঘৃণ্য মানবতাবিরোধী কাজ করেছে, স্বাধীনতার পরও পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটি গঠনের মাধ্যমে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, তার কেন ফাঁসি হবে না।রায় শোনার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এসেছেন মুক্তিযোদ্ধা দুর্গেশ দাস। মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন তিনিও।রায়ের প্রতিক্রিয়ায় এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, “আজকে আমরা যে আঘাত পেয়েছি তা আপনাদের বোঝাতে পারব না। একাত্তর সালে তার প্রত্যক্ষ নির্দেশে জামায়াতে ইসলামী ও পাকিস্তানি সেনারা দেশের সূর্যসন্তানদের হত্যা করেছে। যদি সাঈদী, কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় হতে পারে তবে গোলাম আজমের কেন ফাঁসির রায় হবে না?”মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “একাত্তরে প্রত্যাকটি মানবতাবিরোধী কাজের পেছনে তার (গোলাম আযমের) ইন্ধন ছিল। সে যদি না থাকত তাহলে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর পক্ষে এত ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সম্ভব হত না। রাজাকার, আলবদর আলশামস বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা এই গোলাম আযম। আর তার ফাঁসি হল না! ট্রাইব্যুনালের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে, কিন্তু এই রায় মুক্তিযোদ্ধা, দেশপ্রেমিকদের পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব নয়।”রায়ের দিন সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল ভবনের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্যরা। রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত শান্তভাবে অবস্থান করলেও রায় শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল ভবন থেকে ‍একজন ব্যাক্তি বের হয়ে ফটকের সামনে রাখা গাড়িতে উঠতে গেলে তাকে গোলাম আযমের আত্মীয় সন্দেহে তাকে ধাওয়া দেন ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা।মুক্তিযোদ্ধা এস এম খুরশিদ আলম বলেন,“ এই রায় আমরা মেনে নেব না। আমরা গোলাম আযমের ফাঁসির দাবিতে উচ্চ আদালতে আপিল করব। তাকে ফাঁসিতে না ঝুলিয়ে ঘরে ফিরব না।